বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ ।। ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১৬ মহর্‌রম ১৪৪৮


ঢাবিকে মুসলিম বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বে দেখতে চান আমিরে মজলিস


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক-

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস স্মরণ করে এটিকে জ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং মুসলিম বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

বুধবার (১ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পর পূর্ববঙ্গের মানুষের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা থেকেই ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জোরালো হয়। নবাব খাজা সলিমুল্লাহসহ তৎকালীন মুসলিম নেতৃবৃন্দের ঐতিহাসিক ভূমিকা ও নিরলস প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, প্রতিষ্ঠার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান, গবেষণা ও নেতৃত্ব তৈরির এক অনন্য বিদ্যাপীঠে পরিণত হয়। ভাষাবিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ এনামুল হক, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকসহ অসংখ্য কৃতী ব্যক্তিত্ব এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এখান থেকে দেশ ও জাতির জন্য বহু গুণী নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, দুঃখজনকভাবে বিগত সময়ে দলীয়করণ, হল দখল, মতপ্রকাশের সংকোচন এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি সমাজ ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইসলাম ও মুসলিম মূল্যবোধের প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাবও লক্ষ্য করা গেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার স্বকীয়তা, স্বাধীন চিন্তা ও মুক্ত জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করবে এবং বিশ্বদরবারে আরও মর্যাদার সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হবে।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম লক্ষ্য ছিল এ অঞ্চলের মানুষের শিক্ষা ও উন্নয়নের পথ সুগম করা। একই সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সমাজের জ্ঞান, চিন্তা ও নেতৃত্ব বিকাশেও বিশ্ববিদ্যালয়টির ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। ভবিষ্যতে সাধারণ জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাশাপাশি ইসলামী অর্থনীতি, রাজনীতি, দর্শন, সভ্যতা ও সংস্কৃতি নিয়ে উচ্চতর গবেষণা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

আওয়ার ইসলাম/জেডএম


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ