নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৬-২৭ অর্থবছরের ‘জাতীয় শিশু-কিশোর ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০২৭’-এর বিভিন্ন ইভেন্টের নির্ধারিত বিষয়াবলি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় কিরাত, কবিতা আবৃত্তি, রচনা ও উপস্থিত বক্তৃতা, আযান, হামদ-না’ত এবং ইসলামী জ্ঞান—এ ছয়টি বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগের পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি স্মারক প্রকাশ করা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোহাঃ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত স্মারকে প্রতিযোগিতার ইভেন্টভিত্তিক বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
কিরাত প্রতিযোগিতায় ‘ক’ গ্রুপের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সূরা ফাতিরুন, সূরা নাহল ও সূরা কুরাইশ এবং ‘খ’ গ্রুপের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সূরা তীন, সূরা আদ-দুহা ও সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত নির্ধারণ করা হয়েছে।
‘ক’ গ্রুপে আযান—কায়কোবাদ, প্রার্থনা—গোলাম মোস্তফা এবং নোলক—আল মাহমুদের কবিতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
‘খ’ গ্রুপে কাজী নজরুল ইসলামের ‘খেয়াপারের তরণী’ ও ‘কাণ্ডারী হুশিয়ার’ এবং ফররুখ আহমদের ‘পাঞ্জাবী’ কবিতা নির্ধারিত হয়েছে।
রচনা প্রতিযোগিতায় ‘ক’ গ্রুপের জন্য আল্লাহর পরিচয়, ঈমান ও ইসলাম, হজরত মুহাম্মদ (সা.), খোলাফায়ে রাশেদীন, হজরত আয়েশা (রা.), হজরত ফাতেমা (রা.), বিদায় হজের ভাষণ, হিলফুল ফুজুল, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, মাতা-পিতার প্রতি কর্তব্য, ইসলামে পরনিন্দা ও পরচর্চার ভয়াবহতা, চরিত্র গঠনে তাকওয়ার ভূমিকা, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদসহ বিভিন্ন বিষয় রাখা হয়েছে।
‘খ’ গ্রুপের রচনা ও উপস্থিত বক্তৃতার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—হজরত মুহাম্মদ (সা.), খোলাফায়ে রাশেদীন, উম্মাহাতুল মুমিনীন, বিদায় হজের ভাষণ, হুদায়বিয়ার সন্ধি, মদিনা সনদ, তাওহিদ ও রিসালাত, রাসুল (সা.)-এর মক্কি ও মাদানি জীবন, কোরআনের আয়নায় বিশ্বনবী (সা.), শিশুদের প্রতি রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসা, ইসলামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবাধিকার, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে নৈতিক অবক্ষয়, ইসলামে নারীর মর্যাদা, আদব ও শিষ্টাচার, পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষরোপণে ইসলামের নির্দেশনা, জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান, আজাদি আন্দোলনে আলেম-ওলামার অবদান, জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম এবং উত্তম রিজিক ও হালাল উপার্জনের বরকত।
আযান প্রতিযোগিতায় ‘ক’ ও ‘খ’ গ্রুপের ছাত্রদের জন্য বিষয় উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। একইভাবে ‘ক’ ও ‘খ’ গ্রুপের ছাত্র-ছাত্রীদের হামদ-না’ত প্রতিযোগিতার বিষয়ও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
ইসলামী জ্ঞান প্রতিযোগিতায় ‘ক’ ও ‘খ’ গ্রুপের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিস্তৃত পরিসরে বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—আল্লাহর পরিচয়, ঈমান ও ইসলাম, পবিত্র কোরআন, পবিত্র হাদিস ও সুন্নাহ, ইসলামের মৌলিক বিধি-বিধান, হালাল-হারাম, সীরাতুন্নবী (সা.), উম্মাহাতুল মুমিনীন, সাহাবায়ে কেরাম ও খোলাফায়ে রাশেদীন, সারিয়্যাহ ও গাজওয়াহ, নবী ও রাসুলগণ, ইসলামী ইতিহাস ও ঐতিহ্য, সমকালীন মুসলিম বিশ্ব, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ভারতবর্ষে মুসলমানদের আগমন, মুসলমানদের বাংলা বিজয়, মোগল ও সুলতানি আমল, বিশ্বখ্যাত মসজিদ, জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান, আজাদি আন্দোলন, পলাশীর যুদ্ধ, জাতিসংঘ, ওআইসি, হারামাইন শরিফাইন, দৈনন্দিন সুন্নাত, মাসনুন দোয়া ও জিকির এবং আমপারা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে। শিশু-কিশোরদের ইসলামী জ্ঞান, সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও সৃজনশীল চর্চায় উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
এসএইচ/