|| আকিদুল ইসলাম সাদী ||
গণিতের জগতে π (পাই) একটি সুপরিচিত ধ্রুবক। বৃত্তের পরিধিকে ব্যাস দিয়ে ভাগ করলে যে অনুপাত পাওয়া যায়, সেটিই পাই। এর আনুমানিক মান ৩.১৪, আর প্রচলিত ভগ্নাংশ রূপ ২২/৭।
আশ্চর্যের বিষয়, কুরআনের ২২তম সূরা হলো সুরা হজ। আর হজের অন্যতম প্রধান ইবাদত হলো তাওয়াফ— যেখানে মুসল্লিরা কাবাকে কেন্দ্র করে বৃত্তাকারে ৭ বার প্রদক্ষিণ করেন। এখানে তিনটি বিষয় একত্রে দেখা যায়—
২২ (সুরা হজের ক্রম)
৭ (তাওয়াফের সংখ্যা)
বৃত্ত (তাওয়াফের আকৃতি)
যা অনেকের কাছে ২২/৭= ৩.১৪ তথা পাই-এর মানের একটি চিন্তাজাগানিয়া ইঙ্গিত বলে মনে হয়।
আরও লক্ষণীয় যে, সুরা হজের ২৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَ اِذۡ بَوَّاۡنَا لِاِبۡرٰہِیۡمَ مَکَانَ الۡبَیۡتِ ... وَ طَہِّرۡ بَیۡتِیَ لِلطَّآئِفِیۡنَ وَ الۡقَآئِمِیۡنَ وَ الرُّکَّعِ السُّجُوۡدِ ﴿۲۶﴾
এ আয়াতে لِلطَّائِفِينَ (তাওয়াফকারীদের জন্য) শব্দটি এসেছে। সংখ্যাগত কিছু গবেষক এই শব্দের হরফ বিন্যাসের মধ্যেও ২২ ও ৭-এর বিশেষ সম্পর্ক খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছেন। তাঁরা উল্লেখ করেছেন, ” لِلطَّائِفِينَ” শব্দের প্রথম থেকে অক্ষর গণনা করলে (ل طَّ ا ئِ فِ ي نَ) ৭ সংখ্যাটি পাওয়া যায়। আবার আয়াতের শেষ থেকে অক্ষর গুণে আসলে (نَ وَ ا لۡ قَ آ ئِ مِ یۡ نَ وَ ا ل رُّ کَّ عِ ا ل سُّ جُ وۡ دِ) ২২ সংখ্যাটিও “لِلطَّائِفِينَ” শব্দটির ভেতরেই পাওয়া যায়, যা খুবই বিস্ময়কর!
তবে মনে রাখা প্রয়োজন, এগুলো কুরআনের সরাসরি তাফসির নয়; বরং কুরআনের সংখ্যাগত ও ভাবগত সামঞ্জস্য নিয়ে গবেষকদের কিছু পর্যবেক্ষণ। তা সত্ত্বেও বিষয়টি কুরআনের গভীরতা ও চিন্তার দুয়ার খুলে দেয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন, “তারা কি কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না?”
(সূরা আন-নিসা ৪:৮২)
সংখ্যা, সৃষ্টি ও ইবাদতের মাঝে এমন ভাবনার সংযোগ মুমিন হৃদয়কে বিস্মিত করে এবং মহান আল্লাহর নিখুঁত পরিকল্পনার প্রতি শ্রদ্ধা আরও বৃদ্ধি করে।
লেখক: অনুবাদক ও শিক্ষক
জেডএম/
