রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ ।। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ৭ জিলহজ ১৪৪৭


প্রধানমন্ত্রীর প্রতি খোলা চিঠি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| মাসউদুল কাদির ||

আসসালামু আলাইকুম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! ক্ষমা করবেন। আপনাকে খোলা চিঠি লিখতে বসে গেলাম। আপনি অবশ্যই বিদেশ সফর করবেন। দেশে নতুন নতুন আইডিয়া ক্রিয়েট করে ইতোমধ্যেই আপনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে তুলে নিয়ে তার কাছ থেকে দেশজ চিন্তা শুনতে পারার সক্ষমতা আপনার আছে, আপনার আছে একজন রিপোর্টারকে কাছে ডেকে কথা শুনতে পারার মানসিকতা। আপনার কোলে যখন রামিসার বাবা মাথা টুকে দিয়েছিল-তখন আপনাকে দেখেছি-কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে যেতে। আপনি বলেছেন, আমিও মেয়ের বাবা।

আশা আর ভরসা নিয়ে এ দেশের মানুষ বুকে পাথর বেঁধে অপেক্ষা করছে-একটি স্থিতিশীল সরকার ব্যবস্থার জন্য। বড় জোট নয়, শহীদ জিয়াউর রহমান-এর চেতনা ও আদর্শের উপর ভিত্তি করে, বেগম খালেদা জিয়ার আপোসহীন চেতনার ভিত্তির উপরই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। বেগম খালেদা জিয়া আজীবন দেশের আলেম উলামাকে সঙ্গে রেখেছেন। তাকে কখনোই আলেমদের সঙ্গ ত্যাগ করতে দেখা যায়নি। আশা করি, আপনিও দেশের আলেমদের কথা বিবেচনায় রাখবেন।

কওমি অঙ্গন শ্রদ্ধার সঙ্গে বেগম জিয়াকে স্মরণ করে। বিগত সরকার কওমি শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি একেবারে ঢেলে দিতে চাইলেও স্বাগ্রহে নিতে চায়নি দেশের উলামা সমাজ। আজ আপনি নিজের মায়ের কথা ভাবুন। তিনি একচান্সেই এমএ-এর সমমান দিয়ে গেছেন-যা কার্যত অকেজু হয়ে পড়ে আছে। দেশে-বিদেশে কওমি অঙ্গনের ছেলে মেয়েরা কোনোভাবেই পড়া-লেখার সুবিধা পাচ্ছে না। যারা ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দে পড়তে গিয়েছে, ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার অপরাধে অনেকেই বন্দী হয়ে আছে ভারতের জেলে। কাউকে জঙ্গি বানাচ্ছে, আবার কাউকে সন্ত্রাসী। কওমি অঙ্গনের একটি ছেলের মনেও উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন আছে। পৃথিবীর খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কওমি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে পড়তে যাওয়ার সুযোগ তৈরিতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন।

আমাদের শ্রদ্ধাভাজন মুরুব্বিগণ নিষ্ঠার সাথে প্রকৃত দ্বীন শিক্ষার এক বিপ্লবি তরিকা হিসেবে কওমি ধারা জারি রেখেছেন। আশার আলো জ্বালছেন। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত আলিয়া মাদরাসা শিক্ষাধারা নিয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আফসোস করে বলেছেন, আজ আলিয়া মাদরাসা থেকে বিশুদ্ধ কুরআন শিক্ষার শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না।

শিক্ষাসনদের কার্যকারিতা হিসেবে দাওরায়ে হাদিসকে এমএ সমমান ধরে কওমি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচন করতে হবে।

কওমি ধারায় এসএসসি, এইচএসসি ও অনার্স লেভেলের একটি Equivalence Certificate -এর ব্যবস্থা করতে হবে। ভারত-পাকিস্তান কিংবা বিশ্বের অনেক দেশেই এমন সনদ দেওয়ার পদ্ধতি রয়েছে। বাংলাদেশেও ইংলিশ মিডিয়াম পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ এ ব্যবস্থা রয়েছে। ইসলামিক স্কলারদের সঙ্গে কথা বলে এ ব্যবস্থাটা চালু করা সময়ের খুবই গুরুত্বপূর্ণ সফল কাজ হবে। কওমি শিক্ষার্থীরা জীবনে কখনো আপনার এ অবদান ভুলতে পারবে না। কওমির একটি গোপন পাঠ আছে-এসএসসি পর্যন্ত এখন সবই পড়ানো হয় কওমি মাদরাসায়। যে কারণে কওমির বিরাট একটি অংশ লেখালেখি, সাংবাদিকতা, ডিজাইন কিংবা ব্যবসায়ের মধ্যেও যুক্ত হচ্ছে।

খুন-ধর্ষণ-জুলুম কেউ পছন্দ করে না। নিজের দলের লোকও যে কোনো অন্যায় করলে এর বিচার করাটা রাষ্ট্রের জন্য নিরাপদ। ইংরেজদের দেওয়া আইন নিয়ে বাংলাদেশের অগ্রগতি কতটুকু সম্ভব তা নিয়ে ভাবা উচিত। কারণ, ইংরেজরা যে নিজেদের আইনে কি চলছে? নাকি তারা তাদের আইন আরও উন্নত করেছে। বাদি-বিবাদি-সাক্ষী-জজ-উকিল-তাদের পারিশ্রমিক হিসাব-নিকাশ কি ইউরোপের মতো চলে এখানে? নাকি মান্দাতার সেই কলকাঠি নড়ছে? দশ-বারোটা খুন-ধর্ষণ করেও দশ বছর ধরে জেলে থাকে কীভাবে? এখানকার বিচারব্যবস্থার হাল নিয়ে রীতিমতো গবেষণা হওয়া উচিত।

শরিয়া আইন নিয়ে উল্টো মন্তব্য না করে যেটুকু মানা যায় তা গ্রহণে সমস্যা কী? যে আইনে দেশ চলে, তাও তো কেউ না কেউ তৈরি করে দিয়েছে। শরীয়া নিয়ে, ইসলাম নিয়ে জল ঘোলা করতে দেবেন না প্লিজ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি  যেভাবে মানুষের কাছে ছুটে যাচ্ছেন, মানুষের হৃদয়ের বাড়ান্দায় হাঁটছেন, স্বপ্ন জাগানিয়া এক বিপ্লবের পথে হাঁটবে বাংলাদেশ। এটা আশা করা যায়।

অপরাধ দমন করতে পারলে, প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা ফিরে এলে, আপনার দলীয় কর্মীর ভেতরে সততার বীজ বপন করে দিতে পারলে দেশ এক নিমিষেই সুন্দর হতে বাধ্য।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি নিশ্চয়ই পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনা যাবেন। আগেও গিয়েছেন। তবে ভারত, পাকিস্তান, চীন কিংবা আমেরিকার চেয়ে এবার হজব্রত পালনে গেলেই সবচেয়ে বেশি ভালো হতো। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশগুলোর উপর নির্ভর করছে আমাদের রেমিট্যান্স। রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশের চাকাকে সচল রাখছে। এ জায়গাটা দয়াকরে দালালদের হাতে ছেড়ে দেবেন না। লিবিয়ায়, ইরানে, মালয়েশিয়ায় ভুল পথে চলে যাচ্ছে আমাদের দেশের অর্থ। যাচ্ছে টাকা, সংহার হচ্ছে যুবকদের প্রাণ। এ থেকে দেশকে বাঁচান।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের ইসলামিক স্কলারদের জন্য পৃথক কোনো সেশন রাখুন। যারা কিছু সময় আধ্যাত্মিক আলোচনা পেশ করবেন। দেশের মেধাবী তরুণদের বাছাই করে পিএমও’র তত্ত্বাবধানে বিদেশে প্রশিক্ষণে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেন শিক্ষকগণ থাকছেন না- তা খতিয়ে দেখা হোক। বিদেশে গেলে ফিরছেন না কেন-তাও ভাবা উচিত।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গ্রামের বৃদ্ধ-বৃদ্ধার কাছ থেকেও মাতাব্বর কিংবা মেম্বারদের ঘুষ খেতে দেখেছি। তৃণমূলের মানুষদের দুঃখ আপনাকে জানতে হবে। শুনতে হবে। শুনবার পলিসি বের করুন। গাঁয়ের মানুষদের একত্র করে প্রশংসা শুনবার উদ্দেশে দয়া করে একত্র করবেন না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি দেশের কর্তা। আপনার ভাবনা অবশ্যই অনেক উঁচু চিন্তা লালন করে। আমি এলোমেলো কিছু কথা খোলা চিঠি হিসেবে লিখলাম। ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ভালো থাকবেন।

লেখক: চেয়ারম্যান, শীলন বাংলাদেশ, ঢাকা

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ