|| মুফতি মুঈনুল ইসলাম ||
একটি কওমি মাদরাসা, একটি আদর্শিক ইসলামি এনজিও। শিশু-কিশোরদের পৃষ্ঠপোষকতা দানকারী এদেশে যত ইসলামি এনজিও আছে, প্রায় সবই আমি চিনি। সেই চেনা ও জানা থেকে বলতে পারি, একটি কওমি মাদরাসা গরিব ইয়াতিম ছাত্র-ছাত্রীদের শুধু খোরপোষ দেয় না, বরং তাদের ঈমান-আমল, সততা-নিষ্ঠা, দেশপ্রেম-ধর্মনিরপেক্ষতা, মানবতা ও মানবসেবাসহ যত রকম দীনি দুনিয়াবি গুণাবলি আছে, সেগুলোর সাথে একটি আদর্শিক ধর্মীয় ও বৈষয়িক সিলেবাস পড়িয়ে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। অতএব বলা যায়, 'একটি কওমি মাদরাসা, একটি আদর্শ ইসলামি এনজিও।'
প্রকৃত অর্থে এই কওমি মাদরাসার প্রতিনিধিগণ এদেশের ইসলাম ও ইসলামিক কালচারের অভিভাবক এবং কর্তৃপক্ষ। এই কথাটি সূর্যালোকের ন্যায় স্পষ্ট। এমতাবস্থায় কওমি মাদরাসাসমূহের গরিব ইয়াতিম ছাত্রদের ব্যয়ভার নির্বাহে অর্থ সংগ্রহের অন্যতম মাধ্যম হলো, কুরবানির পশুর চামড়া বিক্রয়লব্ধ আয়। বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে কারা এই আয়ের উৎসে বাধা দান করে আসছেন, তারা আর যারাই হোন না কেন, নিশ্চিতভাবে তারা এ ধরনের সৎ, নিষ্ঠাবান গরিব ইয়াতিমের শত্রু ছাড়া কিছুই নন। তাদেরকে এই ঘৃণ্য চেষ্টা-প্রচেষ্টা থেকে নিবৃত হওয়ার বিনীত অনুরোধ করছি।
সন্দেহ নেই, এই শ্রেণির কুরবানি কবুল হওয়ার কথা নয়। অন্যান্য ইবাদত এর ব্যাপারেও সমূহ আশঙ্কা থাকতে পারে। আর কেয়ামতের আদালতে হাদিসের ভাষ্যমতে নবীজী (সা.) তাদের বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থী হয়ে দাঁড়াবেন। অতএব, মুসলিম প্রতিনিধি এবং মুসলিম ভাই ও বোনেরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিবেন, ইনশাআল্লাহ। অন্যথায় দুনিয়া আখেরাতে দুর্গতি ও বিড়ম্বনা অপরিহার্য।
লেখক: প্রিন্সিপাল ও রেক্টর, জামিয়া ইসলামিয়া ঢাকা; বহু গ্রন্থপ্রণেতা
আইও/