বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৫ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
হাফেজ মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনছারী রহ.: বর্ণাঢ্য জীবন, কর্ম ও সাধনা দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে রাজনৈতিক নেতাদের আগে দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে: আইনমন্ত্রী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত: চট্টগ্রাম-ঢাকা লেনে ট্রেন চলাচল বন্ধ প্রকাশিত হচ্ছে হাফেজ মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনছারী রহ. স্মারকগ্রন্থ উচ্ছেদ করা হচ্ছে মোদির বাসভবনের পাশের শতবর্ষী মসজিদ সাড়ে ৬ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ শিশুর মৃত্যু তায়েফ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্ব পেলেন শায়খ সুদাইস জাসাফের উদ্যোগে ফররুখ আহমদ স্মরণে সাহিত্য সভা সাংবাদিকদের গালি দেওয়া নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী ‘প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় দুই মন্ত্রণালয়কে আরও সক্রিয় হতে হবে’

হাফেজ মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনছারী রহ.: বর্ণাঢ্য জীবন, কর্ম ও সাধনা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: আওয়ার ইসলাম

|| আব্দুল্লাহ আফফান ||

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বুক চিরে এঁকেবেঁকে বয়ে চলেছে তিতাস নদী। সেই নদীর কোলঘেঁষা গ্রাম হরিণবেড়। তার পাশের গ্রাম শংকরাদহ, আর এর পরেই আলিয়ারা গ্রাম। প্রশাসনিকভাবে গ্রামগুলো নাসিরনগর উপজেলার অধীন। সবুজ ছায়ায় ঘেরা নিবিড় ও শান্ত এই গ্রামগুলোতে দিনের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় মানুষের দিন, আর সন্ধ্যা হতে না হতেই ঘুমিয়ে পড়ে পুরো গ্রাম। এমনি এক শান্ত পরিবেশে জন্ম নেন এমন এক মনীষী, যিনি নিজের কর্ম ও গুণাবলিতে এই গ্রামগুলোকে পরিচিত করে তুলেছেন পুরো বিশ্বে।

তিনি মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনছারী রহ.। একাধারে হাফেজ, আলেম, বিশ্বনন্দিত মুফাসসিরে কুরআন ও রাজনীতিবিদ—এই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মনীষীর সুমধুর কণ্ঠে মাতোয়ারা হতো সবাই। তাঁর বয়ান শোনার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসত। তাঁর মাহফিলগুলো সব সময়ই থাকত জনসমাগমপূর্ণ ও লোকে লোকারণ্য। এমনকি প্রচ- শীতের গভীর রাতেও হাজারো মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মতো বসে থাকত তাঁর হৃদয়ে নাড়া দেওয়া বয়ান শোনার জন্য।

জন্ম ও বংশ

আলিয়ারা গ্রামের সম্ভ্রান্ত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন সৈয়দ আলী আহমদ। তাঁর দুই ছেলে—মতিউর রহমান এবং আলহাজ্ব হাবীবুর রহমান (ওরফে আলফু মিয়া)। হাবীবুর রহমান পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। কর্মজীবনের শুরুর দিকে তিনি কলকাতায় ব্যবসা পরিচালনা করেন; পরবর্তী সময়ে কিছুদিন ঢাকায় অবস্থান করে অবশেষে নিজ গ্রাম আলিয়ারায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। হাবীবুর রহমান ও জাহানারা বেগম দম্পতির তিন পুত্র সন্তান—খাইরুল বাশার (ওরফে বেনু), মিসবাহুল বাশার (ওরফে যুবায়ের) এবং সাইয়্যেদুল বাশার (ওরফে জুনায়েদ)। এছাড়া এই দম্পতির রয়েছে তিন কন্যা সন্তান।

১৯৬২ সালের ৫ জুলাই (২ সফর ১৩৮২ হিজরি, ২১ আষাঢ় ১৩৬৯ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার) এই দম্পতির চতুর্থ সন্তান হিসেবে এক ফুটফুটে শিশু ভূমিষ্ঠ হয়। সদ্যজাত শিশুর আকিকা ও প্রাতিষ্ঠানিক নাম রাখা হয় ‘মিসবাহুল বাশার’। বড় ভাই খাইরুল বাশার পরম স্নেহে ছোট ভাইয়ের ডাকনাম রাখেন ‘যুবায়ের আহমদ’। বড় ভাই-বোনদের অকৃত্রিম আদরে বেড়ে উঠতে থাকেন ছোট্ট মিসবাহুল বাশার।

ছোটবেলায় যুবায়ের ছিলেন বেশ চঞ্চল প্রকৃতির। মেঠো পথের আইলে ছুটে চলা, পাখির পেছনে দৌড়ঝাঁপ করা কিংবা গাছের শীতল ছায়ায় খেলাধুলার মধ্য দিয়েই তাঁর শৈশব কাটতে থাকে। তিতাস পাড়ের হাওয়া মেখে বড় হওয়া এই চপল শিশুটিকে নদীর স্নিগ্ধ বাতাস যেন আরও প্রাণবন্ত ও চঞ্চল করে তুলেছিল।

শৈশব থেকেই ছোট্ট যুবায়েরের কণ্ঠস্বর ছিল অসাধারণ সুমধুর। তাঁর মিষ্টি গলার আওয়াজ শুনে গ্রামের মানুষ একবাক্যে মুগ্ধ হয়ে যেত। পাড়া-প্রতিবেশী ও গ্রামের মানুষেরা প্রায়ই পিতা হাবীবুর রহমানকে পরামর্শ দিয়ে বলতেন—‘আপনার ছেলের কণ্ঠ তো অপরূপ সুন্দর! তাকে মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দিন।’

শিক্ষা-দীক্ষা

ছোট্ট যুবায়েরের কোমল দুটো হাত। সেই হাতে কায়দা চেপে ধরে ছুটে যায় গ্রামের মসজিদে। মক্তবে ‘আলিফ, বা, তা’ শিক্ষার মধ্য দিয়ে সূচনা হয় তার ঐতিহাসিক শিক্ষাজীবনের। কায়দা পড়া শেষ করে হাতে তুলে নেন পবিত্র কুরআনে কারিম। পাশাপাশি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ভর্তি হন এবং সেখানে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন।

ততদিনে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন বড় ভাই খাইরুল বাশার (বেনু মিয়া)। তিনি ঢাকার নয়াবাজারে ব্যবসা করতেন। একদিন তিনি ছোট ভাইকে জিজ্ঞেস করলেন—‘মাদরাসায় ভর্তি হবি?’ যুবায়ের কোনো দ্বিধা না করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজি হয়ে যান; যেন এমন একটি সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিলেন তিনি। বড় ভাই খাইরুল বাশার বিষয়টি পিতা হাবীবুর রহমানকে জানান।

পিতার কিছুটা অনিচ্ছা সত্ত্বেও বড় ভাই ছোট যুবায়েরকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। বড় মামা আলহাজ্ব খলিলুর রহমানও ঢাকার নয়াবাজারে থাকতেন। বড় ভাই ও বড় মামার হাত ধরে নয়াবাজারের ঐতিহ্যবাহী ‘খলিলিয়া হাফিজিয়া মাদরাসায়’ ভর্তি করা হয় তাঁকে। বাড়ি ও মায়ের স্নেহের কোল ছেড়ে দূর শহরে তাঁর বসবাস শুরু হয়; মাঝে মাঝে দেখা করতে যেতেন বড় ভাইয়ের কাছে।

যুবায়েরের মেধা ছিল অত্যন্ত প্রখর ও ধারালো। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি পুরো কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। এতো দ্রুত হিফজ শেষ করার স্বীকৃতিস্বরূপ মাদরাসা থেকে তাকে পুরস্কৃত করা হয় একটি ঘড়ি ও সেলাই মেশিন।

মাদরাসা থেকে ঘোষণা এলো—হিফজ সমাপনী অনুষ্ঠানে কৃতী ছাত্রদের পাগড়ি পরিয়ে দেবেন তৎকালীন বরেণ্য বুজুর্গ ও কিংবদন্তি আলেম মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ.। স্বপ্নের সেই ক্ষণের জন্য দিন গুনতে থাকেন কিশোর যুবায়ের। কখন আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! দিন যতই ঘনিয়ে আসছিল, যুবায়েরের যেন আর তর সইছিল না।

কিন্তু অনুষ্ঠানের দিন এক অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি তৈরি হলো। তীব্র অসুস্থতার কারণে হাফেজ্জী হুজুর রহ. অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারলেন না; তিনি প্রতিনিধি পাঠিয়ে দিলেন। এটি শুনে অবুঝ যুবায়ের এক পায়ে দাঁড়িয়ে গেলেন—হাফেজ্জী হুজুরের হাত থেকেই পাগড়ি নেবেন, অন্য কারও হাত থেকে নয়, কারও কোনো যুক্তি বা সান্তনাই তিনি শুনছিলেন না। অবশেষে বড় ভাই এসে বোঝানোর চেষ্টা করলেন, কিন্তু যুবায়েরের এককথা—হাফেজ্জী হুজুরের হাত ছাড়া পাগড়ি নেবেন না। কোনো উপায় না দেখে বড় ভাই বললেন—‘আপাতত পাগড়িটা মাথায় নাও, পরে আমি তোমাকে হাফেজ্জী হুজুরের কাছে নিয়ে গিয়ে পাগড়ি পরিয়ে আনব।’ এতে কিছুটা আশ্বস্ত হয়ে তিনি পাগড়ি গ্রহণে রাজি হন।

কথা অনুযায়ী একদিন বড় ভাইয়ের হাত ধরে আসরের আগে কামরাঙ্গীরচরের আশরাফাবাদে ‘জামিয়া নূরিয়া মাদরাসায়’ হাজির হন যুবায়ের। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, হুজুর আসরের আগে কক্ষ থেকে বের হন না; আসরের আজান হলে দরজা খোলেন। আজানের পর বড় ভাই খাইরুল বাশার ছোট ভাইকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন এবং সালাম দিয়ে বিস্তারিত খুলে বলেন। সব শুনে হাফেজ্জী হুজুর রহ. পরম স্নেহে নিজ হাতে যুবায়েরকে পাগড়ি পরিয়ে দেন এবং দোয়া করেন। এভাবে সত্যি সত্যি পূরণ হয় ছোট যুবায়েরের সেই স্বপ্নের মুহূর্ত।

হিফজ সম্পন্ন করার পর তাঁকে ভর্তি করানো হয় ঐতিহ্যবাহী ‘জামিয়া কুরআনিয়া লালবাগ মাদরাসায়’। সেখানে কিছুদিন পড়ালেখা করেন তিনি। প্রতি শুক্রবার বড় ভাই নিয়ম করে দেখতে যেতেন ছোট ভাইকে। এক ছুটির সময় যুবায়ের বাড়ি যান। কিন্তু একদিন অতিরিক্ত চঞ্চলতার কারণে বাবার কড়া কথা শোনেন। কথাগুলো তাকে অন্যভাবে ভাবিয়ে তোলে। তার মনে উদিত হয় ভিন্ন চিন্তা। লেখাপড়ায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা ভাবেন তিনি। চঞ্চলতাও কমিয়ে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন।

ছুটি শেষ হওয়ার আগেই বড় ভাইয়ের কাছ থেকে খরচ নিয়ে মাদরাসার উদ্দেশে রওনা হন যুবায়ের। পরবর্তী সময়ে ছুটি শেষ হলে বড় ভাই মাদরাসায় গিয়ে জানতে পারেন—যুবায়ের মাদরাসায় নেই! খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি তার ব্যবহৃত সব জিনিসপত্র গুটিয়ে নিয়ে চলে গেছেন। খাইরুল বাশারের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে—কোথায় যেতে পারে ছোট ভাই? সম্ভাব্য সব জায়গায় চিঠি পাঠানো হলো, পরিচিতদের মাধ্যমে খোঁজ নেওয়া হলো, কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মিলল না। যেন এক নিমেষেই বাতাসে মিলিয়ে গেছেন যুবায়ের!

আদরের ছোট ভাইকে হারিয়ে বড় ভাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেন, খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেল। পরিবারের কাছেও মুখ দেখাতে পারছিলেন না। এভাবে দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগে কেটে গেল টানা আটটি মাস।

অবশেষে হঠাৎ একটি আশার সংবাদ এলো—হবিগঞ্জের বাহুবল এলাকার ‘দারুল উলুম চলিতাতলা মাদরাসায়’ অবস্থান করছেন যুবায়ের। খবর পাওয়া মাত্রই বড় ভাই দ্রুত ছুটে যান সেই মাদরাসায়। মাদরাসার ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই বড় ভাইকে দেখেন যুবায়ের এবং দৌড়ে এসে ভাইয়ের পা জড়িয়ে ধরেন। বলেন—‘ভাই! আমাকে মাফ করে দিন।’

লালবাগ মাদরাসা ছেড়ে আসার কারণ জানতে চাইলে সহজ-সরল যুবায়ের জানান, সেখানে ছাত্রসংখ্যা বেশি হওয়ায় তিনি সামনের সারিতে বসতে পারতেন না। পেছনের সারিতে বসায় হুজুরের দরস ও সবক ভালো করে বুঝতে অসুবিধা হতো। তাই পড়ালেখার মান বজায় রাখতে তিনি নিজেই মাদরাসা পরিবর্তনের এই সাহসী সিদ্ধান্ত নেন।

এরপর মাওলানা আব্দুল খালেক চলিতাতলীর তত্ত্বাবধানে সেখানে তাঁর পড়াশোনা চলতে থাকে। কয়েক বছর ‘দারুল উলুম চালিতাতলা মাদরাসায়’ পড়ার পর তিনি ‘জামিয়া কাসিমুল উলূম বাহুবল’-এ ভর্তি হন। সেখানে তিনি ‘মুখতাসার’ ও ‘জালালাইন’ জামাত সম্পন্ন করেন।

পরবর্তী সময়ে আল্লামা মুখলিছুর রহমান কিয়ামপুরী রহ.-এর মাধ্যমে তিনি ভর্তি হন সিলেটের প্রখ্যাত দীনি প্রতিষ্ঠান ‘জামিয়া ইসলামিয় হোসাইনিয়া গহরপুর মাদরাসায়’। সেখানে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে ‘মিশকাত’ এবং হাদিসের সর্বোচ্চ জামাত ‘দাওরায়ে হাদিস’ সমাপ্ত করে ১৯৮৯ সালে ফারেগ হন। সেখানে অবস্থানকালেই তিনি তাফসিরুল কুরআনের ওপর বিশেষ বুৎপত্তি ও গভীর জ্ঞান অর্জন করেন।

যেভাবে তাঁর নামে ‘আনছারী’ যুক্ত হয়

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী গহরপুর মাদরাসায় পড়াশোনার সময় মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম এবং প্রখ্যাত বুজুর্গ আল্লামা নূরউদ্দীন আহমদ গহরপুরী রহ.-এর অকৃত্রিম স্নেহ ও ভালোবাসায় সিক্ত হন তরুণ যুবায়ের আহমদ। মাদরাসার যেকোনো দীনি ও প্রাতিষ্ঠানিক খেদমতে গহরপুরী রহ. সবসময় তরুণ যুবায়ের আহমদকে ডেকে নিতেন। তিনিও পরম আনন্দিত চিত্তে একনিষ্ঠভাবে শিক্ষাগুরুর নির্দেশ পালন করতে এগিয়ে আসতেন এবং তাঁর খেদমতকে নিজের জন্য সৌভাগ্য মনে করতেন।

যেকোনো প্রয়োজনে ও কাজে সবসময় পাশে থেকে সহযোগিতার (নুসরত) কারণে হজরত গহরপুরী রহ. ভালোবেসে তাঁকে ‘আনছারী’ (সাহায্যকারী) বলে সম্বোধন করা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে এই সম্মানসূচক ‘আনছারী’ পদবীটিই তাঁর নাম ও পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে, যা বিশ্বজুড়ে তাঁকে ‘আল্লামা আনছারী’ হিসেবে অনন্য পরিচিতি এনে দেয়।

কর্মজীবন

ছাত্রজীবন থেকেই মসজিদে নিয়মিত ইমামতি করতেন হাফেজ মাওলানা যুবায়ের আহমদ। শত ব্যস্ততার মাঝেও ক্লাস ও পড়ালেখার স্বাভাবিক গতি বজায় রেখে তিনি একইসঙ্গে দাওয়াতি কাজ চালিয়ে যেতেন।

তখন কেবল প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন তিনি; কিন্তু তাঁর দূরদর্শী চোখে ছিল এক মহা স্বপ্ন এবং হৃদয়ে ছিল দৃঢ় সংকল্প। প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে ভিন্ন ও ব্যতিক্রমী কিছু করার আকুল তাগিদ ভেতরে কাজ করছিল। তাঁর মূল স্বপ্ন ছিল একটি আদর্শ দীনি শিক্ষা ও ইসলামি আন্দোলনের স্থায়ী কেন্দ্র গড়ে তোলা। তিনি এমন একটি ছাদ বা আশ্রয়স্থল চেয়েছিলেন, এমন একটি ফলপ্রসূ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন—যেখান থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর সঠিক আলোয় আলোকিত হতে থাকবে।

বুকভরা সেই মহান স্বপ্নকে হৃদয়ে ধারণ করে তিনি দেশের প্রান্তে প্রান্তে ওয়াজ-মাহফিলে কুরআন-সুন্নাহর অমীয় বাণী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে থাকেন।

চলবে....


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ