দলের আমির মাওলানা মামুনুল হককে নির্বাচন কমিশন থেকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া প্রসঙ্গে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটি বলছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা অবগত হয়েছি যে, একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হককে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হ?য়, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং একই সঙ্গে এ বিষয়ে সংগঠনের অবস্থান স্পষ্টভাবে গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সকলের সামনে তুলে ধরাকে জরুরি মনে করছে।
আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য হলো—মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক উক্ত সময়ে কোনো প্রার্থী হিসেবে কিংবা কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেননি। তিনি সংশ্লিষ্ট সময়ে কেবলমাত্র আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে মতামত প্রকাশ ও প্রচারণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান গ্রহণ কোনো সংসদ সদস্য প্রার্থী বা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার আওতাভুক্ত নয়।
দুঃখজনকভাবে, যাচাইবিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়, যেখানে বিষয়টিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পরবর্তীতে সেই সংবাদকে ভিত্তি করে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে শোকজ নোটিশ জারির বিষয়টি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা বাস্তবতা ও আইনি অবস্থানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় বলে আমরা মনে করি।
এই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সংশোধন ও প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি— নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পুনঃপর্যালোচনা করবে এবং সংবাদভিত্তিক বিভ্রান্তির পরিবর্তে প্রকৃত ঘটনা, আইন ও আচরণবিধির আলোকে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
একই সঙ্গে আমরা গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানাই— সংবেদনশীল রাজনৈতিক ও নির্বাচন-সম্পর্কিত বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে যথাযথ তথ্য যাচাই, আইনি প্রেক্ষাপট বিবেচনা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মান বজায় রাখার জন্য।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আইনের শাসন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি অবিচলভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তি বা অপপ্রচারকে আমরা রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।
এমএন/