জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-ফজল (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান বলেছেন, বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোর বিভক্ত থাকার সুযোগ নিচ্ছে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো। তাই সময় এসেছে ইসলামি বিশ্বকে এক প্ল্যাটফর্মে এনে অভিন্ন প্রতিরক্ষা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণের।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ওয়াহদাত-ই-উম্মত কনফারেন্স-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক আগ্রাসনকে শুধু একটি দেশের সংকট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর প্রভাব ধীরে ধীরে পুরো মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, এটি এখন আর শুধু আল-কুদস বা ফিলিস্তিন-এর ইস্যু নয়। বিষয়টি আরব বিশ্ব পেরিয়ে ইরান পর্যন্ত পৌঁছেছে। যদি ইসরাইল ইরানকে দমাতে সক্ষম হয়, তাহলে পরবর্তী চাপ পড়বে পাকিস্তানের ওপর।
মাওলানা ফজলুর রহমান আরও বলেন, ইসলামি দেশগুলোর পারস্পরিক মতপার্থক্য ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। তিনি পাকিস্তান ও সৌদি আরব-এর মধ্যকার প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়ে আরও মুসলিম দেশকে এমন জোটে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।
তিনি দাবি করেন, ইসলামি জোট গঠন বরাবরই জেইউআই-এফের রাজনৈতিক দর্শনের অংশ। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় সেই চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার উপযুক্ত সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জেইউআই-এফ প্রধান। সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় নেতাকর্মী ও আলেমদের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, রাষ্ট্র মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মান রক্ষার দায়িত্ব বহন করে। শুধু হুমকির সতর্কতা দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, কার্যকর নিরাপত্তা কৌশলও থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, যদি আমাকে কখনো হত্যা করা হয়, তবে এর দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
সরকার ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি সংবিধানের সীমার মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, সংবিধানকে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করা হলে দেশকে ধ্বংসের দিকেই ঠেলে দেওয়া হবে। সূত্র: ডন
আরএইচ/