রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৯ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য নতুন ৪ পাঠ্যবইয়ের অনুমোদন দিল সরকার  সৌদি আরবে অভিযান: ৮ হাজার প্রবাসীকে ফেরত, গ্রেপ্তার ১৩ হাজারের বেশি  বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ঘনীভূত, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের শঙ্কায় ভারতের উপকূলে সতর্কতা  প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরসঙ্গী হচ্ছেন হেফাজত নেতা মাওলানা ইসলামাবাদী মসজিদে নববীতে রওজা জিয়ারত: প্রবেশের আদব, সালাম ও দোয়ার পদ্ধতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে আগামী নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাম উপসর্গে প্রাণ গেল ৫ শিশুর  ওযু ছাড়া ছোট শিশুদের কুরআন স্পর্শে বাধা নেই, কী বলছে ফিকহ? ১ নভেম্বর খুলছে সেন্টমার্টিন, পর্যটক ভ্রমণে বাড়ছে আগ্রহ সৌদিতে এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার প্রায় ১৪ হাজার প্রবাসী

ইমামুল হিন্দের নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস অন্যায়: মাওলানা আরশাদ মাদানী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেছেন, মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে চলমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, কোনো মামলার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন ভেঙে ফেলার মতো অপরিবর্তনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

শনিবার (১৮ জুলাই) লখনৌয়ে অনুষ্ঠিত ‘সাম্প্রদায়িকতা ও ঘৃণার বিরুদ্ধে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য কনভেনশনে’ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেন, তদন্তে যদি কোনো ব্যক্তি আইন লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত হন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু যেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে, সেখানে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ধ্বংস করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, আইনের শাসন অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত হতে হবে, তবে শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষার বিষয়টিও সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আজম খানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজম খান একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব; তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয় উপমহাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী, প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং বিশিষ্ট আলেম মাওলানা মুহাম্মদ আলী জওহর-এর নামে প্রতিষ্ঠিত। তাই তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত এই প্রতিষ্ঠানকে সংরক্ষণ ও এগিয়ে নেওয়া উচিত।

মাওলানা মাদানী বলেন, মাওলানা মুহাম্মদ আলী জওহর ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম অগ্রনায়ক। তিনি জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার প্রতিষ্ঠাতাদের একজন এবং মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে খেলাফত আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। যারা ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ, তারাই তাঁর অবদান উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় হাজার হাজার কোটি রুপি মূল্যের ৩৮টি ভবন ভেঙে ফেলার উদ্যোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়; বরং এটি সাম্প্রদায়িকতা ও বিদ্বেষভিত্তিক রাজনীতির প্রতিফলন।

গিয়ানভাপী মসজিদ-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়েও বক্তব্য দেন জমিয়ত সভাপতি। তিনি বলেন, এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে সংবিধান ও আইনের আলোকে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হওয়া উচিত। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ আদালতের রায় মেনে নিলে সেই রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করাও প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, লখনৌয়ে আয়োজিত ওই কনভেনশনে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং এবং সংকট মোচন হনুমান মন্দিরের মহন্ত অধ্যাপক বিশ্বম্ভর নাথ মিশ্রও উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: মিল্লাত টাইমস উর্দু

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ