বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


আহমাদ শফি ও বাবুনগরী (রহ.)-এর স্মরণে ‘তুরাস-এর উত্তরাধিকার’ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমাদ শফি (রহ.) ও কায়েদে মিল্লাত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরি (রহ.)-এর স্মরণে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের গবেষণা ও প্রকাশনা সেলের উদ্যোগে প্রকাশিত ‘তুরাস-এর উত্তরাধিকার’ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বায়তুল মোকাররম ইসলামি বইমেলায় অনুষ্ঠিত মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে আলেম-ওলামাদের অবদান সংরক্ষণ, তাঁদের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

গবেষণা ও প্রকাশনা সেলের সম্পাদক মাওলানা ত্বহা মাহমুদ ও সহসম্পাদক মাওলানা শারাফাত শরীফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী বলেন, ‘‘উত্তরাধিকার’ সংখ্যায় আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখা আলেমদের অবদান তুলে ধরেছি। আল্লামা আহমাদ শফী ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী তাঁদের আপসহীন ভূমিকার কারণে ফ্যাসিস্ট হাসিনার রোষানলে পড়েছিলেন। ধারাবাহিকভাবে আমরা অন্যান্য আলেমের অবদানও তুলে আনব। স্বাধীনতার পর থেকে দেশ ও ইসলাম রক্ষার সব আন্দোলনে আলেমদের ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু ইতিহাস থেকে তাঁদের অবদান মুছে ফেলা হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাঁদের উত্তরাধিকার সম্পর্কে সচেতন করতেই ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের গবেষণা ও প্রকাশনা সেলের এই উদ্যোগ।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আলেম-ওলামাদের কারও রাজনৈতিক খেলার গুটি না হয়ে নিজেদের সুনির্দিষ্ট নীতি ও শক্তির ওপর দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি তাঁদের রাষ্ট্র পরিচালনার সুষ্ঠু ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিনিধি মাওলানা গাজী ইয়াকুব বলেন, “আমি ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে সাড়ে চার ঘণ্টা সঞ্চালনা করেছি। করোনার সময় সাড়ে চার হাজার লাশ নিজে দাফন করেছি। অথচ আমাদের মেইনস্ট্রিম থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়।”

বিগত সরকারের আমলে আলেমদের ওপর নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকে আলেমদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অবমূল্যায়ন ও নানা অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি শহীদের পরিবারের বক্তব্য নিয়ে আরও আগেই প্রাতিষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিক মানের ডকুমেন্টেশন হওয়া উচিত ছিল।

দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক (ধর্ম) মনযূরুল হক প্রকাশনাটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি ডকুমেন্টস। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাস সংরক্ষিত হয়েছে এবং এটি নিয়ে গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে।

বক্তব্য দেন, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ইনজিমামুল ইসলাম এবং মুখপাত্র মাওলানা রফিকুল ইসলাম আইনী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক নয়া দিগন্তের সিনিয়র সহসম্পাদক মাওলানা লিয়াকত আলী, আমন্ত্রিত ওলামায়ে কেরাম, লেখক, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ