কুরবানির দৃশ্যে কি বাচ্চাদের মানসিক সমস্যা হয়
প্রকাশ: ২৫ মে, ২০২৬, ০৪:০১ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

|| মাওলানা আবুল ফাতাহ কাসেমী ||

গতকাল ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক বিএনপির এক নেতা বললেন, কুরবানির দৃশ্যে না কি বাচ্চাদের মানসিক সমস্যা হয়। এমন আজগুবি ও বিজ্ঞান বিরোধি কথা তিনি কিভাবে বললেন আমার বুঝে আসে না।

ইসলামের হুকুম আহকামের বিরুদ্ধে বলার জন্য নাস্তিক, বাম, বাগী ও সেকুদের যেমন কোন যুক্তি থাকে না, পড়াশুনা লাগে না ঠিক তেমনি সুশীল হতে চাওয়া এমন অনেকেই বিভিন্ন সময়ে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে সবজান্তার মত মন্তব্য করে বসেন। আশা করছি, বিএনপির সে নেতা তার বক্তব্য প্রত্যাহর করবেন।

কিছু রিসার্চ ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়, প্রাণী হত্যার ফলে কারও কারও মানসিক সমস্যা হতে পারে। তবে সেটা বাচ্চাদের জন্য নয়। সেটা কসাইখানার চাকুরিজীবিদের জন্য যারা প্রতিদিন গোশত প্রসেসিং করে। কাটাকাটি করে। এসব দেখলে সাধারণত দুটি অসুখ হয়।

এক. PTSD পোস্ট ট্রমাটিক সিনড্রোম

দুই.  PITS পার্পেট্রেশন ইন্ডিউসড ট্রমাটিক স্ট্রেস

আমরা দেখবো বছরে একবার কুরবানি দেখার দ্বারা এ অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না? প্রথম প্রকার অসুখ হওয়ার জন্য কমপক্ষে আটটা শর্ত মিলতে হবে। আটটা শর্ত না মিললে সেটাকে অসুখের পর্যায়ে কোন ডাক্তাররা গণ্য করেননা।

১. ডেথ, ইনজুরি, সেক্মুয়াল ভায়োলেন্স এই তিনটি জিনিসের নিজে ভিটটিম হতে হবে অথবা তিনটি জিনিস তাকে চোখে দেখতে হবে।

২. উপরের এসব চিন্তা বারবার মনে আসা, দুঃস্বপ্ন দেখা।

৩. ধর্ষিতা মেয়ে হলে ছেলে দেখলেই ভয় পাওয়া।

৪. নিজেকে দোষা, বিষণ্যতা অনুভব করা।

৫. খিটখিটে মেজায হওয় হওয়া, সবাইকে সন্দেহ করা,

৬. এগুলো মাসব্যাপী থাকা।

৭. এ লক্ষণগুলো তার দৈনন্দিন কাজে সমস্যা তৈরি করা।

৮. নিশ্চিত করতে হবে এগুলো অন্য কোন কারণে হচ্ছে না যেমন মাদকাসক্তি বা অন্য কোন অসুস্থতার কারণে।

এ আটটা শর্ত থাকলে বলা হবে তার PTSD রোগ হয়েছে। এবার বলুন, যে বাচ্চা শিশু কুরবানি দেখে একসাথে তার মধ্যে এ আটটা শর্ত পাওয়া যায় কখনো? সে নিজে না পশু, আর পশু না তার নিকটাত্মীয়। অবশ্য যারা পশুকে মা মনে করে তাদের হিসাব ভিন্ন। বুঝা যায় এটা প্রায় অসম্ভবের মতো।

আচ্ছা কুরবানি তো ইসলামেরও আগে পৃথিবীর সুচনালগ্ন থেকে চলে আসছে কোটি বাচ্চাদের সামনে। শত শত দেশে। গত বছর কেবল বাংলাদেশে প্রায় ৯১ লাখ+ পশু কুরবানি হয়েছে। কখনো শুনেছেন কোন বাচ্চা ট্রমায় ভুগেছে?

আরো একটা তথ্য নিন, ডেনমার্কের অ্যালকোর্ট শহরে একটি স্কুলে ২০০৬ সালে একটি অনুষ্ঠানে একটি ছেলে তার মেয়ে বন্ধুকে সবার সামনে খুচিয়ে খুচিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনার ৭ মাস পর প্রায় ৪১৫ জন শিক্ষার্থীর উপর ন্যাশনাল সেন্টার অব সাইকোট্রমার বিজ্ঞানিরা গবেষণা করে দেখেছে মাত্র ৯ ব্যক্তির মধ্যে আটটা শর্তের তিনটা পাওয়া গেছে। বাকিরা স্বাভাবিক।

কুরবানি আসলে যেসব সেকুরা এসব কথা সাপ্লাই করে তাদের বাচ্চারা ভৌতিক সিনেমা, ক্রাইম থ্রিলার, স্যাডিস্ট সিরিয়াল কিলিং মুভি নেশার মত দেখে থাকে। নেটফ্লিক্সে রাত জেগে পরিবার নিয়ে হরর মুভিতে খুনের দৃশ্য দেখলে তাদের বাচ্চাদের সাইকোলজিক্যাল সমস্য হয় না। সমস্য হয় কুরবানিতে?

অথচ এ কুরবানির মাধ্যমে বাচ্চারা কৃতজ্ঞতাবোধ শিখে। একটা প্রাণী নিজের জীবন দিয়ে প্রিয় খাবারটা খাওয়াচ্ছে। সেস্টেম ও সেস্টেমের সষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ হচ্ছে। তারাছাড়া তারা স্র্টা ও সৃষ্টির প্রতি দায়িত্ববোধ, সবর, ফার্মের মুরগি না হয়ে মানসিকভাবে শক্ত হওয়ার শিক্ষা পাচ্ছে।

লেখক: আলেম, শিক্ষক, অনুবাদক