আজগর সালেহী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া নানুপুর ওবাইদিয়া মাদরাসায় প্রতি বছরের মতো এবারও অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৪০ দিনের বিশেষ ইতেকাফ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রায় তিন হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি নানুপুরের পীর সাহেব হজরত মাওলানা শাহ সালাহউদ্দিন নানুপুরীর তত্ত্বাবধানে এই ইতেকাফে অংশ নিয়েছেন।
রমজান এলেই নানুপুর মাদরাসা যেন পরিণত হয় এক ভিন্ন জগতে। তিন তলা বিশাল মসজিদের প্রতিটি ফ্লোর ও কোণায় কোণায় মুসুল্লিরা কেউ কুরআনতেলাওয়াতে মগ্ন, কেউ জিকির-আজকারে নিমগ্ন, আবার কেউ তসবিহ হাতে আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত। সার্বক্ষণিক ইবাদত, কুরআন তেলাওয়াত ও আধ্যাত্মিক চর্চায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মাদরাসা এলাকা।
বাংলাদেশের অন্যতম প্রসিদ্ধ এই কওমি মাদরাসায় বহু বছর ধরে চলমান রয়েছে চল্লিশ দিনের এই বিশেষ ইতেকাফের ঐতিহ্য। কুতুবে জমান আল্লামা শাহ জমিরউদ্দিন নানুপুরী রহ. এর সময় থেকে শুরু হওয়া এ ধারাবাহিকতা আজও অব্যাহত রয়েছে। আধ্যাত্মিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ মারকাজ হিসেবে নানুপুরের বিশেষ সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে।
মাদরাসার সাবেক পীর ও মনীষী আল্লামা সুলতান আহমদ নানুপুরী রহ. এবং আল্লামা শাহ জমিরউদ্দিন নানুপুরী রহ. এর রেখে যাওয়া আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে পীর সাহেব হযরত মাওলানা শাহ সালাহউদ্দিন নানুপুরী সেই ধারাকে আরও বিস্তৃত করেছেন। বরং অতীতের তুলনায় এখন ইতিকাফে অংশগ্রহণকারী মুসল্লির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
ইতেকাফে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা জানান, নানুপুরের পরিবেশ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তিতে ভরপুর। এখানে এসে ইবাদতে মনোনিবেশ করা সহজ হয় এবং আত্মশুদ্ধির এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মুসল্লিরা বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামের সান্নিধ্যে থেকে জিকির-আজকার, তিলাওয়াত ও দীনি তালিমে সময় অতিবাহিত করেন।
রমজানের দিনগুলোতে নানুপুর মাদরাসা এলাকা যেন পরিণত হয় আধ্যাত্মিকতার এক মহাসমাবেশে। মসজিদের প্রতিটি কোণ জিকির-আজকারে মুখরিত হয়ে ওঠে এবং পুরো পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে ইবাদতের এক গভীর আবহ। মুসল্লিদের জন্য থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে করা হয়।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে নানুপুর মাদরাসার চল্লিশ দিনের এই ইতেকাফ শুধু একটি ইবাদতের আয়োজন নয়; বরং এটি আধ্যাত্মিক প্রশান্তি, আত্মশুদ্ধি ও দীনি অনুশীলনের এক অনন্য কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
আইএইচ/