শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৭ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
সিরাত গবেষকদের সংবর্ধনা দেবে ইসলামী আন্দোলন ওমরাহর ফ্লাইট বাতিল হলে কী করবেন, জেনে নিন করণীয় রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিক মর্যাদায় স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার আহ্বান হেফাজতের রাতে চার দিনের সফরে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন আমিরে মজলিস হাফেজাদের যথাযথ পরিচর্যায় গড়ে তুলতে হবে: মাওলানা যাইনুল আবিদীন আস-সুন্নাহর সহায়তায় মেহেদীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ সৌদিতে আটকে ৪ হাজার ভারতীয় ওমরাহযাত্রী, বিশেষ ফ্লাইট চাইলেন ওয়াইসি হাটহাজারীতে তিন দিনের তাফসির মাহফিল সফল করার আহ্বান আল-আমিন সংস্থার ৯২ বছর বয়সেও নিয়মিত মসজিদে যান বসনিয়ার বৃদ্ধ আসামে মুসলিম উচ্ছেদ ও মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় খেলাফত মজলিসের নিন্দা

চলমান কওমি সংকট ও কিছু কথা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: আওয়ার ইসলাম

|| ইলিয়াছ আহমদ ||

মাদরাসাগুলোর অপ্রীতিকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিডিয়ার প্রোপাগান্ডা, সুযোগসন্ধানীদের উন্মাদনা এবং নিজ ঘরানার কৃতঘ্নদের গায়রতহীনতা এখন লাগামহীন। অথচ নিয়মের ভেতরে জোটবদ্ধ কাজ করলে এতদিনে কিছুটা হলেও সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু কেউ আছে গা ঢাকা দিয়ে, বাকিরা নিজেদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে মরিয়া। দিনশেষে ফ্রেমিং হয়, হাঁকডাক হয়। কাজের কাজ কিছুই হয় না।

ঘটনার নেপথ্যে আসলে ভয়াবহ বাস্তবতাও বিদ্যমান। যান্ত্রিক এই সময়ে এসে এসব রাতারাতি পৌঁছে যাচ্ছে জন-মানুষের কাছে। কিন্তু আড়ালে থেকে যাচ্ছে আরও ভয়াল চিত্র। খোলাসা করে বললে; এটা একটা ভাইরাস, জীবন বিধ্বংসী রোগ। যা অনেক পুরনো। ভয়াবহ সংক্রামক। মিডিয়া না থাকায় আগে জানা যেত না, চার দেয়ালের ভেতরে কবর হয়ে যেত। মিডিয়া থাকায় এখন ছড়িয়ে পড়ে। আওয়াজ হয়। জনতার কান অবধি পৌঁছায়।

এই বেমারে আক্রান্তের তবকা মোটেও সীমাবদ্ধ নয়, সতর ছাপিয়ে দেয়াল টপকানোর উপক্রম। কর্তৃপক্ষ থেকে সাধারণ শিক্ষক, নাজিম থেকে মুহতামিম, হিফজ-নূরানি থেকে বড় বড় শায়খ—অনেকেই পীড়িত। অবিশ্বাস্য হতে পারে, এত বড় জাতীয় শায়খদের দ্বারা কীভাবে সম্ভব? আদতে বাস্তবতা আরও জটিল। এমন বহু শায়খের এই রোগের সংবাদ কানে এসেছে, শুনলে কেউ বিশ্বাস করবে না। ভুক্তভোগীরাও পারেনি কাউকে বিশ্বাস করাতে। ফলাফল; অবিশ্বাসের আদাজলে হাবুডুবু খায় নৈতিকতা।

থুতু উপরের দিকে নিক্ষেপ করা যায় না, নিজের গায়ে পড়ে। কিন্তু দরদের জায়গা থেকে, মিল্লাতের বৃহৎ স্বার্থে আমাদের ভাবনায় পরিবর্তন আনা জরুরি। নতুবা নিজেদের অস্তিত্বের উপর হুমকি ঠেকানো মুশকিল। কারো প্রতি শ্রদ্ধাবোধ একদিনে কমে না, ক্রমশ উবে যায়। মানুষ কাউকে হুটহাট দূরে ঠেলে দিতে পারে না, ধীরে ধীরে আগায়। সাতপাঁচ ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু যখন বিশ্বাসের জায়গা নড়বড়ে হয়ে আসে, তখন মুহূর্তে নর্দমায় নিক্ষেপ করতে দ্বিধাবোধ করে না।

উসূল হলো, রোগ বড় হয়ে বাসা বাঁধার পূর্বে ভাবা উচিত। ছোট থাকতেই প্রতিষেধণ প্রয়োজন। এতে করে কাটাছেঁড়ার ভয় কম। কিন্তু দিন গড়ালে রোগ বৃদ্ধি পায়, এফেক্ট করে। ছড়িয়ে পড়ে শিরা-উপশিরায়। পচন ধরায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে। তখন অপারেশন লাযিম হয়।

কওমির চলমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য পর্যালোচনা প্রয়োজন। তবে যেকেউ এই কাজ করবে এমনটা নয়। যার যেভাবে মনচায় সেভাবে পদক্ষেপের ডাক দিবে, সিস্টেম তৈরি করবে—এভাবে হাল ছেড়ে দিলে হীতে বিপরীত হবে। বরং একটা কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। নিঃসন্দেহে এই ঘরনায় এখনো যোগ্য লোক আছেন। দরদি রিজালের রাহবরি ছাড়া মূল্যায়ন সম্ভব না। বরং প্লান বিফলে যাবে।

পাশাপাশি প্রয়োজন দেশীয় আইনের কার্যকারিতা। কারণ আইন হাতে নেওয়ার সুযোগ যেহেতু এখানে নেই, তাই অপরাধীকে দিতে হয় পুলিশে। কিন্তু পুলিশ যখন নামকাওয়াস্তে রংঢং দেখিয়ে দামী কাগজের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়, তখন অপরাধী হয়ে উঠে স্বৈ'রাচার। অপরাধী হাজত থেকে বের হয়ে অন্যত্রে জায়গা খোঁজে। ফের মাতাল হয় পুরনো পাপের বিষে। এভাবে যখন নিরূপিত অপরাধীর সুষ্ঠু বিচার হয় না, তখন অপরাধীর সাহস বৃদ্ধি পায়। অপরাধের মাত্রাও বাড়তে থাকে। আইন যেহেতু রাষ্ট্রের হাতে, সুতরাং বিচার হওয়া চাই শক্তভাবে। তাহলে অন্যায় কমবে। জাতিও বাঁচবে। আজকে এতটুকু, ভুল হলে ক্ষমা চাই!

লেখক: তরুণ আলেম ও লেখক

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ