সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
১৩ মাসে হাফেজ হলো ১০ বছরের নাঈম নিকাব নিয়ে কটূক্তি: ঢাবির সেই শিক্ষিকাকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা আলোর পথের যাত্রী  সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি আলী মিয়াঁ নদভীকে নিয়ে বই লিখে দিল্লি উর্দু একাডেমির পুরস্কার লাভ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হেফাজতের শোক, ক্ষতিপূরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত

‘আত্মসম্মান’; ব্যক্তির মৌলিক গুণ 


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

।।আব্দুর রউফ আশরাফ।। 

আমরা সবাই আত্মসম্মানবোধে সচেতন। নিজের আত্মসম্মানবোধ হারালে কাঁদি। অন্যের আত্মসম্মানবোধ দেখে আফসোস করি। আত্মসম্মান মানুষকে অসচেতন থেকে সচেতন বানায়। আত্মসম্মানি মানুষেরা ভাতের অভাবে মরে না বরং সম্মানের অভাবে মরে। আত্মসম্মান মানুষকে শিকড় থেকে শিখরে নিয়ে যায়। আত্মসম্মান মানুষ কামাই করে তার কর্ম দক্ষতা দিয়ে। আর এ আত্মসম্মান সঞ্চয় করি আমরা সমাজে। 

আমরা মানুষ হিসেবে সমাজে বসবাস করি। মানুষের সাথে সমাজের এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বিদ্যমান। উচু-নিচু, ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ, সাদা-কালো, ভালো-মন্দের লোকের সমাবেশে সমাজ পরিচালনা হয়। রুচি, ভালো লাগা, মন্দ লাগা, বিবেক-বুদ্ধির ক্ষেত্রে সমাজ ও সমাজের মানুষের ভেদাভেদ। এ প্রভেদ থেকে সম্মান-অসম্মান। মানী-অমানী। সম্মানের বাড়তি কমতি। কেউ সম্মান পায়, কেউ সম্মান পায় না। নিশ্চয় সম্মানী মানুষ অসম্মানী মানুষ থেকে সবদিকে এগিয়ে থাকে। আর এ সম্মানটা মানুষ কি জন্য পায়। ব্যাংক ব্যালেন্স না লোকবল? আসলে এর কোনোটিই না। তাহলে এর পিছনে কোন শক্তি কাজ করে? সমাজে মানুষের সম্মান প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজন সচেতনতা, বিবেক-বুদ্ধি, আত্মনিয়ন্ত্রণ এসব। 

যে নিজের বিবেক বুদ্ধি,আত্মনিয়ন্ত্রণ,নীতি-নৈতিকতা বিবেচনায় যারা চলাফেরা করতে পারে না, সে সমাজের মানুষ অসম্মানের চোখে দেখে। যাকে অসম্মানের চোখে দেখে তার দ্বারা সমাজ ও দেশ ও দেশের যাবতীয় মঙ্গলজনক কাজের ফলপ্রসূ হয় না। জ্ঞান-বুদ্ধিহীন ব্যক্তিকে মানুষ পাগল বলে। বুদ্ধি থাকলেই শুধু হবে না। বিবেকও থাকতে হয়। বুদ্ধি তো চোরেরও থাকে। এই বলে সে কি সম্মান পাওয়ার যোগ্য? তাই বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি সমাজে সম্মানিত হয়।

আত্মনিয়ন্ত্রণ সম্মানিত ব্যক্তিদের অন্যতম গুণ। মানুষ যা ইচ্ছা তাই করতে পারে না। কিছু করতে গেলে সেখানে প্রয়োজন হয় ভালো কিছু, উপকারিতা বা অন্তত ক্ষতিকর নয় এমন কিছু। নিজের ভালো হবে এমন কিছু করা উচিৎ নয় যা অন্যের ক্ষতির কারণ। এমন কিছু করা বাঞ্চনীয় যা সমাজের জন্য ভালো। যে কোন অপরাধ থেকে মুক্ত থাকাই হলো আত্মনিয়ন্ত্রণ। আর আত্মনিয়ন্ত্রণ গুণসহ বেশ কিছু গুণ অর্জন করতে হবে। আর এসব গুণ অর্জন করা সহজ ব্যাপার না। গুণগুলো অর্জন করতে সমাজের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে হয়। যেমন শিক্ষাগত যোগ্যতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে কাজের মাধ্যমে। পারস্পরিক মমতাবোধ সৃষ্টি করতে হবে। হিংসা,বিদ্বেষ দূর করতে হবে । সু-পরিকল্পিত সমাজ ব্যবস্থার কাজ আঞ্জাম দিতে হবে। ন্যায়-নীতি অবলম্বন করতে হবে। অন্যায় অনৈতিক যাবতীয় অসৎ কাজ থেকে নিজেকে আড়াল করে রাখতে হবে। তাহলে সম্ভব আত্মসম্মান নিয়ে সমাজে বহুবহুল কাজের আঞ্জাম দেওয়া। 

একজন আত্মসম্মানী মানুষের পক্ষে সম্ভব এ ঘূণে ধরা সমাজকে পরিবর্তন করা। তাই উচিত প্রত্যেকে নিজের আত্মসম্মান বজায় রাখা এবং অন্যের আত্মসম্মানে আঘাত না দিয়ে সুপরিকল্পিত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে অন্যকে মূল্যায়ন করা প্রত্যকের মৌলিক দায়িত্ব।

এনএ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ