|| মুফতি ইউসুফ সুলতান ||
আধুনিক রাষ্ট্রে জাকাত ব্যবস্থাপনায় এক অনন্য নজির হচ্ছে মালয়েশিয়া। এখানে জাকাত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জাকাত এবং ট্যাক্স ব্যবস্থার পরস্পরিক সংযোগ। ব্যক্তিগত জাকাত আদায়ে ১০০% ট্যাক্স রিবেট পাওয়া যায়। কর্পোরেট জাকাত আদায়ে নির্দিষ্টি সিলিং পর্যন্ত জাকাতকে ট্যাক্স-ডিডাক্টিবল এক্সপেন্স হিসেবে দেখানো যায়। এমপ্লয়িরা বেতন থেকে অটো জাকাত আদায়ের সাবস্ক্রাইব করতে পারেন।
পাশাপাশি স্টেট জাকাত অথোরিটি বিভিন্ন ফাউন্ডেশন (ইয়ায়াসান), প্রতিষ্ঠান, মাদরাসা ইত্যাদিকে আমেল লাইসেন্স দিতে পারে। ফলে সেসব প্রতিষ্ঠান অফিসিয়াল রিসিপ্ট ইস্যু করতে পারে, যা জাকাত রিবেটের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়। একই সঙ্গে সরকারী অথোরিটিতে অফিসিয়ালি আমেল হওয়ায় তারা আমেল হিসেবে একটা ফিও শরয়ীভাবে নিতে পারে।
জাকাত আদায়, কর, ব্যবস্থাপনা ও বিতরণের একটি সুশৃঙ্খল নেজাম থাকা আধুনিক মুসলিম বিশ্বের একটি ন্যূনতম স্বাভাবিক চাহিদা। মালয়েশিয়ার বাইরে ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, আরব আমিরাত, সাউদি, কাতার, বাহরাইন - সবারই নিজস্ব সুশৃঙ্খল পদ্ধতি রয়েছে।
জাকাত এমন একটি চমৎকার ব্যবস্থা—এটাকে যদি সঠিকভাবে ট্যাক্স ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গে ইন্টিগ্রেট করা যায় এবং রাষ্ট্রীয় পলিসির অংশ করা যায়, তাহলে এতে শুধু দারিদ্র্য হ্রাস হবে তাই নয়, বরং বার্ষিক বাজেটের একটা বড় ডেফিসিট কমে আসবে। ফলে সেটা নানাভাবে অর্থব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করবে। এমনকি নানাভাবে সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা থেকেও বের হতে সহায়ক হবে।
আমরা ইতোপূর্বে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাকাত ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত স্টাডি করেছি। এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাকাত, ওয়াকফ, হালাল ইত্যাদি বিষয়ের ওপর স্বতন্ত্র ডকুমেন্ট আমরা ধর্ম উপদেষ্টা বরাবর সাবমিট করেছি। এবং বিভিন্ন জায়গায় এসব বিষয় নিয়ে কথা বলছি।
জাকাত বিষয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে কাজের আগ্রহকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এবং এ বিষয়ে অন্যান্য দেশের মডেল ও আমাদের দেশের বাস্তবতার নিরিখে পলিসি তৈরিতে মত বিনিময় করা, বা অন্য কোনো জায়গায় কাজ করার সুযোগ থাকলে - আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবো, ইনশাআল্লাহ - উম্মার জন্য, দেশের জন্য।
লেখক: সদস্য, কেন্দ্রীয় শরিয়াহ এডভাইজরি বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক