|| শায়খ আহমাদুল্লাহ ||
ওয়াকফ ইসলামি অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। এটি সদাকায়ে জারিয়ামূলক এক স্থায়ী ইবাদতও। একটি ভালো কাজের ধারা যেন টেকসই হয়, তার জন্য ওয়াকফের কোনো বিকল্প নেই।
মুসলমানদের হাজার বছরের ইতিহাসে বহু ভালো কাজ ওয়াকফের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
উসমান (রা.)-এর বাগান দান, খায়বারে উমর (রা.)-এর জমি দান, পানি সংকট নিরসনে বিভিন্ন সাহাবির কূপ দান ওয়াকফের উৎকৃষ্ট নমুনা।
মানুষ মারা গেলে তার সকল আমলের পথ বন্ধ হয়ে যায়, তবে খোলা থাকে সদাকায়ে জারিয়ার পথ। এটাই ওয়াকফ।
আজকাল আমাদের সমাজে ওয়াকফ করার উদ্দীপনা কমে গেছে। অথচ প্রাতিষ্ঠানিক সম্পত্তির দিক থেকে গোটা ভারতবর্ষের তৃতীয় সর্বোচ্চ সম্পত্তির মালিক ভারতীয় ওয়াকফ বোর্ড।
বাংলাদেশেও ওয়াকফকৃত সম্পত্তি কম নয়। কিন্তু এগুলো পরিচালনার জন্য যে অথরিটি আছে, তাদের দুর্নীতি, অনিয়ম ইত্যাদির কারণে ওয়াকফের প্রতি মানুষের আগ্রহ হ্রাস পাচ্ছে।
পরিবর্তিত বাংলাদেশে এই অনিয়ম বন্ধ করে যদি ওয়াকফ ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকীকরণ ও সহজ করা যায়, তবে জনগণ ওয়াকফের ব্যাপারে নতুন করে উদ্বুদ্ধ হবে।
ওয়াকফের মাধ্যমে শত-সহস্র দাতব্য প্রতিষ্ঠান, যেমন : মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
তাই আসুন, ইসলামের অবহেলিত ও অনালোচিত এই ইবাদতের প্রতি আমরা যত্নবান হই, আমাদের সম্পদের একটা অংশ ওয়াকফ করে যাই; এতে একদিকে যেমন আমরা সদাকায়ে জারিয়ার সওয়াব পাব, পাশাপাশি এর মাধ্যমে দেশ ও জাতির বিপুল কল্যাণ সাধিত হবে ইনশাআল্লাহ।
লেখক: বিশিষ্ট দাঈ ও চেয়ারম্যান, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন
এমএইচ/