শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৮ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বাংলাদেশি নারী নিহত ১১ এপ্রিল ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি ইসলামী আন্দোলনের ‘গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে’  ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকা মার্কিন কংগ্রেসে জোরালো হচ্ছে ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি দৌলতদিয়ায় বাসডুবিতে নিহত ২৬ জনের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকর না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে: মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউ’র ভারতের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ

যুদ্ধ শুরু করা সহজ, শেষ করা কঠিন: লন্ডনের মেয়র সাদিক খান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পক্ষ নিয়ে বলেছেন, ইরানের ওপর হামলায় যোগ না দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ উপেক্ষা করে স্টারমার একদম সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরু করা সহজ হলেও শেষ করা অত্যন্ত কঠিন। তিনি মনে করেন, যুক্তরাজ্যের উচিত কেবল প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপে মনোযোগ দেওয়া।


গতকাল শনিবার (৭ মার্চ) এক বিবৃতিতে সাদিক খান জানান, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতাই যুক্তরাজ্যের জন্য মঙ্গলজনক, বিশৃঙ্খলা বা রক্তপাত কোনো সমাধান নয়। তিনি এই সংঘাতকে একটি ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করেন যে এতে জড়িয়ে পড়লে কেবল সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আর অপ্রয়োজনীয় প্রাণহানিই বাড়বে।

সাদিক খান আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এই সামরিক অভিযানে অংশ নিলে ব্রিটিশ অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের ওপর জ্বালানি তেলের দাম, খাদ্যমূল্য এবং বন্ধকির কিস্তির বোঝা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। 

তার মতে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার যে অগ্রগতি হয়েছে, যুদ্ধের কারণে তা নস্যাৎ হয়ে যেতে পারে। যদিও তিনি ইরানি শাসকগোষ্ঠীর দমনপীড়নের নিন্দা জানিয়েছেন, তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই সামরিক পদক্ষেপ সঠিক পথ নয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী স্টারমারও তার অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছিলেন, কোনো চাপ তাকে তার নীতি ও মূল্যবোধ থেকে সরাতে পারবে না এবং আলোচনার মাধ্যমেই ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরিয়ে আনা সম্ভব। 

জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক মহলের সম্মতি ছাড়া এই হামলা শুরু করায় এর সমালোচনা করে সাদিক খান বলেন, যুদ্ধ শুরু করা সহজ হলেও শেষ করা অত্যন্ত কঠিন। তিনি মনে করেন, যুক্তরাজ্যের উচিত কেবল প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপে মনোযোগ দেওয়া।

এদিকে, সাদিক খানের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বরাবরের মতোই আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের সাথে এক বৈঠকে ট্রাম্প লন্ডনের মেয়রকে ‘অযোগ্য’ বলে আখ্যা দেন। তবে মেয়রের মুখপাত্র পাল্টা জবাবে বেশ রসিকতার সাথেই বলেন, সাদিক খান এখনো ট্রাম্পের মাথায় জেঁকে বসে আছেন এবং ট্রাম্প তাকে নিয়ে কিছুটা বেশিই আবিষ্ট। 

২০১৭ সাল থেকেই ট্রাম্প ও সাদিক খানের মধ্যে এমন বাকযুদ্ধ চলে আসছে, যা এই যুদ্ধের আবহে নতুন মাত্রা পেল।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

আইএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ