বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি ৫ ইরানি ট্যাংকারে বোমাবর্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের, জর্ডানে পাল্টা হামলা ইরানের টাকা তুলছেন গ্রাহকরা, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক বাড়ছে আস্থা অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের হিজাব নিষিদ্ধ ‘স্থিতিশীল ক্যাম্পাস ও যোগ্য নেতৃত্ব গঠনে ছাত্র আন্দোলনকে ভূমিকা রাখতে হবে’ নেপালের জাতীয় সভার সদস্যের সঙ্গে আমিরে মজলিসের সৌজন্য সাক্ষাৎ সাহারানপুরের শতবর্ষী মসজিদ ভাঙায় মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের তীব্র নিন্দা পাঠ্যবইয়ে স্থান পাচ্ছে জুলাই অভ্যুত্থানের নানা বিষয় হজের ব্যয় কমাতে বড় অঙ্কের খরচ কমিয়েছে সরকার: ধর্মমন্ত্রী মাওলানা যাইনুল আবিদীনের ‘লামাজহাবী: মুখ ও মুখোশ’ গ্রন্থের পাঠোন্মোচন রাতে

বিশ্ববিদ্যালয় ভেঙে শিক্ষার্থীদের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করবেন না: মাহমুদ মাদানী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের উত্তর প্রদেশের রামপুরে অবস্থিত মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানি। তিনি এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য উত্তর প্রদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার (২০ জুলাই) এক বিবৃতিতে মাওলানা মাদানী বলেন, এই সিদ্ধান্ত আইনের শাসন, প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব নিয়ে মৌলিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হলে হাজারো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে তাদের মৌলিক অধিকারও বিঘ্নিত হবে। এছাড়া দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাবে, যা জাতীয় শিক্ষাসম্পদের জন্যও বড় ক্ষতি।

মাহমুদ মাদানি বলেন, ভবন নির্মাণে কোনো ধরনের পরিকল্পনাগত বা বিধিবিধান লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললেও আইন অনুযায়ী ভবন ভেঙে ফেলা একমাত্র বা বাধ্যতামূলক সমাধান নয়।

তার ভাষায়, যদি কোনো স্থাপনা অনুমোদিত ভূমি ব্যবহার বা মাস্টারপ্ল্যানের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, তাহলে সংশোধিত নকশা অনুমোদন, নির্মাণ নিয়মিতকরণ (রেগুলারাইজেশন), বিধি লঙ্ঘনের জরিমানা (কম্পাউন্ডিং), উন্নয়ন ফি আদায় কিংবা অন্যান্য আইনসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

তিনি এ প্রসঙ্গে ভারতের বিভিন্ন আদালতের একাধিক রায়ের উদাহরণও তুলে ধরেন। কানপুরের রুমা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকার একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং বারাণসী, ঝাঁসি ও এলাহাবাদ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সংক্রান্ত মামলায় আদালত তাৎক্ষণিক উচ্ছেদের পরিবর্তে নিয়মিতকরণ ও আইনগত বিকল্প ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মাওলানা মাদানী উত্তর প্রদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই ভবন ভাঙার পরিবর্তে আইনসম্মত বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করে হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও জাতীয় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করা উচিত।

উল্লেখ্য, সমাজবাদী পার্টির কারাবন্দি নেতা আজম খানের প্রতিষ্ঠিত মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি ভবন অনুমোদিত নকশা ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে—এই অভিযোগে সেগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ভবনগুলো নির্মাণের সময় ওই এলাকা রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত ছিল না। যদিও এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: মুসলিম মিরর

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ