সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ ।। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২২ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
৬ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে শঙ্কা সন্ত্রাসের পক্ষে কাজ করা সাংবাদিকেরা আইনের ঊর্ধ্বে নয়: সংসদে তথ্য প্রতিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী আচরণের কারণে শান্তি আলোচনা এগোচ্ছে না: ইরান ৩০টি নোটিশ দিয়েছি, কোনটার ওপর বলব জানি না: সংসদে আমির হামজা বিদ্যুৎ ও তেল-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নয়, দুর্নীতি বন্ধ করুন: বিকেএম মমতার কেন এই বিপর্যয়, বিজেপির কেন এই উত্থান? এবার ২ লাখ ফলদ চারা রোপণ করবে আসসুন্নাহ ফাউন্ডেশন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ চায় নেজামে ইসলাম পার্টি পলাশবাড়ীর ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে জনমনের উদ্বেগ দূর করুন: হেফাজত নতুন চেয়ারম্যান পেল মাদরাসা বোর্ড

পলাশবাড়ীর ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে জনমনের উদ্বেগ দূর করুন: হেফাজত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এলাকায় বৃহৎ আকারের ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের বিষয়টি স্বচ্ছভাবে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।

রোববার (৭ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পলাশবাড়ী এলাকায় বৃহৎ আকারের হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং এসব কর্মসূচিতে বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের ধারাবাহিক অংশগ্রহণ জনমনে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র। এ দেশের প্রতিটি নাগরিক সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার অনুযায়ী নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন—এটি জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। হেফাজতে ইসলাম সকল ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, পলাশবাড়ীর মতো ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বৃহৎ আকারের ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ, প্রকল্পগুলোর অর্থায়নের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের ঘনঘন সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জনমনে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য উত্তর নিশ্চিত করাও জরুরি।

নেতৃদ্বয় আরও বলেন, কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা তার প্রতিনিধিদের সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড যদি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রভাব বিস্তার, সামাজিক ভারসাম্য বিনষ্ট কিংবা ভবিষ্যতে কোনো ধরনের কৌশলগত জটিলতার আশঙ্কা সৃষ্টি করে, তবে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের উদাসীনতার সুযোগ নেই।

সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, বিষয়গুলো নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে জনগণের উদ্বেগ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না, যাতে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ক্ষুণ্ন হয়।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অক্ষুণ্ন রেখে সকল কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং দেশের সার্বভৌম স্বার্থের প্রতি অটল অঙ্গীকারের মাধ্যমেই জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতা আরও সুসংহত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ