নিজ্সব প্রতিবেদক
কওমি ধারার সাতটি ইসলামি দলকে নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সাত দলের ঐক্যের খসড়া চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসছে হেফাজতে ইসলামের লিয়াজোঁ কমিটি। রাজধানীর খিলগাঁওয়ের মাখজানুল উলুম মাদরাসায় সকাল ১০টায় এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে শেষ মুহূর্তে এসে সেই উদ্যোগের সফলতা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ছাড়ার শর্তে আপত্তি জানিয়েছে তিনটি দল। দলগুলো হলো বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি ও খেলাফত মজলিস। এর মধ্যে খেলাফত মজলিস ইতোমধ্যে ১১ দলীয় জোট ছেড়েছে। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে হেফাজতের হস্তক্ষেপ মেনে নিতে রাজি নয় দলটি।
কমিটির আহ্বায়ক হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বে বৈঠকে হেফাজতের আরও দুই নেতা এবং সাতটি দলের প্রত্যেকটি থেকে তিনজন করে প্রতিনিধি অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে ঐক্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পরে হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন।
ঐক্য প্রক্রিয়ায় থাকা সাতটি দল হলো—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট ও নেজামে ইসলাম পার্টি।
সাত দলের ঐক্যের উদ্যোগ শুরু হয় গত ১৬ জুলাই। ওই দিন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় সাত দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। বৈঠক শেষে নেতারা ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান। এক মাসের মধ্যে ঐক্যের রূপরেখা জমা দিতে দলগুলোকে বলা হয়।
এরপর দলগুলো নিজেদের প্রস্তাব জমা দেয়। গত ১৫ আগস্ট রাজধানীর মাখজানুল উলুম মাদরাসায় প্রস্তাবগুলো নিয়ে বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে গত ২৭ সেপ্টেম্বর বাবুনগর মাদ্রাসায় সাত দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে আবার বৈঠক হয়। সেখানে হেফাজতের পক্ষ থেকে ঐক্যের সাংগঠনিক ফর্মুলা উপস্থাপন করা হয়। তবে প্রস্তাবের কয়েকটি শর্ত নিয়ে আপত্তি ওঠায় সেদিনও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি।
হেফাজতের প্রস্তাবিত ফর্মুলার একটি শর্তে বলা হয়েছে, সাত দলের কোনো দল একক সিদ্ধান্তে অন্য কোনো ইসলামি বা অনৈসলামিক দলের সঙ্গে জোট করতে পারবে না। দেশ, জাতি ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে অন্য দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে হলে সাত দলের মজলিসে শুরা ও উপদেষ্টা পরিষদের অনুমতি নিতে হবে।
আরেকটি শর্তে বলা হয়েছে, সাত দলের কোনো নেতা আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদাবিরোধী বা ভ্রান্ত বলে বিবেচিত কোনো দলের সভা-সমাবেশে অংশ নিতে পারবেন না।
দলগুলোর আপত্তির মূল জায়গা এই দুটি শর্ত। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি ও খেলাফত মজলিসের নেতারা মনে করছেন, এসব শর্ত মেনে নিলে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবে। একই সঙ্গে জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক রাখার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়বে। এই দুটি শর্তই মূলত ঐক্য গড়াকে সংশয়ের মধ্যে ফেলেছে।
আইও/