সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
১৩ মাসে হাফেজ হলো ১০ বছরের নাঈম নিকাব নিয়ে কটূক্তি: ঢাবির সেই শিক্ষিকাকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা আলোর পথের যাত্রী  সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি আলী মিয়াঁ নদভীকে নিয়ে বই লিখে দিল্লি উর্দু একাডেমির পুরস্কার লাভ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হেফাজতের শোক, ক্ষতিপূরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত

সংসদে আসন বৃদ্ধি নারীর মর্যাদার পরিপন্থী: মাওলানা এবিএম জাকারিয়া


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৫০ থেকে ১০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইসলামি দলগুলো বিষয়টিকে নারীর প্রতি অবমাননাকর ও সংবিধান পরিপন্থী বলে মনে করছে। তাদের মতে, নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন নয়, বরং অংশগ্রহণ নিশ্চিত হোক ন্যায্য নির্বাচনের মাধ্যমে। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলছে, এই ব্যবস্থা দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নারীর মর্যাদার পরিপন্থী।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহিলা ও পরিবার কল্যাণ সম্পাদক মাওলানা এবিএম জাকারিয়া আওয়ার ইসলামকে বলেন, বাংলাদেশের সংস্কার কমিশন সংরক্ষিত নারী আসন ৫০ থেকে ১০০ করার যে প্রস্তাব দিয়েছে, তারা তা ঘোরতরভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি বলেন, আমরা এই প্রস্তাবের পক্ষে নই। সংরক্ষিত নারী আসন বৃদ্ধি করা সঙ্গত নয়।

তার মতে, সংবিধানে বলা হয়েছে ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও সাম্য প্রতিষ্ঠার কথা। অথচ বিনা ভোটে নারীদের সংসদে পাঠানোর এই ব্যবস্থাটি সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। তিনি বলেন, এভাবে নির্বাচন ছাড়া সংসদ সদস্য হওয়া নারীর জন্যও অবমাননাকর, রাষ্ট্রের জন্যও ক্ষতিকর। আমরা চাই ৩০০ আসনে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) সিস্টেমে ভোট হোক, যেখানে মানুষ দলের মার্কায় ভোট দেবে, ব্যক্তি নয়। সেই ভিত্তিতে দল প্রতিনিধি পাঠাবে—পুরুষ বা নারী, সেটি তারা নির্ধারণ করবে।

ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, আমরা শুধু সংরক্ষিত আসন বৃদ্ধি নয়, বরং সংরক্ষিত কোনো আসনই চাই না। সরাসরি নির্বাচিত না হয়ে সংসদে যাওয়া নারীর সম্মানজনক হয় না। বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যদের অধিকাংশকেই দলীয় আনুগত্যের বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেখা যায়নি।

নারী সংস্কার কমিশন সম্পর্কেও তিনি প্রশ্ন তোলেন। বলেন, এই কমিশন বিতর্কিত। সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার নারীদের প্রতিনিধিত্ব এতে নেই। বরং অনেক ক্ষেত্রে তাদের বিরোধিতাও দেখা যায়।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে যদি সংরক্ষিত নারী আসন বাড়ানো হয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজপথে কর্মসূচি দেবে। 

এদিকে জামায়াতে ইসলামী বাদে অন্যান্য ইসলামি দলগুলোও নারী আসন বাড়ানোর প্রস্তাবের কড়া বিরোধিতা করছেন। তারা বলছেন, এটা জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী। জুলাই বিপ্লবের মূল স্পিরিট ছিল কোটাবিরোধী আন্দোলন। অথচ আজ সেই কোটা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার পাঁয়তারা চলছে। সংস্কার কমিশন এই প্রক্রিয়া থেকে পিছু না হটলে ইসলামি দলগুলো এই ইস্যুতে কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এসএকে/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ