হজ মৌসুম ২০২৬ সামনে রেখে মিনার জামারাত স্থাপনায় ব্যাপক রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়ন ও প্রস্তুতিমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কিদানা ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি। হাজিদের নিরাপদ চলাচল, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সেবার মান আরও উন্নত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মক্কা নগরী ও পবিত্র স্থানসমূহের রয়্যাল কমিশনের নির্বাহী সংস্থা হিসেবে কিদানা ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি পবিত্র স্থানগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অপারেশনাল প্রস্তুতি জোরদার করেছে। বিশেষ করে জামারাত কমপ্লেক্সকে কেন্দ্র করে নিরাপদ ভিড় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রকৌশলগত ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
জামারাত স্থাপনাকে হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে ‘রামি’ বা শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের সময় বিপুলসংখ্যক হাজির সমাগম ঘটে। এ বিশাল জনসমাগম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বহুতল বিশিষ্ট কাঠামো, টানেল ও উন্নত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়।
কিদানার তথ্য অনুযায়ী, জামারাত কমপ্লেক্সে রয়েছে ১১টি এসকেলেটর ভবন, ১০টি পথচারী টানেল এবং বহুস্তর বিশিষ্ট চলাচল ব্যবস্থা, যা হাজিদের চাপ কমিয়ে নিরাপদে চলাচলে সহায়তা করে। পুরো ব্যবস্থাকে সমর্থন দিচ্ছে আধুনিক অপারেশনাল ও টেকনিক্যাল সিস্টেম, যার মাধ্যমে ভিড় পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, সমন্বিত পরিচালনা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এখানে ৩৪০টি এসকেলেটর এবং ৬৮২টি ডিজিটাল সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ক্যামেরা ভিড়ের ঘনত্ব পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি হাজি ও কর্মীদের চলাচল সহজ করতে ২২৮টি গলফ কার্ট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়েছে উন্নত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। এতে রয়েছে ২৯৫টি ফায়ার হোস ক্যাবিনেট, ১,০৭৮টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং ৩,৩৫০টিরও বেশি স্বয়ংক্রিয় স্প্রিংকলার, যা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম।
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও আলোকসজ্জার জন্য স্থাপনাটিতে ৪৫৬টি এয়ার কন্ডিশনিং ইউনিট এবং ৭৪,০০০-এর বেশি লাইটিং ইউনিট পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে করিডোর, সেতু ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত দৃশ্যমানতা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত হবে।
এছাড়া পুরো এলাকায় সেতু, র্যাম্প, টানেল, বেইসমেন্ট ও পার্কিং এলাকাজুড়ে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলছে। নির্দেশনার জন্য ১,২১৬টির বেশি সাইনবোর্ড স্থাপন, ৫২০টির বেশি ছাউনি ও ধাতব কাঠামো সংস্কার এবং চতুর্থ স্তরের চারটি প্রধান তাঁবুর মেরামত সম্পন্ন করা হয়েছে।
ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও চলাচল সুশৃঙ্খল রাখতে ২৮,০০০-এর বেশি প্লাস্টিক ব্যারিয়ার স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যার পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন ও কালভার্ট পরিষ্কার ও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, এসব সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হজ ২০২৬ মৌসুমে জামারাত এলাকায় হাজিদের জন্য আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন ‘তাফউইজ’ (দলভিত্তিক চলাচল) নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সূত্র: আরব নিউজ
জেডএম/
