শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮


অ্যান কারসন: সমকালীন সাহিত্যের এক অনন্য কণ্ঠ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

অ্যান কারসন একজন কবি, প্রাবন্ধিক, ক্লাসিক্যাল স্টাডিজের অধ্যাপক এবং অনুবাদক। সমকালীন কবিতার জগতের খবর রাখেন—এমন মানুষের পরিসর খুব বড় না হলেও সেখানে কারসন নিজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমস বুক রিভিউ-এর লেখক ড্যাফনি মারকিনের ভাষায়, তিনি একই সঙ্গে অনেকের ঈর্ষা ও প্রশংসার কারণ হয়েছেন।

কারসনের লেখালেখির ক্যারিয়ারকে সহজ কোনো একটি সাহিত্যিক পরিচয়ের মধ্যে আটকে রাখা যায় না। তাঁর রচনাগুলো সমালোচকদের প্রশংসা অর্জনের পাশাপাশি ব্যাপক পাঠকও তৈরি করেছে। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যিক স্যাফো ও ইউরিপিদিসের রচনার অনুবাদসহ তিনি প্রকাশ করেছেন কবিতা, প্রবন্ধ, অপেরার জন্য লেখা লিব্রেত্তি, গদ্যসমালোচনা এবং পদ্যধর্মী উপন্যাস। তাঁর লেখায় প্রায়ই একাধিক সাহিত্যধারা একে অন্যের সঙ্গে মিশে যায়।

গভীর পাণ্ডিত্য ও বহুমাত্রিক সাহিত্যচর্চার জন্য কারসন বিশেষভাবে পরিচিত। মারকিন তাঁকে সমকালীন সাহিত্যের অন্যতম সেরা ‘পাস্তিশ’ রচয়িতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর কবিতায় শুধু পাণ্ডিত্য নয়, গভীর আবেগও রয়েছে। প্রেম, আকাঙ্ক্ষা, যৌন আকুলতা, বিচ্ছেদ ও হতাশা তাঁর লেখার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বিষয় কিংবা সাহিত্যধারা—যেটিই হোক, কারসনের লেখায় সব সময়ই উচ্চাকাঙ্ক্ষী সৃজনশীলতার ছাপ দেখা যায়। তাঁর The Beauty of the Husband বইটি সম্পর্কে মারকিন মন্তব্য করেছিলেন, রবার্ট লওয়েলের Life Studies-এর পর কবিতার শিল্পকে এতটা মৌলিকভাবে এগিয়ে নেওয়া আর কোনো বই তিনি দেখেননি।

কারসনের উল্লেখযোগ্য সাম্প্রতিক বইগুলোর মধ্যে রয়েছে Nox (২০১০), Red Doc (২০১৩) এবং Float (২০১৬)। তাঁর পুরস্কার ও সম্মানের তালিকাও দীর্ঘ। তিনি গুগেনহাইম ফাউন্ডেশন, ম্যাকআর্থার ফাউন্ডেশন ও আমেরিকান একাডেমি ইন বার্লিনের ফেলোশিপ পেয়েছেন। এ ছাড়া তিনি ল্যানান লিটারারি অ্যাওয়ার্ড, পুশকার্ট প্রাইজ ও গ্রিফিন পোয়েট্রি প্রাইজও অর্জন করেছেন।

শৈশব থেকেই প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের প্রতি আকর্ষণ

অ্যান কারসন ১৯৫০ সালে কানাডার অন্টারিওর টরন্টো শহরে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুলজীবনে ল্যাটিনের এক শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় তাঁর সাহিত্যজীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। সেই শিক্ষক দুপুরের খাবারের বিরতিতে তাঁকে প্রাচীন গ্রিক ভাষা শেখাতে রাজি হন। এর মধ্য দিয়েই প্রাচীন গ্রিক ও হেলেনীয় সাহিত্যের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ তৈরি হয়—যার প্রভাব পরবর্তী সময়ে তাঁর প্রায় সব লেখাতেই দেখা যায়।

তিনি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। তবে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের আগে দুবার পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ক্লাসিক্যাল স্টাডিজে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। এর মধ্যে রয়েছে ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান।

১৯৮৬ সালে Eros the Bittersweet: An Essay প্রকাশের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রকাশনা-জীবনের সূচনা হয়। বইটিতেই প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের কাঠামো ও ভাবনাকে নিজের লেখার সঙ্গে মেলানোর যে স্বতন্ত্র পদ্ধতি, তার স্পষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে Glass, Irony, and God (১৯৯২), Plainwater: Essays and Poetry (১৯৯৫) এবং Men in the Off Hours (২০০১) তাঁকে সমকালীন কবিতার জগতে এক স্বতন্ত্র লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

তবে তাঁর বিশেষ সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্যের সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ সম্ভবত দুটি পদ্য-উপন্যাস—Autobiography of Red: A Novel in Verse (১৯৯৮) এবং The Beauty of the Husband: A Fictional Essay in 29 Tangos (২০০১)।

‘Autobiography of Red’: পুরাণের গল্পে আধুনিক প্রেম

১৯৯৮ সালে প্রকাশিত Autobiography of Red গ্রিক পুরাণের হারকিউলিস বা হেরাক্লেসের কাহিনি থেকে অনুপ্রাণিত। পুরাণের সেই কাহিনিতে হেরাক্লেসের দশম শ্রম ছিল লাল ডানাওয়ালা দানব গেরিয়নকে হত্যা করা।

কারসন এই পুরাণকাহিনিকে আধুনিক সময়ের প্রেক্ষাপটে নতুনভাবে নির্মাণ করেন। সাহিত্য সমালোচক অ্যাডাম কির্শের ব্যাখ্যায়, মূল কাহিনিতে হেরাক্লেস গেরিয়নকে হত্যা করে তার লাল গবাদিপশু নিয়ে যায়। কিন্তু কারসনের কাহিনিতে হেরাক্লেস গেরিয়নের হৃদয় ভেঙে দেয় এবং তার নিষ্পাপতাকে কেড়ে নেয়।

এখানে গেরিয়ন ও হেরাক্লেসকে কিশোর বয়সে দেখানো হয়েছে। লাল শরীর ও ডানাওয়ালা গেরিয়ন একজন সংবেদনশীল ও কিছুটা নিভৃতচারী স্কুলছাত্র। অন্যদিকে হেরাক্লেস আকর্ষণীয়, বিদ্রোহী ও দুরন্ত স্বভাবের তরুণ। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু একপর্যায়ে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়, কারণ গেরিয়নের গভীর ভালোবাসার সমান আবেগ হেরাক্লেসের মধ্যে ছিল না।

বহু বছর পর বুয়েনস এইরেসে তাদের আবার দেখা হয়। সেখানে গেরিয়ন হেরাক্লেস ও তার নতুন প্রেমিক আনকাশের সঙ্গে একটি জটিল ত্রিকোণ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।

বইটি প্রকাশের পর সাহিত্যিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। কেউ একে ইচ্ছাকৃতভাবে অদ্ভুত ও কল্পনাপ্রবণ বলেছেন, আবার কেউ কারসনকে ‘হৃদয়ভাঙার দার্শনিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বইটিতে আকাঙ্ক্ষা, প্রাচীন গ্রিক কবি স্টেসিকোরাস, আগ্নেয়গিরি এবং দেখা ও অন্ধত্বের মতো বিষয় একসঙ্গে এসেছে।

তবে বইটির সাহিত্যিক ধরন নিয়েও বিতর্ক ছিল। এটি ‘পদ্য-উপন্যাস’ হিসেবে প্রকাশিত হলেও সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করেছেন, কারসনের লেখা মূলত গদ্যধর্মী; শুধু দীর্ঘ ও ছোট লাইনে সাজিয়ে তাকে পদ্যের আকার দেওয়া হয়েছে।

ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

Autobiography of Red প্রকাশের শুরুতে খুব বেশি আলোড়ন তুলতে পারেনি। পরে বইটি কুইবেকের QSPELL Poetry Award পাওয়ার পর আলোচনা বাড়তে থাকে। এরপর এটি ন্যাশনাল বুক ক্রিটিকস সার্কেল অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন পায়। এর মাধ্যমে কানাডায় জন্ম নেওয়া কারসন ওই পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পাওয়া প্রথম দিকের দুই অ-আমেরিকান লেখকের একজন হয়ে ওঠেন।

এর আগে প্রকাশিত Eros the Bittersweet বইটিও একইভাবে ধীরে ধীরে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিল। শুরুতে গ্রিক সাহিত্য ও ধ্রুপদি ভাষা নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজ হিসেবে বইটি ক্লাসিক্যাল স্টাডিজের মহলে আলোচিত হয়। পরে প্রবন্ধসাহিত্যে এটি নতুন ধরনের রচনা হিসেবে পরিচিতি পায় এবং শেষ পর্যন্ত কবিতার জগতেও ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

সমালোচক জন ডি'আগাতার মতে, কারসনের কবিতার মধ্যেও একজন প্রাবন্ধিকের উপস্থিতি স্পষ্ট। তাঁর লেখায় ধ্রুপদি ভাষা ও সাহিত্যের গভীর প্রভাব রয়েছে। তাঁর কবিতা কতটা গদ্যধর্মী, যুক্তিনির্ভর বা প্রবন্ধের মতো হতে পারে—এমন প্রশ্নও তাঁর কাজ পাঠককে ভাবতে বাধ্য করে।

প্রেম, সময় ও মৃত্যুর কবিতা

Men in the Off Hours বইটিতে কারসন ছোট ছোট কবিতার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সাহিত্যিক রীতি ব্যবহার করেছেন। এখানে রয়েছে সমাধিলিপি, প্রেমের কবিতা, পদ্যধর্মী প্রবন্ধ, স্মরণধর্মী গদ্য, কাল্পনিক টেলিভিশন নাটকের শুটিং স্ক্রিপ্ট এবং চিত্রকর্মকে উদ্দেশ করে লেখা কবিতা।

বইটি ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। সমালোচক কেট মোজেসের মতে, এটি মূলত সময় নিয়ে এক ধরনের ধ্যান। জীবনের সঙ্গে যৌনতা, প্রেম ও মৃত্যুর যে সম্পর্ক—সেটিও বইটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বইটি গ্রিফিন পোয়েট্রি প্রাইজ অর্জন করে এবং গভর্নর জেনারেলস লিটারারি অ্যাওয়ার্ড ও ন্যাশনাল বুক ক্রিটিকস সার্কেল অ্যাওয়ার্ডের চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পায়।

২০০১ সালে কারসন প্রকাশ করেন The Beauty of the Husband: A Fictional Essay in 29 Tangos। বিবাহবিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে কামনা, আকাঙ্ক্ষা ও হৃদয়ের বিচ্ছিন্নতার গল্পই বইটির মূল বিষয়। বইটি ব্যাপক প্রশংসা পায় এবং টি. এস. এলিয়ট পুরস্কার অর্জন করে। একই সময়ে কারসন ম্যাকআর্থার ফাউন্ডেশনের ‘জিনিয়াস’ গ্র্যান্টও পান।

‘Decreation’: সাহিত্য, দর্শন ও আত্মবিলয়ের ভাবনা

২০০১ সালের পর কারসন প্রকাশ করেন Decreation (২০০৫)—যেখানে কবিতা, প্রবন্ধ ও অপেরার উপাদান একসঙ্গে মিশেছে। বইটিতে রয়েছে ছোট ছোট গীতিকবিতা, চিত্রনাট্য, অরেটোরিও এবং দীর্ঘ গদ্যাংশ। এসব গদ্যাংশে সাহিত্যসমালোচনার সঙ্গে দার্শনিক অনুসন্ধানেরও সমন্বয় ঘটেছে।

বইটির নাম ও মূল ভাবনা এসেছে দার্শনিক সিমোন ভেইলের একটি ধারণা থেকে। ভেইলের ‘Decreation’ ধারণাকে কারসন ব্যাখ্যা করেছেন নিজের ভেতরের সেই সত্তাকে বিলীন করে দেওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে, যে সত্তা নিজেকে কেন্দ্র করে আবদ্ধ থাকে।

সমালোচকদের মতে, আত্মসত্তার এই বিলোপের মধ্য দিয়ে মানুষ এক ধরনের আধ্যাত্মিক পূর্ণতার সন্ধান করতে পারে। Decreation সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে এবং কারসনের সমকালীন সাহিত্যের অন্যতম স্বতন্ত্র বুদ্ধিবৃত্তিক কণ্ঠ হিসেবে অবস্থান আরও শক্ত করে।

প্রাচীন সাহিত্য অনুবাদেও স্বতন্ত্র কারসন

অ্যান কারসন প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য অনুবাদের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর Grief Lessons: Four Plays by Euripides (২০০৬) এবং An Oresteia (২০০৯) বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

Grief Lessons-এ ইউরিপিদিসের চারটি তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত ট্র্যাজেডির অনুবাদ রয়েছে। এতে অন্ধ আদর্শবাদ ও মতাদর্শের প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্যের বিপদ তুলে ধরা হয়েছে।

২০০৯ সালে প্রকাশিত An Oresteia আরও উচ্চাভিলাষী কাজ। এতে একই কাহিনির সঙ্গে সম্পর্কিত তিন গ্রিক নাট্যকারের রচনা একত্র করা হয়েছে—এসকাইলাসের Agamemnon, সফোক্লিসের Electra এবং ইউরিপিদিসের Orestes।

তবে অনুবাদে কারসনের স্বাধীনতা ও আধুনিক ভাষার ব্যবহার নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। কারও মতে, তাঁর ভাষা কখনো এতটাই আধুনিক হয়ে গেছে যে প্রাচীন ট্র্যাজেডির ঐতিহাসিক আবহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার অন্য সমালোচকদের মতে, এই আধুনিকীকরণই প্রাচীন গ্রিক নাটককে সমকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত করেছে।

‘আমি নিজেকে কখনো লেখক ভাবিনি’

কবি-সমালোচক স্টেফানি বার্টের সঙ্গে এক আলাপে কারসন জানিয়েছিলেন, নিজেকে তিনি মূলত শব্দের নয়, বরং দৃশ্যের শিল্পী মনে করেন। ছোটবেলায় লেখার চেয়ে ছবি আঁকার প্রতিই তাঁর বেশি আগ্রহ ছিল। তিনি ছবি আঁকতেন এবং কখনো কখনো ছবির ওপর কিছু লিখতেন।

এমনকি খ্যাতিমান লেখক হয়ে ওঠার পরও নিজেকে পুরোপুরি ‘লেখক’ হিসেবে ভাবেন কি না—এ বিষয়ে তাঁর মধ্যে সংশয় ছিল। তাঁর ভাষায়, তিনি শুধু কিছু একটা সৃষ্টি করতে চান। বই সেই সৃষ্টিকে প্রকাশের একটি প্রচলিত মাধ্যম হলেও কোনো বইই তাঁর ভাবনাকে পুরোপুরি ধারণ করতে পারে না।

সামগ্রিকভাবে অ্যান কারসনের সাহিত্যকে বলা যায়—প্রাচীন গ্রিক পুরাণ, দর্শন, প্রেম, আকাঙ্ক্ষা, বিচ্ছেদ ও আধুনিক জীবনের এক অভিনব সংমিশ্রণ। কবিতা, প্রবন্ধ, গদ্য, অনুবাদ ও নাট্যরীতির সীমানা ভেঙে নিজের জন্য তিনি যে স্বতন্ত্র সাহিত্যভাষা তৈরি করেছেন, সেটিই তাঁকে সমকালীন সাহিত্যে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ