বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
মক্কায় মসজিদে অনৈতিক কাজ, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হাটহাজারীতে আলেম ও তাঁর শাশুড়িকে নিয়ে অভিযোগ ভিত্তিহীন: আল-হাইআতুল উলয়া লন্ডনে আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত মুফতি তাকি উসমানি ২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি সিঙ্গাপুরে এমপি হানজালার সঙ্গে বিকেএম নেতাদের সাক্ষাৎ ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি নিউইয়র্কে পীর সাহেব চরমোনাইকে উষ্ণ অভ্যর্থনা এ সপ্তাহে মসজিদুল হারামের খতিব জুহানি, মসজিদে নববীতে হুযাইফি ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় ৫ হাজারের বেশি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত!

বাংলার প্রতিটি ঘরকে জান্নাতের টুকরায় পরিণত করুন: আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম ও চিন্তাবিদ আল্লামা খলীলুর রাহমান সাজ্জাদ নোমানী বলেছেন, বাংলাদেশের প্রকৃতি ও পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর। এই দেশকে ধ্বংস ও নৈতিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে আরও সুন্দর করে গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি ঘরকে জান্নাতের টুকরায় পরিণত করার মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গঠনে নারীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর বাসাবোয় মাওলানা আবদুর রাজ্জাক কাসেমী নদভী পরিচালিত ‘মারকাযুত তালীম ওয়াত তারবিয়াহ লিল বানাত’-এর ক্যাম্পাসে নারীদের উদ্দেশে এক বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনার শুরুতে পবিত্র কুরআনের সুরা আত-তাহরিমের ১১ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করে আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী বলেন, আল্লাহ তাআলা ঈমানদারদের জন্য এমন এক নারীর দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন, যিনি কোনো নবী বা নেককার পুরুষের স্ত্রী ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন ইতিহাসের নিকৃষ্টতম মানুষ ফেরাউনের স্ত্রী (হাজেরা)। এর মাধ্যমে আল্লাহ এটাই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, দুনিয়ার বাহ্যিক পরিবেশ যতই প্রতিকূল হোক না কেন, ঈমান, আমল, তাকওয়া ও পবিত্রতায় পরিপূর্ণ থাকলে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হলে আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতে সর্বোচ্চ মাকাম দান করবেন।

ইসলামের ইতিহাসে নারীর ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দ্বীন ও ঈমানের হিফাজতে শুধু পুরুষরা একা ত্যাগ স্বীকার করেননি, বরং পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন: হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আলোচনা হজরত হাওয়া ও সারার (রা.) আলোচনা ছাড়া অসম্পূর্ণ।  হজরত মুসা (আ.)-এর আলোচনা তাঁর মা ও বোনের অবদান ছাড়া অসম্পূর্ণ। হজরত আইয়ুব (আ.)-এর আলোচনা তাঁর স্ত্রী হজরত রহিমা (রা.) ছাড়া অসম্পূর্ণ।  হজরত ঈসা (আ.)-এর আলোচনা তাঁর মা হজরত মারইয়াম (আ.) ছাড়া অসম্পূর্ণ। হজরত খাদিজা, আয়েশা, ফাতেমা, রুকাইয়া, উম্মে সালামাহ ও খনসা (রা.)-এর আলোচনা ছাড়া ইসলামের ইতিহাস অসম্পূর্ণ। হজরত হালিমা সাদিয়া (রা.)-কে বাদ দিলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাল্যকালের ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যায়।  হজরত সুমাইয়া (রা.)-এর রক্ত ছাড়া শহীদদের ইতিহাস এবং হজরত উম্মে মাবাদ (রা.)-এর ভূমিকা ছাড়া হিজরতের ইতিহাস অসম্পূর্ণ।

নারীদের মর্যাদার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহর নিকট আপনারা অত্যন্ত দামি ও মূল্যবান। আপনাদের হৃদয় কোমল এবং দ্রুত চোখের পানি আসে। এই কোমল হৃদয় নিয়ে চোখের পানি ফেলে ইসলামের জন্য, নিজেদের সফলতার জন্য এবং ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করুন।

পরিবার ও সমাজ সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে প্রখ্যাত এই আলেম বলেন, সন্তানদের আগামীর উপযোগী করে গড়ে তুলতে ঘরের পরিবেশ সুন্দর করতে হবে। স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়াঝাঁটি শিশুর মানসিক বিকাশ ও ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেয়। তাই ঘরে ভালোবাসার পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।

পরিবারের পারস্পরিক সম্পর্ক মধুর করার চমৎকার কিছু উপায় বাতলে দিয়ে তিনি বলেন: পুত্রবধূ তার শাশুড়িকে গিয়ে বলবেন, এত দিন আপনি কষ্ট করেছেন, আজ থেকে আপনার ছুটি। এখন থেকে সব কাজ আমার জিম্মায়, আমাকে আপনার খিদমত করার সুযোগ দিন। আপনি ইবাদত করুন এবং আমার জন্য দোয়া করুন। শাশুড়ি তার বউকে বলবেন, আমার প্রিয় মেয়ে! তুমি এখনো ছোট, আমার ঘরে নতুন মানুষ, তুমি তোমার স্বামীকে সময় দাও। বাকি কাজকর্ম আমি দেখছি। এভাবে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে জান্নাতের মতো শান্তির নীড় বানিয়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি। একই সঙ্গে নারী সমাজকে সম্পূর্ণ পর্দার বিধান মেনে চলার এবং বেপরোয়া ও বেপর্দা চলাফেরা থেকে বিরত থাকার কঠোর নসিহত করেন।

আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশ ভ্রমণের সুযোগ আমার হয়েছে। আপনাদের এই দেশটা খুব সুন্দর এবং এখনো পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়নি। আপনারা এই দেশটিকে সুন্দর করে সাজান, এর হেফাজত করুন।

তিনি আরও বলেন, কুরআন কেবল তেলাওয়াতের জন্য নয়, বরং এটি মানুষের জীবন বিধান। জীবনের প্রতিটি ধাপ সাজানোর জন্য এটি নাজিল হয়েছে। তাই মা-বোনদের ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলায় এখন অনেক সুন্দর দ্বীনি বইপত্র প্রকাশিত হয়েছে। আপনারা সেগুলো পড়ুন; বিশেষ করে ‘মাআরিফুল হাদীস’ ও ‘বেহেশতী জেওর’ অধ্যয়ন করুন এবং তাকওয়ার জীবন অবলম্বন করুন।

আওয়ার ইসলাম/জেডএম


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ