বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ।। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১০ জিলহজ ১৪৪৭


একই দিনে রোজা ও ঈদ পালনের দাবির ভ্রান্তি নিরসনে ১০ দফা ঘোষণাপত্র

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

‘রোজা ও ঈদ বিশ্বব্যাপী একই দিনে পালনের দাবির ভ্রান্তি নিরসন ও শরিয়াহ বিশ্লেষণ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার শনিবার (৯ মে) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে দেশের বিভিন্ন ঘরানার শীর্ষ আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনার থেকে ১০ দফা ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়েছে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশের সভাপতি মুফতী মাহমুদুল হাসান। আর প্রবন্ধ পাঠ করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক।

সেমিনারে যে ১০ দফা ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়, সেই দফাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো-

১. ইসলামী শরীয়তে চান্দ্রমাস শুরুর মানদণ্ড হলো হেলাল দেখা, হেলালের সাক্ষ্য। অন্যথায় মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করা। এ মানদণ্ড বাদ দিয়ে কনজাঙ্কশন/অমাবস্যা থেকে মাস শুরু করা শরীয়ত পরিবর্তন এবং নিজ খেয়াল-খুশি মোতাবেক নতুন শরীয়ত প্রবর্তন করার শামিল। এমনিভাবে হেলাল দেখার পরিবর্তে জ্যোতির্বিজ্ঞান-ভিত্তিক আগাম প্রস্তুতকৃত হিজরী ক্যালেন্ডারের নামে বিভিন্ন লুনার ক্যালেন্ডারকে মানদণ্ড বানানোও স্পষ্ট নাজায়েয ও শরীয়তে হস্তক্ষেপের শামিল।

২. মুসলমানদের ঈদ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর উৎসবের মতো নিছক আনন্দ-উৎসব নয়; বরং ঈদ হচ্ছে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই একে অন্যান্য জাতির উৎসবের আদলে উদ্যাপন করার চিন্তা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও অযৌক্তিক।

৩. একই তারিখে সারা বিশ্বে রোযা ও ঈদ পালনকে জরুরি মনে করা একেবারেই দলীলহীন দাবি এবং কার্যক্ষেত্রে এর বাস্তবায়নও অসম্ভব। নবসৃষ্ট এ মতবাদ কিন্তু Allaaji ity শীৰ্ষক ফিকহী অভিমতের সমার্থক নয়।

৪. সর্বপ্রথম হেলাল দেখাকে একমাত্র ভিত্তি গণ্য করা এবং এটিকে পুরো বিশ্বের জন্য গ্রহণ করাকে ফরয মনে করা দলীলবিহীন এবং উম্মতের ইজমা পরিপন্থি। সাথে সাথে তা বাস্তবিকপক্ষে পুরো বিশ্বের জন্য আমলযোগ্যও নয়। তাই এমন একটি মত দেশ ও জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

৫. মক্কার হেলাল দেখাকে নির্দিষ্ট করে নেওয়া কেবল দলীলহীনই নয়; বরং নবীযুগ, খোলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবা যুগ এবং তাবেঈন ও তাবে তাবেঈনের যুগসহ উম্মতে মুসলিমার নীতি ও কর্মপরম্পরার গোটা ধারারই বিরোধী। নির্ধারিত করে অন্য কোনো শহরকেও ভিত্তি বানানো যায় না। কারণ, নিজ অঞ্চলে হেলাল প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও সে অনুযায়ী আমল না করে অন্য অঞ্চলের হেলালের অপেক্ষা করা সর্বসম্মতিক্রমে শরীয়ত পরিপন্থি।

৬. এটা একেবারেই গলদ কথা যে, ওলামায়ে কেরাম জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিষশাস্ত্রকে এক মনে করার কারণে জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবের বিরোধিতা করেন। এমনটি নয়; বরং তারা শরয়ী প্রমাণাদির কারণেই এ বিষয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবকে ভিত্তি মনে করেন না। স্বয়ং মুসলিম মনীষী জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণও বিশ্বব্যাপী ইবাদত ও আহকামের ক্ষেত্রে একে ভিত্তি মনে করেন না। কারণ তারা মনে করেন, এগুলো একান্তই দ্বীনী বিষয়। এতে আমাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়; বরং শরীয়ত যা বলে তা-ই মেনে নেওয়া আমাদের ঈমানী কর্তব্য।

৭. শরয়ী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অথরিটি নয়। তথাপি শুধু অবগতির জন্য বলা হচ্ছে যে, বড় বড় জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণও পুরো বিশ্বে একই দিনে রোযা-ঈদ পালন করার প্রবক্তা নন।

৮. যে পদ্ধতি এতদঞ্চলে আগে থেকেই চলে আসছে, যে ব্যাপারে দেশের অধিকাংশ ওলামা-মাশায়েখ একমত, সেটার পরিবর্তনের কোনো শরয়ী কার্যকারণ উপস্থিত নেই। তাছাড়া অনুসৃত ধারার ওপর বহাল থাকাতেই রয়েছে মঙ্গল।

৯. একে তো অনুসৃত পদ্ধতিকে বদলানোর কোনো বৈধ কারণ নেই। দ্বিতীয়ত, এর পরিবর্তনের ফলে দেশের মধ্যে ভীষণ বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে। কারণ, দেশের সর্বত্র যেসব ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও তাদের অনুসারীগণ রয়েছেন, তারা দলীলবিহীন কোনো নতুন কিছু কখনোই মেনে নেবেন না।

১০. দেশের কোনো আইন বা সরকারের কোনো সিদ্ধান্তে যদি শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনো আপত্তি না থাকে, তবে তা মেনে চলা মুসলিম নাগরিকদের জন্য অপরিহার্য দায়িত্ব। বাংলাদেশ সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত জাতীয় হেলাল কমিটি রোযা, ঈদসহ সকল চান্দ্রমাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য সরকার কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতীয় কমিটি। তাই এ কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া মুসলিমদের কর্তব্য।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ