শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৮ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা আবেগ নয়, বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিন ১৯৭৯ সালের পর ওয়াশিংটন-তেহরানের প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আজ, কী হতে চলেছে ইসলামাবাদে? বায়তুল মোকাররম এলাকায় হকার-ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ পরীক্ষার সময় সিসি ক্যামেরা চালু রাখতে হবে, কোনো অজুহাতে অফ রাখলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২৭ শিশু ভর্তি রাজনীতিতে যারা ওয়াদা ভঙ্গ করেছে তাদের পরিণতি কিন্তু খুব ভালো হয়নি : নাহিদ ইসলাম হঠাৎ অসুস্থ ত্রাণমন্ত্রী, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হবে ঢাকায়  ৫ সপ্তাহ পর আল-আকসায় জুমা, মুসল্লিদের ঢল আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা যাদের, নমিনেশনে অগ্রাধিকার তাদের : রিজভী পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরু হতে পারে বিকেলে

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে পরমাণু সমঝোতায় রাজি ইরান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিলে নিজেদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে আপস করতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি এমনটি মন্তব্য করেছেন।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে পরমাণু আলোচনা শুরুর পর রাভানচি ও মন্তব্য করেছেন। আগামী সপ্তাহে জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে নতুন দফায় আলোচনা শুরু হবে বলে শনিবার সুইজারল্যান্ড ঘোষণা দিয়েছে।

তবে এখনও আলোচনার সুনির্দিষ্ট তারিখ জানায়নি দেশটি। এছাড়া ইরানও আনুষ্ঠানিকভাবে এই আলোচনার কথা নিশ্চিত করেনি। তবে ওমানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বাধীন ইরানি প্রতিনিধি দলে থাকা তাখত-রাভানচি বিবিসিকে বলেছেন, আলোচনা মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ ও ইরানের চিরশত্রু ইসরায়েল ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ করে আসছে। তেহরান বরাবরই এ ধরনের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা অস্বীকার করেছে। তবে বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য এই প্রযুক্তির অধিকারের বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে ইরান। বিশেষজ্ঞরা মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে ইসরায়েলকে বিবেচনা করে থাকেন।

তাখত-রাভানচি আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরান আপস করতে প্রস্তুত। এর মধ্যে তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমিয়ে ফেলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনকেও তেহরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে; যা ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা যদি তাদের (আমেরিকা) পক্ষ থেকে আন্তরিকতা দেখি, তাহলে আমি নিশ্চিত যে, আমরা চুক্তিতে পৌঁছানোর পথেই থাকব।

বিবিসি বলেছে, ৪০০ কেজির বেশি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিতে তেহরান রাজি হবে কি না—এমন প্রশ্নে আপসের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি মাজিদ তাখত-রাভানচি। তবে আলোচনায় কী ঘটবে তা নিয়ে এখনই মন্তব্য করাটা আগাম হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশ এই মজুতের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও ইরান বরাবর তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

ইরানের কাছে থাকা ৪০০ কেজির বেশি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাগ্য নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। গত বছরের ১০ জুন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার পরিদর্শকরা শেষবার এই মজুত দেখেছিলেন। এর পরপরই ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঘটনা ঘটে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী, ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছিল; যা ২০১৫ সালের (বর্তমানে অকার্যকর) পরমাণু চুক্তিতে অনুমোদিত ৩.৬৭ শতাংশ সীমার চেয়ে অনেক বেশি এবং পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের খুব কাছাকাছি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানে ‌‌‘‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’’ কিংবা ‘‘সমৃদ্ধকরণ’’ পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন। এই বিষয়ে তাখত-রাভানচি বিবিসিকে বলেছেন, ‘‘শূন্য সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি এখন আর কোনও ইস্যু নয় এবং ইরানের পক্ষ থেকে এটি আর আলোচনার টেবিলেও নেই।’’

এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ