শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ।। ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
শরিয়তে কবরে ফুল দেওয়ার বিধান কী? গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা জেলা শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত শিক্ষা সফরে যাওয়ার পথে বাস পুকুরে পড়ে শিক্ষিকাসহ নিহত ২, আহত ৩০ গাজায় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ২৫০ যুগলের গণবিয়ে জামায়াতের ইসলাম আমাদের ইসলাম নয়: হেফাজত আমির বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ওমরাহযাত্রার আগে বিমানবন্দরে ইহরাম অবস্থায় তুর্কি ইমামের মৃত্যু এইচএসসি সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ফি নিয়ে বোর্ডের জরুরি নির্দেশনা মানুষদের ভ্রান্ত মতবাদ থেকে রক্ষার দায়িত্ব আলেমদের: দেওবন্দের মুহতামিম

গাজায় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ২৫০ যুগলের গণবিয়ে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুদ্ধের ক্ষত এখনো স্পষ্ট চারপাশে। কোথাও বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি, কোথাও বাস্তুচ্যুত মানুষের সারি সারি তাঁবু। অনিশ্চয়তা, অভাব আর দুর্ভোগের মধ্যেই গাজায় তৈরি হলো আনন্দের এক ব্যতিক্রমী উপলক্ষ। যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ পেরিয়ে নতুন সংসার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ২৫০ ফিলিস্তিনি যুগল।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) গাজা উপত্যকায় এই গণবিয়ের আয়োজন করা হয়। শনিবার (৭ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত জনপদে আয়োজিত এ আনন্দঘন অনুষ্ঠানের চিত্র।

বিয়ের আয়োজন ঘিরে সাজানো হয় গাড়ির বহর। ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা, রঙিন ফুল ও লাল ফিতায় সাজানো গাড়ি নিয়ে বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। গাজার ক্ষতবিক্ষত সড়ক পেরিয়ে গাড়ির বহর পৌঁছায় ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী সি ক্লাবে। সেখানে বসে গণবিয়ের মূল আসর।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবিক উদ্যোগ ‘অপারেশন নাইটলি নাইট-৩’-এর অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করে সাকর বিন মোহাম্মদ আল কাসিমি চ্যারিটেবল অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন।

দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও চরম অর্থনৈতিক সংকটে গাজার অসংখ্য তরুণ-তরুণীর বিয়ের স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জীবনযাপনের ন্যূনতম ব্যয় মেটাতেই যেখানে মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে বিয়ের আয়োজন করা অনেকের কাছেই প্রায় অসম্ভব। এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক সংকটে থাকা তরুণ যুগলদের পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তবে উৎসবের আনন্দের মধ্যেও অংশগ্রহণকারীদের অনেকের জীবনে মিশে ছিল যুদ্ধের গভীর ক্ষত। তাঁদেরই একজন বর সাঈদ আল-নাজ্জার। ইসরায়েলি হামলায় তাঁদের পারিবারিক বাড়িটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের ইয়েলো লাইনের কাছাকাছি একটি অস্থায়ী তাঁবুতে দিন কাটছে তাঁর। নিজের বাড়িতে ফেরার সুযোগ নেই, নেই স্থায়ী কোনো আশ্রয়ও।

আয়োজক কমিটির লটারির মাধ্যমে গণবিয়েতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান সাঈদ। তবে জীবনের এই বিশেষ দিনকে তিনি কেবল ব্যক্তিগত আনন্দের উপলক্ষ হিসেবে দেখছেন না। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘এই আনন্দ শুধু একজন বর কিংবা ২৫০ জন বরের নয়, এটি গাজার সব মানুষের আনন্দ।’

সাঈদ বলেন, গাজার হাজারো মানুষের মতো তিনিও নিজের বাড়ি হারিয়েছেন। এখন ফিরে যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই তাঁর।

যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ, ঘরহারা মানুষের দীর্ঘশ্বাস আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যেও ২৫০ যুগলের এই গণবিয়ে গাজাবাসীর জন্য আশার এক উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। চারপাশে ধ্বংসযজ্ঞ, তবু নতুন করে জীবন শুরু করার স্বপ্ন থেমে নেই। ভালোবাসা, বেঁচে থাকা ও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে গাজার এই আয়োজন যেন সেই বার্তাই দিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ