আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: প্রখ্যাত তাবেয়ি ও নারী মুহাদ্দিস উম্মুস সহবা মুয়াজা বিনতে আবদুল্লাহ আদাবিয়্যাহ (রহ.) হিজরি ১৩ সনের আগে জন্মগ্রহণ এবং ৮৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর এই ৭০ বছরের জীবন জ্ঞান সাধনা, ইসলামের জন্য আত্মত্যাগ ও আল্লাহ প্রেমের মহিমায় উদ্ভাসিত। তিনি দীর্ঘ জীবন পর্যন্ত সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং একাধিক সাহাবি থেকে হাদিস বর্ণনা করেন। যার মধ্যে আলী ইবনে আবি তালিব, আয়েশা সিদ্দিকা ও হিশাম ইবনে আমের আনসারি (রা.) অন্যতম।
সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমসহ হাদিস শাস্ত্রের বিশুদ্ধ ছয় গ্রন্থের একাধিক গ্রন্থে তাঁর হাদিস স্থান পেয়েছে। তৎকালীন যুগের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসদের মধ্যে আবু কিলাবা জারমি, ইয়াজিদ আর-রিশক, আসেম আ-আহওয়াল, আইয়ুব, ওমর ইবনু জার, ইসহাক ইবনে সুওয়াইদ (রহ.) প্রমুখ তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। আল্লামা ইবনে হিব্বান ও ইবনু মুয়িন (রহ.) তার ‘সিকাহ’ বা গ্রহণযোগ্য হওয়ার সাক্ষ্য দিয়েছেন। ইলমে হাদিসের পাশাপাশি তিনি ইলমুল ফিকহেও (ইসলামী আইনশাস্ত্র) পারদর্শী ছিলেন।
মুয়াজা বিনতে আবদুল্লাহ (রা.) যেমন জ্ঞানে-গুণে বড় ছিলেন, তেমনি আধ্যাত্মিক সাধনায়ও অগ্রগামী ছিলেন। তিনি রাত জেগে ইবাদত করতেন। তিনি বলতেন, আমি সেই চোখের কথা ভেবে আশ্চর্য হই, যা ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। অথচ সে জানে কবরের অন্ধকারে তাকে দীর্ঘকাল অতিক্রম করতে হবে। আল্লাহর সিদ্ধান্তে তাঁর সন্তুষ্টি ও তাঁর প্রতি আস্থা বিশ্বাসের জায়গাতেও মুয়াজা বিনতে আবদুল্লাহ ছিলেন অতুলনীয় একজন নারী। কোনো এক যুদ্ধে স্বামী ও সন্তানরা শহীদ হলে নারীরা তাঁকে সান্ত্বনা দিতে উপস্থিত হয়।
তিনি তাদের বলেন, ‘আপনারা যদি আমাকে সুসংবাদ জানাতে আসেন তাহলে আপনাদেরও অভিনন্দন। আর যদি ভিন্ন উদ্দেশ্যে আসেন তবে আপনারা ফিরে যান। ’ তাই বলে স্বামী-সন্তানের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না। তিনি বলতেন, ‘আল্লাহর শপথ! আমি বেঁচে থাকতে চাই যেন আমি আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারি। যেন তিনি জান্নাতে আমার, আমার সন্তান ও সন্তানের বাবাকে একত্র করে দেন। ’ তাঁর সেবিকা বলেন, তিনি রাত জেগে ইবাদত করতেন। যখন তাঁর ঘুম আসত তিনি ঘরে পায়চারি করতেন। তিনি বলতেন, হে আমার মন! ঘুম তোমার সামনে অপেক্ষা করছে। যদি তুমি যাও, তবে তুমি কবরে দীর্ঘকাল আনন্দে ও আক্ষেপের সঙ্গে থাকবে। এভাবেই সকাল হয়ে যেত।
মুয়াজা বিনতে আবদু