ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে সরকারি ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধের বিতর্কিত আদেশ প্রত্যাহার করেছে রাজ্য সরকার।
বুধবার (১৩ মে) কর্ণাটক সরকার ২০২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারির সেই নির্দেশনা বাতিল করে নতুন নীতিমালা জারি করেছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে সীমিত পরিসরে ধর্মীয় ও ঐতিহ্যগত পরিচয়বাহী প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে। এর মধ্যে হিজাব, মাথার পাগড়ি, পবিত্র সুতা (জনিভারা), রুদ্রাক্ষ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চার বছর আগে তৎকালীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধ করে আদেশ জারি করলে কর্ণাটকজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়। বিষয়টি পরে আদালত পর্যন্ত গড়ায়। কর্ণাটক হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞার পক্ষে রায় দিলেও ভারতের সুপ্রিম কোর্টে দ্বিমতপূর্ণ রায় আসে এবং বিষয়টি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানো হয়।
রাজ্যের স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিষয়ক মন্ত্রী মধু বঙ্গারাপ্পা নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া -এর নির্দেশনা এবং বিভিন্ন মহলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। তবে কোনো শিক্ষার্থী যেন তার ধর্মীয় পরিচয় পালনের কারণে বৈষম্যের শিকার না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী সাম্প্রতিক কর্ণাটক কমন এন্ট্রান্স টেস্ট (সিইটি)-এর একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। গত ২৩ এপ্রিল পরীক্ষাকেন্দ্রে তিন শিক্ষার্থীকে তাদের পবিত্র সুতা খুলে ফেলতে বলা হয়েছিল, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি স্কুল, অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি স্কুল এবং প্রি-ইউনিভার্সিটি কলেজগুলোতে ইউনিফর্ম নীতি বহাল থাকবে। তবে ধর্মীয় প্রতীকগুলো ইউনিফর্মের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু তা ইউনিফর্মের বিকল্প বা পরিবর্তন হতে পারবে না। একই সঙ্গে এসব প্রতীক শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা কিংবা শিক্ষার্থীদের পরিচয় শনাক্তকরণে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না।
নির্দেশনায় আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে ভর্তি, পরীক্ষা বা একাডেমিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। আবার কাউকে জোর করে ধর্মীয় পোশাক পরতেও বাধ্য করা যাবে না।
সূত্র: মুসলিম মিরর
জেডএম/
