শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


কোরআন মাজিদ মুখস্থ করার প্রয়োজনীয়তা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আবদুল আউওয়াল: ‘মুখস্থ বিদ্যা ভয়ানক’বা ‘মুখস্থ করার চেয়ে বুঝে পড়া অনেক ভালো’ কথাগুলো সর্ববিষয়ে সর্বজনে প্রযোজ্য নয়। বিশেষ করে কোরআনের বেলায় কথাগুলো অগ্রাহ্য। আল-কোরআন মানব রচিত কোনো গ্রন্থ নয়; ফলে তাকে সাধারণ পুস্তকের সাথে তুলনা করাও অবান্তর।

কোরাআন মানব হৃদয় থেকে যাবতীয় অজ্ঞতা ও গোমরাহির ব্যধি দূর করে তাকে আরোগ্য করে তোলে। পাঠকারীর ওপর খোদার অফুরন্ত রহমতের অমিয়ধারা বর্ষণ করে। (সুরা ইসরা:৮২) তাই এটি অনন্য গ্রন্থ। তার সঙ্গে কোনো গ্রন্থের তুলনা বর্জিত।

আজকাল কোরআনের হাফেজদের নিয়ে কিছু মানুষ এমন উদ্ভট কথাবার্তা বলছেন যা দ্বারা সাধারণ মুসলমান বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তাদের যুক্তি- এই তথ্য-প্রযুক্তির যুগে গুগল, ইন্টারনেটে কোরআন সংরক্ষিত আছে। কোরআনের কোনো রেফারেন্সের জন্য তা মুখস্থ করার দরকার নেই। সাথে একটি স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই কোরাআনের যাবতীয় বিষয় অনলাইনে পড়া যাবে, গবেষণা করা যাবে।

সুতরাং এ যুগে বাচ্চাদের কোরআন মুখস্থ করানো অযৌক্তিক ও অবৈজ্ঞানিক। তাই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া দরকারÑ কোরআন মাজিদ মুখস্থ করার কোনো ফায়দা আছে কি না?

প্রথম কথা, আমরা মুসলমান। আমরা জানি ও বিশ্বাস করি আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাঁর ইবাদাতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। ইবাদাতের মর্মকথা হলো, আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য করা। আর তাঁর আনুগত্য করতে হলে জানতে হবে তাঁর আদেশ-নিষেধ। শুনতে হবে তাঁর কথা। জানার অন্যতম মাধ্যম হলো আল-কোরআন। এই জন্য কোরআন পড়া, বুঝা ও মুখস্থ করা সবগুলোই ইবাদাত।

এমনকি কোরআন অজুসহ স্পর্শ করা, তার প্রতি দৃষ্টি দেয়া ও তেলাওয়াত শ্রবণ করাও ইবাদাত। নবী কারিম সা. বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআনের একটি হরফ পাঠ করবে সে দশটি নেকি লাভ করবে।’ (তিরমিজি:২৯১) সুতরাং কোনো মুসলমান যদি পড়ে- আলিফ-লাম- মীম, তাহলে সে তিনটি হরফ পড়ার কারণে ত্রিশটি নেকি পাবে। পূর্ণ ‘বিসমিল্লাহ’তে ১৯টি বর্ণ আছে। কেউ তা পড়লে ১৯০টি নেকি পাবে। সম্পূর্ণ কোরআনে বর্ণ আছে- ৩২৩৬৭১টি (মতান্তরে কমবেশি রয়েছে)।

সুতরাং একবার কোরআন খতম করলে সওয়াব দাঁড়াবে সংখ্যাটির সাথে দশ গুণন দিলে যা হবে তার সমপরিমাণ। একজন কোরআনের হাফেজ পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করতে কতবার একেকটি বর্ণ পড়ছেন তার কোনো হিসাব কারো কাছে আছে কি? তিনি কী পরিমাণ নেকি অর্জন করেছেন তাও কারো জানা নেই। সুতরাং মুসলমানদের কোরআন মুখস্থ করা অনর্থক কাজ নয়। দ্বিতীয় কথা, আল্লাহ তায়ালা বলেন,‘আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণ করব।’ (সুরা হিজর:৯)

পূর্বেকা