শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
বিশ্বমানের একটি জামিয়ার গল্প যুক্তরাষ্ট্রে জুমার বয়ান ও ইমামতি করলেন পীর সাহেব চরমোনাই শোক জানাতে মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমির বাসভবনে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঢাকার আবহাওয়া আজ কেমন থাকবে, জানাল অধিদপ্তর খেলাফত শ্রমিক মজলিসের ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ শাখা পুনর্গঠন, নেতৃত্বে যারা ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের ৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ গঠন শহীদ নাসরুল্লাহ বদরের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান খেলাফত মজলিস আমিরের ডেঙ্গুর টিকা আনতে উদ্যোগ নেবে ডিএসসিসি মুফতি নাসরুল্লাহ বদরের পরিবারের পাশে এনসিপি ইসলামি শ্রমনীতি ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে: গাজী আতাউর রহমান

৫৬ বছরের ইমামকে ওমরাহয় পাঠালেন গ্রামবাসী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

একই মসজিদে টানা ৫৬ বছর ইমামতি। এই দীর্ঘ সময়ে শুধু নামাজের ইমামই নন, গ্রামের শিশুদের কোরআনের শিক্ষক, ধর্মীয় পরামর্শদাতা এবং সামাজিক সম্প্রীতির অন্যতম অভিভাবক হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন হাফেজ আব্দুল কদ্দুস। তার এই দীর্ঘ ও নিষ্ঠাপূর্ণ খেদমতের স্বীকৃতি হিসেবে এলাকাবাসী সম্মিলিত উদ্যোগে তাকে পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দারিয়াকান্দা গ্রামের মজিদ মণ্ডল বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ আব্দুল কদ্দুস ১৯৭১ সাল থেকে একই মসজিদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অর্ধশতকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এলাকার মানুষের ধর্মীয় ও নৈতিক পথপ্রদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) গ্রামের বাসিন্দা, আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের উদ্যোগে তাকে সৌদি আরবের উদ্দেশে বিদায় জানানো হয়। বিদায় অনুষ্ঠানে মসজিদ প্রাঙ্গণে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত মুসল্লিরা তার সুস্থতা, নিরাপদ সফর এবং ওমরাহ কবুল হওয়ার জন্য দোয়া করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা এ কে এম ফজলুল হক বলেন, তরুণ বয়সে ইমামতির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে হাফেজ আব্দুল কদ্দুস সততা, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি শুধু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরিচালনা করেননি; বরং গ্রামের শিশু-কিশোরদের কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন, ইসলামী মূল্যবোধ গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয়ে মানুষকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দায়িত্ব পালনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক। অসুস্থতা কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও যথাসম্ভব মসজিদে উপস্থিত থেকে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিনয়, ধর্মীয় প্রজ্ঞা ও মানবিক আচরণ তাকে গ্রামের মানুষের কাছে আস্থাভাজন ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

ইমামকে ওমরাহ পালনের সুযোগ করে দেওয়ার অন্যতম উদ্যোক্তা ফরিদ আহমেদ লালু ও আশরাফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের নিঃস্বার্থ খেদমতের প্রতি সম্মান জানাতেই এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে এই উদ্যোগ নিয়েছে। এটি মূলত গ্রামের মানুষের পক্ষ থেকে তার প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ।

বিদায়ের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হাফেজ আব্দুল কদ্দুস এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে এই মসজিদে ইমামতি করছি। কখনো ভাবিনি আপনারা আমাকে এভাবে সম্মানিত করবেন। আল্লাহ আপনাদের সবাইকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। পবিত্র ভূমিতে গিয়ে দেশ, জাতি এবং আপনাদের সবার জন্য দোয়া করব।

এসএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ