রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৯ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২৪ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
একাধিক এলএনজি-এলপিজি জাহাজ আসছে চট্টগ্রাম বন্দরে বাংলাদেশে বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করতে চায় রিয়াদ এয়ার কুরআনের ওপর পা রেখে অবমাননা, দুই নারী গ্রেফতার জনপ্রিয় ছড়াকার মানসুর মুজাম্মিল আর নেই ‘জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর’ সপ্রাণ ভাষা আরবি: শেখার কিছু জীবন্ত কৌশল এমন সশস্ত্র বাহিনী চাই, বহিঃশক্তি যাদের সমীহ করবে: প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ‍দিলো ইরান রাজনীতিবিদদের ঘরে ঘরে গিয়ে হামের টিকার তথ্য দেয়ার আহ্বান, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর ইরানে এখনও ইসরায়েলি অভিযান শেষ হয়নি: ভিডিওবার্তায় নেতানিয়াহু

সপ্রাণ ভাষা আরবি: শেখার কিছু জীবন্ত কৌশল

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ফাইল ছবি

|| আবু সাঈদ ||

‘ডিম আগে না মুরগি আগে’ এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। তর্কের সুযোগও আছে। তবে ভাষা যে গ্রামারের আগে এটি তর্কাতীত বিষয়। অস্তিত্বের ক্ষেত্রেও যেমন ভাষার অস্তিত্ব গ্রামারের আগে, তেমনি শেখার ক্ষেত্রেও ভাষা আগে শিক্ষণীয় তারপর গ্রামার। ভাষা শেখার এটাই আদর্শ, যৌক্তিত, বিজ্ঞানসম্মত ও পরীক্ষিত তরতিব বা বিন্যাস। এই বিন্যাস মেনে সেই অনুযায়ীই ভাষা শিখতে হয়। অন্যথায় ভাষা শেখাটা কঠিন ও দুর্লভ্য হয়ে ওঠে।

বলা হয়ে থাকে, النحو في الكلام كالملح في الطعام + ومن ليس عنده الطعام لاينفعه الملح ভাষা হলো খাবারতুল্য। আর গ্রামার সেই খাবারের লবণ। খাবার থাকলে তার সাথে লবণ মিশ্রিত হয়ে স্বাদ বাড়ায় খাবারের। যদি খাবারই না থাকে তাহলে লবণের কী কাজ? তেমনি যদি ভাষার শব্দভা-ার জানা থাকে তাহলে ভুলভাল ভাষাকে শুদ্ধ ও শ্রুতিমধুর করে তুলবে গ্রামার। শব্দের অপ্রতুলতা নিয়ে ভাষা শিখতে চাওয়া কেবলই স্বপ্নবিলাস। তাই প্রথমে গুরুত্বের সাথে ভাষা শিখতে হবে। ভাষার উপর চারটি দক্ষতা হাসিল করতে হবে। কথন, শ্রবণ, লিখন ও পঠন দক্ষতা। এরপরই কেবল গ্রামার ও অলংকার শাস্ত্র কাজে আসতে পারে।

আরবি কুরআন ও সুন্নাহর ভাষা। দ্বীনের উৎসের ভাষা। তৃতীয় আন্তর্জাতিক ভাষা (Third International Lenguage)। বাংলাদেশসহ অনারব যেকোনো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের এবং বিশ্বের সকল মুসলমানের দ্বিতীয় ভাষা (Second Lenguage)। তাই আরবি ভাষা শিক্ষা করা এবং এই ভাষার উপর দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিচে আরবি ভাষা শেখার সহায়ক কিছু উপায় সম্পর্কে আলোকপাত করা হল।

১। যেকোনো ভাষার মূল উপাদান হচ্ছে ভোকাবুলারি বা শব্দভাণ্ডার। কোনো ভাষা শিখতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঐ ভাষার অর্থসহ শব্দ জানা জরুরি। শব্দভাণ্ডার যার যত সমৃদ্ধ, ভাষাটা তার জন্য তত সহজ। অতএব ভাষা শিখার ক্ষেত্রে প্রথম এবং সবচে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে ‘হিফজুল মুফরাদাত’ তথা অর্থসহ আরবি শব্দ মুখস্থ করা। কথোপকথন ও সংলাপের জন্য দৈনন্দিন ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় শব্দগুলো মুখস্থ করতে হবে। কোনো কিতাব বা পাঠ পড়ার আগে সেই অধ্যায়ের নতুন শব্দগুলোর অর্থ প্রথমেই ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে। নিচের ছাত্রদের জন্য সফওয়াতুল মাসাদির, বাকুরাতুল আদব, এসো আরবি শিখি, আল মুকাররাতুল মুফীদা, হাদীকাতুল আরাবিয়া ইত্যাদি কিতাবগুলো প্রয়োজনীয় শব্দের সহজ উৎস।

 ২। নিজেদের চারপাশ ও পরিবেশকে আরবিময় করে তোলা। পারস্পরিক কথাবার্তা ও ভাব বিনিময় আরবি ভাষায় হওয়া।

৩। আরবি ভাষা শেখার জন্য একটি ‘ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব’ হতে পারে। যেখানে অডিও ভিডিওর মাধ্যমেও বিভিন্ন বিষয়ের সংলাপ প্রদর্শন ও শোনানো হবে।

৪। আরবি বলতে হবে ও বলাতে হবে উচ্চ আওয়াজে। আরবি বলার ক্ষেত্রে সংকোচ ও জড়তা কাটানোর চেষ্টা করতে হবে।

৫। নাহুমীর/৭ম শ্রেণি থেকে উপরের দিকের ছাত্রদের ‘আরবি টু বাংলা’ ও ‘বাংলা টু আরবি’ ডিকশনারি সংগ্রহ করতে হবে। ‘আলমুজামুল ওয়াসিত’, ‘আল মুনজিদ’ এজাতীয় অভিধানগুলো ব্যবহারে অভ্যস্ত হতে হবে।

৬। হেদায়াতুন্নাহু/৮ম শ্রেণি থেকে উপরের ছাত্রদের আরবিতে পরীক্ষা দেওয়ার হিম্মত করতে হবে। এর জন্য উস্তাদের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় কলাকৌশল জেনে নিতে হবে।

৭। ساعة أو ساعتان في العربية স্বয়ংক্রিয় ‘এরাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ আওয়ার’ নির্ধারণ করা। প্রতিদিনের জন্য এক বা দুই ঘণ্টাব্যাপী একটি সময় নির্ধারিত থাকবে, যে সময়টায় -যে যেখানেই থাকুক- আরবিতে কথা বলবে। কোনো জরুরি বিষয়ের আরবি জানা না থাকলে বাংলাকেই আরবির আদলে বলবে।من كان متكلما فليتكلم بالعربية وإلا فاليصمت অর্থাৎ ‘কথা বলতে হলে আরবিতেই বলতে হবে। অন্যথায় চুপ থাকতে হবে’ এই ফরমান জারি করে দেওয়া।

৮। আরবি কিতাবাদি (দরসি ও গাইরে দরসি) বেশি বেশি পড়ার চেষ্টা করতে হবে। বাংলা, উর্দু নোট-গাইড পরিহার করতে হবে।

৯। সম্ভব হলে আরবি ভাষায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত স্বল্পমেয়াদি ভাষাকোর্সগুলোতে অংশগ্রহণ করা। এটা আরবি ভাষার শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই উপকারী।

১০। ল্যাঙ্গুয়েজ ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এই দুইয়ের মাঝে সংযোগ ও যথাযথ সমন্বয়ের প্রতি তীক্ষè দৃষ্টি রাখতে হবে।

লেখক: মুহাদ্দিস, মাদরাসা দারুর রাশাদ, মিরপুর-১২, ঢাকা


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ