শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ।। ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ৪ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল মেক্সিকো, সুনামির সতর্কতা শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে: ভারত উত্তরাঞ্চলের ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা কুরআনের পথে চললেই বদলে যাবে দেশ: আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী মসজিদের ভেতরে বিএনপি, বারান্দায় জামায়াতের জুমা আদায়! মাদক প্রতিরোধে চাহিদা ও যোগান—উভয়ই নির্মূল করতে হবে: পীর সাহেব চরমোনাই অপরিকল্পিত নগরায়ণ থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিন: ইসলামী আন্দোলন কওমি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় নিরাপদ পথ নিশ্চিত করুন বিকেএমের স্থায়ী স্বেচ্ছাসেবকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ সভা অনুষ্ঠিত ‘দুর্দিন এলে আবারও মুসলিম লীগের মাওলানা ফজলুর রহমানের সহযোগিতা লাগবে’

‘দুর্দিন এলে আবারও মুসলিম লীগের মাওলানা ফজলুর রহমানের সহযোগিতা লাগবে’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানের প্রখ্যাত সাংবাদিক হামিদ মীর বলেছেন, একসময় যাঁর কাঁধে ভর করে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, আজ তাঁর দলই সেই মাওলানা ফজলুর রহমানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করছে। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলাতে সময় লাগে না; ভবিষ্যতে আবারও মুসলিম লীগ (এন)-এর দুর্দিন এলে মাওলানা ফজলুর রহমানের সহযোগিতার প্রয়োজন হতে পারে।

ডেইলি জংয়ে প্রকাশিত নিজের এক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে হামিদ মীর বলেন, ২০১৯ সালে মাওলানা ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত 'আজাদি মার্চ'-এ ইসলামাবাদে উপস্থিত হয়ে শাহবাজ শরিফ বলেছিলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ইমরান খান সরকারের মতো তাদেরও সামান্য সহযোগিতা করে, তাহলে ছয় মাসের মধ্যেই পাকিস্তানের ভাগ্য বদলে দেওয়া সম্ভব।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ওই আন্দোলনের পরপরই নওয়াজ শরিফ কারামুক্ত হয়ে লন্ডনে যান। পরে মুসলিম লীগ (এন) ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) সংসদে একটি আইন পাস করে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার মেয়াদ তিন বছর বাড়ায়। এরপর ২০২০ সালে গঠিত হয় পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (পিডিএম), যার নেতৃত্বে আনা হয় মাওলানা ফজলুর রহমানকে।

হামিদ মীরের ভাষ্য, মাওলানা ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে পিডিএম আন্দোলন গতি পাওয়ার পরই ইমরান খান সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হন এবং শাহবাজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী হন। সেই সরকারেও মাওলানা ফজলুর রহমানের দল অংশীদার ছিল।

বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন মুসলিম লীগ (এন)-এর কিছু নেতা মাওলানা ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা করছেন। মাওলানার সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ ভবিষ্যতে দলটির জন্য বুমেরাং হতে পারে।

হামিদ মীরের মতে, পাকিস্তানের রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু নেই। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণও বদলে যায়। তাই মুসলিম লীগ (এন)-এর উচিত অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং সম্ভাব্য মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট না করা।

তিনি আরও বলেন, মুসলিম লীগ (এন)-এর জন্য সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং পিপিপির সঙ্গে ক্রমাবনতিশীল সম্পর্ক। একই সঙ্গে আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিট-বালতিস্তানের রাজনৈতিক বাস্তবতাও দলটির জন্য সতর্কবার্তা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিবন্ধের শেষদিকে হামিদ মীর ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় লেখেন, পাকিস্তানের রাজনীতিতে সময় খুব দ্রুত বদলায়। আজ যারা ক্ষমতায়, আগামী দিনে তারাই হয়তো কোনো বিরোধী জোটের মিছিলে কিংবা কারাগারে একে অপরের সঙ্গী হতে পারেন।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ