ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের আল-খলিল শহরের বাসিন্দা সাবরী সালিহীন (ছদ্মনাম)। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি নিজের প্রকৃত নাম প্রকাশ করতে চাননি। সম্প্রতি তিনি মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে কুয়ালালামপুরের একটি আন্তর্জাতিক স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।
দীর্ঘদিনের সহকর্মী হিসেবে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলাপ হয়। সম্প্রতি ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংঘাত এবং এ প্রসঙ্গে ইরানের ভূমিকা নিয়ে তাঁর সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতা হয়। এর নির্বাচিত অংশ তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকার গ্রহণ: মিসবাহ উদ্দীন মাদানী
প্রশ্ন: ফিলিস্তিন-ইসরাইল ইস্যুতে ইরানের ভূমিকা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
সাবরী সালিহীন: ইরান ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং তাকে আঘাত করছে। ফিলিস্তিনি হিসেবে আমি এই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিই।
প্রশ্ন: কিন্তু ইরান তো শিয়া রাষ্ট্র?
উত্তর: হতে পারে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সে আমার শত্রুকে দুর্বল করছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে অবরোধ, দখল ও হামলার শিকার। যখন কেউ আমাদের সহযোগিতা করছে না, তখন যে সহযোগিতা করছে, তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে আমরা তার কার্যকর ভূমিকার দিকেই তাকাই।
প্রশ্ন: কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের নিজস্ব ভূরাজনৈতিক স্বার্থ ও কৌশল তো রয়েছে?
উত্তর: অবশ্যই রয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সবাই কোনো না কোনো স্বার্থ নিয়ে কাজ করে। তবে ফিলিস্তিনিদের বর্তমান বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কে আমাদের ওপর চলমান আগ্রাসনকে দুর্বল করতে ভূমিকা রাখছে। আমাদের অবস্থান সেই বাস্তবতার আলোকে গড়ে ওঠে।
প্রশ্ন: সমালোচকেরা বলেন, ইরান সিরিয়া ও ইরাকে সুন্নি মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় জড়িত ছিল।
উত্তর: এ ধরনের অভিযোগ ও ঘটনাগুলো ইতিহাসের অংশ এবং সেগুলোর মূল্যায়ন অবশ্যই হওয়া উচিত। আমি মনে করি, প্রতিটি ঘটনার বিচার আলাদাভাবে করা দরকার। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রাশিয়াও অতীতে চেচনিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু যদি কোনো শক্তি আজ আমার ওপর আক্রমণকারীকে দুর্বল করতে ভূমিকা রাখে, তাহলে সেই নির্দিষ্ট ঘটনাকে তার নিজস্ব প্রেক্ষাপটে দেখা স্বাভাবিক।
প্রশ্ন: আরব দেশগুলোর সহযোগিতা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
উত্তর: আরব দেশগুলো মানবিক সহায়তা দেয়, পুনর্গঠন করে, স্কুল-হাসপাতাল নির্মাণে সাহায্য করে, খাদ্য ও ত্রাণ পাঠায়। এগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো ধ্বংসযজ্ঞ ঠেকানো। শত শত মানুষ নিহত হওয়ার পর কেবল পুনর্গঠন আমাদের বেদনা পুরোপুরি লাঘব করতে পারে না। আমরা চাই এমন সহযোগিতা, যা আগেই আমাদের জীবন ও ঘরবাড়ি রক্ষা করতে সাহায্য করবে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের প্রতি গভীর আবেগ ও সমর্থন প্রকাশ করে আসছে। এ বিষয়ে আপনার অনুভূতি কী?
উত্তর: মুসলমানরা একে অপরের ভাই। হাদিসে উম্মাহকে এক দেহের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে—দেহের এক অংশ ব্যথিত হলে অন্য অংশও তা অনুভব করে। ফিলিস্তিন, আরাকান কিংবা পৃথিবীর যেখানেই মুসলমান নিপীড়নের শিকার হোক, একজন ঈমানদার স্বাভাবিকভাবেই সে কষ্ট অনুভব করবে। আমরা বাংলাদেশের মুসলমানদের এই ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ।
আলাপের শেষে তিনি ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের সব নিপীড়িত মানুষের জন্য দোয়া কামনা করেন এবং বাংলাদেশের জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য শুভকামনা জানান।
জেডএম/
