সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৯ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
‎শহীদ নাসরুল্লাহ বদরের পরিবারের পাশে পেরিয়া ইউনিয়ন উলামা পরিষদ চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য নতুন ৪ পাঠ্যবইয়ের অনুমোদন দিল সরকার  সৌদি আরবে অভিযান: ৮ হাজার প্রবাসীকে ফেরত, গ্রেপ্তার ১৩ হাজারের বেশি  বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ঘনীভূত, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের শঙ্কায় ভারতের উপকূলে সতর্কতা  প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরসঙ্গী হচ্ছেন হেফাজত নেতা মাওলানা ইসলামাবাদী মসজিদে নববীতে রওজা জিয়ারত: প্রবেশের আদব, সালাম ও দোয়ার পদ্ধতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে আগামী নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাম উপসর্গে প্রাণ গেল ৫ শিশুর  ওযু ছাড়া ছোট শিশুদের কুরআন স্পর্শে বাধা নেই, কী বলছে ফিকহ? ১ নভেম্বর খুলছে সেন্টমার্টিন, পর্যটক ভ্রমণে বাড়ছে আগ্রহ

মুফতি শামাইল ও জাবেদ আখতারের বিতর্ক, দরকারি কিছু কথা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ
দুদিন আগে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত তরুণ মুফতি শামাইল নদবী ও প্রায়-বৃদ্ধ লিরিসিস্ট জাবেদ আখতারের বিতর্কটি উপমহাদেশব্যাপী যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষত মুফতি শামাইল অনেক প্রশংসা পাচ্ছেন, মাশাআল্লাহ। আসলেই তিনি ভালো বলেছেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সময় ধরে, শান্ত থেকে, মাথা ঠান্ডা রেখে, অত্যন্ত স্মার্ট ভঙ্গিতে, প্রতিপক্ষ ও পরিস্থিতিকে সৌজন্যমূলক সম্মান দিয়ে উপযুক্ত কথাগুলো বলে যাওয়া যথেষ্ট কঠিন এবং সেটা তিনি পেরেছেন। এযুগের তরুণ দাঈদের জন্য বিতর্ক ও মুখোমুখি আলোচনায় তিনি উদাহরণ হতে পারেন।

তর্কের বিষয় ছিল: সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব আছে কি না? নাস্তিকতার পক্ষে বিতার্কিক ছিলেন জাভেদ আখতার, তিনি নিজেও নাস্তিক। আল্লাহ তায়ালা তাকে হেদায়েত দান করুন। তার অবস্থানের পক্ষে যুক্তি ও আবেগ দিয়ে লড়তে চেষ্টা করেছেন। খ্যাতিমান ও পোড়-খাওয়া মানুষ;

কবিতা, লিরিক, মুভি-কাহিনি, রাজনীতি অনেক কিছুর সাথে জড়িত। অনলাইনে এবং উপমহাদেশে তার বিশাল ফ্যানবেজ আছে। কিন্তু তরুণ মুফতি সাহেব এই ভাবমূর্তির প্রতিপক্ষে ভালো করেছেন।

এসব বিতর্কে একটা বিষয় মনে হয় গভীরভাবে সতর্কতার। পুরো আলোচনাটা শুনতে পারিনি, বেশির ভাগ শুনেছি, কিছু কিছু অংশ বারবার শুনেছি। সবার জন্য সবার সামনে এজাতীয় আলোচনা উপভোগ করার ব্যবস্থা থাকাটা নিরাপদ না। যাদের ইসলাম সম্পর্কে মোটামুটি জানাশোনা আছে, নানারকম ওযর আপত্তির ব্যাখ্যা সম্পর্কে আলোচনা মাথায় আছে, তাদের জন্য চলে। কিন্তু একদম শূন্য পড়াশোনা লেভেলের মানুষজনের জন্য এজাতীয় বিতর্ক উপভোগ করাটা সমস্যা তৈরি করতে পারে। ঈমান ও স্থির বিশ্বাস অনেক বড় সম্পদ। অহেতুক এটাকে এক্সপেরিমেন্টে ফেলে দেওয়া সবার জন্য ঠিক না। একটা বিতর্কের সেশনে আপত্তিকর সব সংশয়, প্রশ্ন, আপত্তির জবাব দেওয়ার সুযোগ অপরপক্ষের (বিশ্বাসী পক্ষের) থাকে না। তিনি ভাইটাল বিষয়গুলোকে স্পর্শ করেন। এভাবেই মজলিস শেষ হয়ে যায়। 

এখন অনালোচিত প্রশ্ন ও আপত্তিগুলো শ্রোতাদের বড় একটা অংশের মনকে খোঁচাতে থাকতে পারে। উত্তর ও সমাধান থাকলেও যেহেতু তার সামনে আলোচনা হয়নি, তার তো জানা নেই। এটা একটা জটিল সমস্যা। বলাও যায় না শুনবেন না, আবার শোনার পর উদ্ভূত মনো-অস্থিরতার সমস্যা তৈরি হলে সেটা মজলিসি আলোচনার মতো সমাধানও হয় না। মোটকথা, যাদের দরকার এবং জানাশোনা আছে তারা এসব আলোচনা উপভোগ করতে পারেন, ইস্তেফাদাও করতে পারেন। সবাইকে উৎসাহিত করা মনে হয় ঠিক না।
লেখক: সিনিয়র লেখক, সাংবাদিক ও বিশ্লেষক

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ