সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে এই সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (১৯ মে) এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ।
আদেশে বলা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-৩ এর গত ১৯.০৫.২০২৬ তারিখের ১০.০০.০০০০.১২৭.১৯.০০১.২৫.৩৮৭ নম্বর স্মারকুমূলে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের নিম্নবর্ণিত সদস্যগণ-কে পরবর্তী উপযুক্ত পদে পদায়নের নিমিত্ত আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের উদ্দেশ্যে অধ্যাদেশ জারি করলেও, সেটি পরবর্তীতে আইন হিসেবে কার্যকর করেনি বিএনপি সরকার।
১৯৭২ সালের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির ২২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে।
সংবিধানে এ নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও পরবর্তী দুই দশকেও বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এদিকে ১৯৯৪ সালে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বেতন কাঠামো নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। সেই প্রেক্ষাপটে বিচারপতি মাসদার হোসেনসহ ৪৪১ জন বিচারকের পক্ষে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়।
রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ১৯৯৭ সালে হাইকোর্ট জুডিসিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস হিসেবে গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে
পরবর্তীতে আপিলের শুনানি শেষে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।
জেডএম/
