মুসা আল হাফিজ
বলা হয়, তথ্য নিজেই কথা বলে। একমত নই। তথ্যরা তখনই কথা বলে, যখন ঐতিহাসিক তাকে মঞ্চে দাঁড় করান। ঐতিহাসিক আপন নির্বাচন ও বিন্যাসে তথ্যদের কাউকে বলার জায়গায় রাখেন, কাউকে চুপ করিয়ে দেন। বিভিন্ন ক্রম ও প্রসঙ্গে তথ্যদের নির্ণয় ও বিবেচনা করে তাদের আমন্ত্রণ করেন। ফলে তার হাতে ইতিহাস হয় ভাঙা টুকরো দিয়ে জোড়া লাগানো এক স্থাপত্য, যার অনেক টুকরো হারিয়ে গেছে বা ফেলে দেয়া হয়েছে। যাকে নির্মাতা রঙ দিয়েছেন আপন মনের ধরন ও গড়নের হাত দিয়ে।
প্রশ্ন হলো, কে কাকে ফেলে দিচ্ছেন বা কোনো বিষয়ের হারিয়ে যাওয়াই প্রত্যাশা করছেন? কে কাকে দিচ্ছেন কোন রঙ?
ধরেন উইলিয়াম উইলসন হান্টারের কথা। ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসের অফিসার। ইংরেজ স্বার্থের দিকে নজর দিয়ে তিনি যখন ফরায়েজী আন্দোলনকে দেখলেন ও দেখালেন, সেখানে তথ্যগুলো এমনভাবে এলো, যা প্রমাণ করতে চায় ফরায়েজী আন্দোলন একটি ষড়যন্ত্র, দেশদ্রোহিতা!
হান্টার লুকাতে পারেননি অভিপ্রায়। তার ভাষ্যে ফরায়েজীরা ‘বিপজ্জনক’ তারা ‘গ্রাম পুড়িয়েছে’, ‘প্রজাদের হত্যা করেছে’ সর্বত্র বিস্তার করেছে ‘ষড়যন্ত্রের জাল’, তাদের প্রত্যেকেই এমন, যারা ‘ব্যক্তিগত স্বার্থকে গোটা সম্প্রদায়ের স্বার্থ বলে বিবেচনা করে থাকে’, তাদের ‘অশুভ প্রভাব ব্যাপক আকার ধারণ করেছে’, তারা ‘বিদ্রোহী’, ‘ওয়াহাবি’। এরা রাষ্ট্রের ভেতরে ‘বিদ্রোহী কলোনি’ গড়ে তুলেছে, এমনকি তাদের আছে ‘অজস্র রাজদ্রোহমূলক সাহিত্য’। হান্টারের বয়ান শোনা যাক : ‘বাংলার মুসলমানরা আবার বিচিত্র ধরন নিয়েছে, গ্রাম পুড়িয়েছে, আমাদের প্রজাদের মেরে ফেলেছে এবং আমাদের সীমান্তের ওপারে মাসের পর মাস ধরে গড়ে ওঠা শত্রু-বসতির লোক নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে বাংলার ভেতর থেকে। বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক মোকদ্দমার বিচার থেকে প্রমাণিত হয় যে, আমাদের প্রদেশগুলোর সর্বত্র বিস্তারিত হয়েছে এক ষড়যন্ত্রের জাল।’
‘গাঙ্গের ব-দ্বীপ এলাকার ধর্মান্ধ মুসলমানরা নিজেদের ওয়াহাবি না বলে ফরায়েজী অর্থাৎ ইসলাম ধর্মের অনাবশ্যকীয় আচারানুষ্ঠানাদি বর্জনকারী হিসেবে পরিচিত করে। কলকাতার পূর্ব দিকের জেলাগুলোতে এদের সংখ্যা বিপুলভাবে বৃদ্ধি পায়।
১৮৪৩ সালে এই সম্প্রদায়টি এতদূর বিপজ্জনক হয়ে ওঠে যে, তাদের সম্পর্কে তদন্তের জন্য সরকারকে বিশেষ তথ্যানুসন্ধান কমিশন নিয়োগ করতে হয়। বাংলার পুলিশপ্রধাà