শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
৩০ পেরিয়েছেন? সুস্থ থাকতে গড়ে তুলুন ৭ অভ্যাস জমজমের বরকতে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা দেশমাতৃকা উলামায়ে কেরামের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছে: মুফতি আবুল হাসান এমপি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজদের মধ্যে ব্রেইল কুরআন ও সাদাছড়ি বিতরণ দেশে ফিরেছেন সৌদি আরবে আটকে পড়া ৫০ ওমরাহযাত্রী মাওলানা নূরুল হক রহ.-এর কবর জিয়ারত করলেন খেলাফত মজলিস আমির ঢাবির গবেষকদের ‘স্মার্ট ফাঁদে’ শনাক্ত হবে এডিস মশার বিস্তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের ভারত থেকে কেনা ২০০ রেলকোচের প্রথম ১৮টি দেশে পৌঁছেছে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি

একজন লেখকের চিন্তার বস্তুনিষ্ঠতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সততা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| মুফতী মুঈনুল ইসলাম ||

পৃথিবী খ্যাত বিভিন্ন ভাষার কবি, লেখক, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের প্রায় সকলের একটি অনন্য দিক ছিল, যে কারণে তাঁরা এখনো পৃথিবীতে ধর্ম বর্ণ ও দেশ নির্বিশেষে প্রাসঙ্গিক হয়ে আছেন। আর তা হলো, 'চিন্তার বস্তুনিষ্ঠতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সততা।'

আজ থেকে উনচল্লিশ বছর আগে আমার লেখা যখন পত্র-পত্রিকায় ছাপানো শুরু হয়, যতটুকু মনে পড়ে, তখন বর্তমানের তুলনায় গৃহপালিত কবি, সাহিত্যিক,লেখক ও বুদ্ধিজীবীর এতো উৎপাত এবং উপদ্রব ছিলো না। এই শ্রেণীর গৃহপালিতরা অনেকটা মাথা নীচু করে থাকার চেষ্টা করতেন। তাঁরা মনে করতেন, এই গৃহপালনে আবদ্ধতা,  তাঁর বা তাঁদের  সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতা। এজন্য যথাসাধ্য তাঁরা নিজেদেরকে আড়াল করে রাখার চেষ্টা করতেন। দুঃখজনকভাবে আজকে যেটা শক্ত হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

 একটি আরবী ছোট গল্প পড়েছিলাম। যার শিরোনাম ছিলো-

القبر يشتم قمرا اخر،

তরজমা : একটি কবর আরেকটি কবরকে গালিগালাজ করে।

গল্পটির সারসংক্ষেপ : এটি রাস্তার পাশে কিছু  দূরত্বে দুটি কবর। প্রথম কবরটির দেয়ালে লেখা ছিলো-

'সামনে যে খবরটি আছে, তিনিসহ তাঁর বাবা দাদা এবং তাঁর চৌদ্দগোষ্ঠী আমাদের বাড়ীতে কাজ করে খেতো। একেবারে সাধারণ ও নীচু পরিবারের লোক ছিলেন তিনি।'

পরের কবরটিতে লেখা ছিলো -

'পিছনের কবরে আপনি যে লেখাটি পড়েছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং তাঁরাই আমাদের বাড়ীতে এমনটি করতেন।'

আজকের সমাজের গৃহপালিত কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের লেখাগুলোর বাস্তব চিত্র হলো, উল্লিখিত গল্পটি। দলকানা এই লোকগুলো দলের পক্ষে এমনভাবে লিখেন যে, সত্য মিথ্যা যাচাই করা একেবারে একটি বিশ্বযুদ্ধের মতো ভয়াবহ ও কঠিন।

ভাষা-সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের এই ময়দানটিকে কিভাবে কলুষতা মুক্ত করা যায়, আমি-আমরা কিছু মানুষ ভেবে ভেবে আজ ক্লান্ত পরিশ্রান্ত। এমনকি উদভ্রান্তের মতো বিভ্রান্ত। কোনো ওলী-দরবেশ আল্লাহওয়ালা মানুষ যদি আমাদেরকে পথ দেখাতেন, হয়তো আমরা নিস্তার পেতাম, উদ্ধার হওয়ার কোনো পন্থা ও পথ  খুঁজে পেতাম।

আল্লাহর ওয়াস্তে, মেহেরবানী করে এমন কেউ থাকলে জানাবেন। জানালে আমরা অনেক উপকৃত হবো, ইনশাআল্লাহ।

লেখক: প্রিন্সিপাল ও রেক্টর, জামিয়া ইসলামিয়া ঢাকা; বহু গ্রন্থপ্রণেতা

এসএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ