মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


বাজারের তরুণ নু‘মান: ব্যবসায়িক জীবন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সকালের কুফা। বাজার তখন জেগে উঠেছে। দোকানের সামনে পণ্য সাজানো হচ্ছে। ক্রেতারা আসতে শুরু করেছে। কেউ দাম জিজ্ঞেস করছে, কেউ পণ্য হাতে নিয়ে দেখছে। এই ব্যস্ত বাজারেরই একজন পরিচিত মুখ তরুণ নু‘মান ইবন সাবিত।

আজকের মতো তখন বড় বড় শপিংমল ছিল না। ছিল দোকান, বাজার আর সরাসরি ক্রেতা-বিক্রেতার লেনদেন।

নু‘মান ব্যবসা করত। এই ব্যবসার সঙ্গে তাঁর কিছু নীতি ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। সত্য কথা বলা। অন্যের অধিকার নষ্ট না করা। প্রতারণা থেকে দূরে থাকা। কারণ, সে জানত— ব্যবসায় লাভ করা বৈধ, তবে অন্যকে ঠকিয়ে নয়।

একজন ব্যবসায়ী কোনো পণ্যের ত্রুটি লুকিয়ে হয়ত বা ক্রেতার কাছে সেটি বিক্রি করতে পারেন। তবে একজন মুসলিম ব্যবসায়ীর কাছে প্রশ্নটা শুধু— “আমি কত টাকা লাভ করলাম?” এটা নয়। প্রশ্নটা হলো— “এই উপার্জনে আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট হবেন তো?”

নু‘মানের জীবনে ব্যবসা শুধু অর্থ উপার্জনের মাধ্যম ছিল না; এটি ছিল চরিত্র গঠনেরও একটি ক্ষেত্র। ধীরে ধীরে সে মানুষের সঙ্গে মিশতে শিখল। ক্রেতার কথা শুনতে শিখল। দরদাম করতে শিখল। মানুষের স্বভাব বুঝতে শিখল। আর সবচেয়ে বড় কথা— জীবনের বাস্তব সমস্যাগুলো খুব কাছ থেকে দেখতে লাগল।

কেউ ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছে। কেউ অংশীদার হয়ে কাজ করছে। কেউ পণ্য কিনে পরে মত বদলাচ্ছে। কেউ লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন করছে। এসব ঘটনা হয়তো তখন তাঁর কাছে শুধুই ব্যবসার বিষয় ছিল। কিন্তু ভবিষ্যতে যখন সে ফিকহের গভীর জগতে প্রবেশ করেছিল, তখন জীবনের এই বাস্তব অভিজ্ঞতাগুলো মানুষের সমস্যাগুলো বুঝতে সাহায়ক হয়েছিল।

নু‘মানের সামনে ব্যবসার সাথে সাথে আরও একটি দরজা খুলে গিয়েছিল। ইলমের দরজা। ব্যবসা তাঁকে জীবনের বাস্তবতা দেখাচ্ছিল। আর ইলম তাকে সেই বাস্তবতার শরিয়তসম্মত সমাধান খুঁজতে শেখাবে। একসময় তাঁর মনে প্রশ্ন জাগল— “আমি ব্যবসা করি, এটা ভালো। সাথে যদি আল্লাহর দ্বীনের জ্ঞানও অর্জন করি, তাহলে কেমন হবে?”

মনের মধ্যে এই প্রশ্ন উদয়ের পর নু‘মানের জীবন আর আগের মতো থাকল না। বাজারের সেই তরুণ এবার ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল আলেমদের মজলিসের দিকে। শুরু হল ইলম অর্জন। এই ইলম-ই একজন ব্যবসায়ী তরুণকে করেছিল জ্ঞানপিপাসু ছাত্র, তারপর শিক্ষক, আর একদিন মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রসিদ্ধ ফকিহ।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ