সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৯ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
‎শহীদ নাসরুল্লাহ বদরের পরিবারের পাশে পেরিয়া ইউনিয়ন উলামা পরিষদ চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য নতুন ৪ পাঠ্যবইয়ের অনুমোদন দিল সরকার  সৌদি আরবে অভিযান: ৮ হাজার প্রবাসীকে ফেরত, গ্রেপ্তার ১৩ হাজারের বেশি  বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ঘনীভূত, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের শঙ্কায় ভারতের উপকূলে সতর্কতা  প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরসঙ্গী হচ্ছেন হেফাজত নেতা মাওলানা ইসলামাবাদী মসজিদে নববীতে রওজা জিয়ারত: প্রবেশের আদব, সালাম ও দোয়ার পদ্ধতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে আগামী নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাম উপসর্গে প্রাণ গেল ৫ শিশুর  ওযু ছাড়া ছোট শিশুদের কুরআন স্পর্শে বাধা নেই, কী বলছে ফিকহ? ১ নভেম্বর খুলছে সেন্টমার্টিন, পর্যটক ভ্রমণে বাড়ছে আগ্রহ

মসজিদুল আকসার যে তথ্য আপনাকে অবাক করবে!


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

|| মুফতি আরিফুল ইসলাম ||

ফিলিস্তিন সুন্দর সুশোভিত শহরে অবস্থিত মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ আল-আকসা। মুসলিম জাতির প্রথম কিবলা ও মুসলমানদের প্রাণস্পন্দন। সৌদি আরবের মক্কার মসজিদুল হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববীর পরই, মুসলমানদের কাছে পবিত্র স্থান জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ।

শাব্দিক অর্থ :

বাইতুল মুকাদ্দাস অর্থ পবিত্র ঘর। মসজিদ আল-আকসা অর্থ দূরবর্তী মসজিদ। মসজিদুল হারামের অবস্থান থেকে দূরে অবস্থিত হওয়ায় বাইতুল মুকাদ্দাসকে কোরআনে দূরতম মসজিদ বলা হয়েছে।

নির্মানের ইতিহাস

আবু জর গিফারি রা. থেকে ব‌র্ণিত একটি হাদিস থেকে জানা যায় বাইতুল মুকাদ্দাস সর্বপ্রথম মানুষ ও নবি আদম আ. নির্মাণ করেছিলেন এবং এটি ইসলামের ইতিহাসের দ্বিতীয় মসজিদ। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী হজরত আদম আ. সর্বপ্রথম বাইতুল্লাহ বা কাবা নির্মাণ করেছিলেন। তারপর তিনি বাইতুল মুকাদ্দাস নির্মাণ করেন। রাসুল সা. কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, এ‌টি বায়তুল্লাহ নির্মা‌ণের কত দিন পর নির্মাণ করা হ‌য়ে‌ছিল? তি‌নি উত্তর দেন, চ‌ল্লিশ বছর পর। (সহিহ বুখারি)

খ্রিস্টপূর্ব ১০০৪ সালে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করেন হজরত সোলায়মান আ.। এরপর বিভিন্ন সময়ই এর সংস্কার করা হয়। দুটি বড় ও ১০টি ছোট গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটিতে প্রকাশ পেয়েছে নির্মাণশৈলীর এক মনোমুগ্ধকর প্রতিচ্ছবি।

এই মসজিদ নির্মাণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মনীষীদের নাম। প্রায় অর্ধ জাহানের শাসক হজরত উমর রা., দ্য গ্রেট সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবিসহ অসংখ্য বীরের নাম।

স্মৃতি বিজড়িত আকসা

ঐতিহাসিক এ স্থানের সঙ্গে জড়িয়ে মুসলমানদের নানা স্মৃতি। এখানেই শুয়ে আছেন হজরত ইবরাহিম এবং মুসা (আ.) সহ অসংখ্য নবী ও রাসুল। এখানেই মেরাজের রাতে রাসুল (সা.) সব নবী-রাসুল এবং ফেরেস্তাদের নিয়ে নামাজ পড়েছিলেন। সেই জামাতের ইমাম ছিলেন মহানবী হজরত মোহাম্মদ সা. নিজেই। এখান থেকেই হজরত মোহাম্মদ (সা. বোরাকে করে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার উদ্দেশে যাত্রা করছিলেন।

নামাজ আদায়ের ফজীলত

এই মসজিদে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলে একজনের আমলনামায় ৫০০ রাকাত নামাজের সমপরিমাণ সওয়াব লিখা হয়। পবিত্র কোরআনের প্রায় ৭০ জায়গায় উচ্চারিত হয়েছে এ মসজিদের কথা।

দলিল : ১ হজরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মসজিদুল হারামে একটি নামাজ একলাখ নামাজের সমতুল্য এবং আমার মসজিদে একটি নামাজ এক হাজার নামাজের সমতুল্য এবং মসজিদুল আকসায় একটি নামাজ পাঁচশত নামাজের সমতুল্য। (ইবনে খুজাইমা ২৬৮)

দলিল : ২ হাদিসের অপর এক বর্ণনায় এসেছে, ‘মসজিদুল আকসায় নামাজ আদায় জীবনের সব গুনাহ মাফের মাধ্যম।’ (ইবনু মাজাহ ১৪০৮, আত-তারগিব ১৭৭৮)

চলবে...

লেখক : ইমাম ও খতীব


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ