মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ৪ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল বসানো হবে: শিক্ষা সচিব তুরস্ক ভ্রমণে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন দক্ষিণ কোরিয়ার নারী সচ্চরিত্র ও উত্তম গুণাবলী অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ৬টি দোয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার ব্যাপারে কিছু জানে না সরকার’  ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই পক্ষের অবস্থান ঘিরে আজও উত্তেজনা ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি রাজধানীতে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত সমকামী সহিংসতা প্রতিরোধে ৩৭৭ ধারা কার্যকরের দাবি ৬০০ আলেমের ‘নবীজি (সা.)-এর আদর্শ লালন করে বড়দের শ্রদ্ধা, ছোটদের স্নেহ করতে হবে’

হজের কমে যাওয়া কোটাও পূরণ হওয়া নিয়ে শঙ্কা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

বিশেষ প্রতিনিধি

একসময় বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত হজের পুরো কোটা পূরণ করতে কোনো বেগ পেতে হতো না। বরং সৌদি আরবের দেওয়া কোটার বিপরীতে মানুষের আগ্রহ ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের পুরো কোটা পূরণ হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। হজের ব্যয় বৃদ্ধি, মানুষের আর্থিক সক্ষমতায় চাপ, সৌদি আরবে আবাসন ও পরিবহনসহ বিভিন্ন সেবার মূল্যবৃদ্ধি এবং ওমরাহ পালনের প্রবণতা বাড়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নির্ধারিত কোটা পূরণ করতে পারছে না বাংলাদেশ।

এবার সৌদি আরব বাংলাদেশের হজের কোটা কমিয়ে ৭৮ হাজার ৫০০ জন নির্ধারণ করেছে। কিন্তু কমে যাওয়া এই কোটাটিও পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত ২০২৭ সালের হজের জন্য নিবন্ধন করেছেন ৫ হাজার ৫০ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৩১৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৭৩৪ জন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিবন্ধনের শেষ দিন। অর্থাৎ হাতে রয়েছে আর মাত্র ১১ দিন।

নির্ধারিত কোটা পূরণ করতে হলে এ সময়ে আরও ৭৩ হাজার ৪৫০ জনকে নিবন্ধন করতে হবে। সে হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ হাজার ৬৭৭ জনের নিবন্ধন প্রয়োজন। বর্তমান গতি বিবেচনায় শেষ সময়ে এত বিপুলসংখ্যক হজযাত্রীর নিবন্ধন নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার অবশ্য আশা করছেন, শেষ দিকে নিবন্ধনের গতি বাড়বে। তিনি বলেন, যারা প্রাক্-নিবন্ধন করেছেন, তাদের সবাই চূড়ান্ত নিবন্ধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সাধারণত শেষ সময়ে নিবন্ধন বাড়ে। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে এ গতি আরও বাড়তে পারে।

তবে হজের ব্যয় ও দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। ২০২৭ সালের সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা। গত বছরের তুলনায় বিমান ভাড়া কিছুটা কমলেও খাবার, মিনা-আরাফার সেবা এবং অন্যান্য খরচ যুক্ত হওয়ায় সার্বিক ব্যয় কমেনি।

হাবের এক নেতা বলেন, মানুষের আর্থিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবে আবাসন, পরিবহন ও অন্যান্য সেবার ব্যয় বৃদ্ধিও হজ নিবন্ধনে ধীরগতির অন্যতম কারণ। একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা জমা দেওয়ার বিষয়টিও অনেকের জন্য চাপ তৈরি করছে।

এদিকে, হজের পরিবর্তে ওমরাহ পালনের প্রবণতা বৃদ্ধিকেও অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন হাব মহাসচিব। তাঁর দাবি, অনেকে ওমরাহ পালনের মাধ্যমে হজের দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়—এমন ভুল ধারণায় প্রভাবিত হচ্ছেন। তবে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করেন, শুধু ওমরাহর প্রবণতা দিয়ে হজযাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ার পুরো কারণ ব্যাখ্যা করা যায় না; এর পেছনে ব্যয় বৃদ্ধি ও মানুষের আর্থিক সংকটও গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শেষ সময়ে নিবন্ধনের গতি বাড়লে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোটা পূরণ না হলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ হজ কোটার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ জানিয়েছেন, নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই। সৌদি আরবের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিবন্ধন শেষে চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা জানানো, অর্থ প্রেরণ, চিকিৎসা পরীক্ষা, টিকাদান ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ