আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: বুদ্ধিজীবীদের কাছে আর একটি কথা যা নিবেদন করতে চাই তা হল- উলামায়ে কেরামকে কাছ থেকে বোঝার চেষ্টা করুন বুদ্ধিজীবীগণ উলামায়ে কেরামকে কখনও জঙ্গী সন্ত্রাসী, কখনও সাম্প্রদায়িক, কখনও ধর্মান্ধ, কখনও ধর্মব্যবসায়ী, কখনওবা অন্য অনেক ধরনের বুলিবচন দ্বারা বিভূষিত করে থাকেন।
প্রকৃতপক্ষেই উলামায়ে কেরাম জঙ্গী সন্ত্রাসী বা সাম্প্রদায়িক বা ধর্মান্ধ কিংবা ধর্মব্যবসায়ী কি না- এ সম্বন্ধে পূর্বে তিন পর্বে (পর্ব ৮, ৯ ও ১০য়ে) কিছু কথা পেশ করা হয়েছে।
বস্তুত বুদ্ধিজীবীগণ উলামায়ে কেরাম সম্বন্ধে এসব অভিধা একে অন্য থেকে শুনে বা নিছক ধারণা থেকে বা ভিন্ন কোন উদ্দেশ্য সামনে রেখে প্রয়োগ করে থাকেন। যারা না জেনে এরূপ করেন তাদের কাছে নিবেদন করব উলামায়ে কেরামের কাছে এসে বিষয়গুলো যাচাই করে দেখুন। দূরে থেকেই কিছু কথা শুনে শুনে আর কিছু কথা বদ-গোমানী থেকে বলে যাবেন না।
অনুমান করি এবং লক্ষণাদি থেকেও অনেকটা স্পষ্ট যে, কেউ কেউ অসৎ অভিপ্রায়ে মিথ্যা রচনা করেই এগুলো বলে থাকেন। তাদের জন্য দুআ করি এবং তাদেরকে সত্যনিষ্ঠ হওয়ার আহ্বান জানাই। আমরা নিশ্চয়তা দিয়ে বলছি- হে বুদ্ধিজীবীগণ! আপনারা হক্কানী উলামায়ে কেরামকে কাছ থেকে দেখুন, কাছ থেকে তাদের কথা শুনুন, কাছ থেকে তাদেরকে বোঝার চেষ্টা করুন। ইনশা আল্লাহ উলামায়ে কেরাম সম্বন্ধে আপনাদের ধারণা বদলে যাবে। বিচিত্র নয় তাহলে ঘৃণাবোধ শ্রদ্ধাবোধে রূপান্তরিত হয়ে যাবে। হযরত ওমর রা. ও হযরত আমর ইবনুল আস রা.-এর ঘটনা তার প্রমাণ। ঘটনা সামনে উল্লেখ করছি।
বস্তুত ইসলামের আমলসমূহ যেমন দূরের থেকে খারাপ বোধ হয় কাছে এলে ভাল লাগে, তদ্রূপ ইসলামের নেতৃবৃন্দ উলামায়ে কেরামকেও দূরের থেকে খারাপ মনে হয় কাছে এলে ক্রমান্বয়ে ভাল লাগে।
ইসলামের আমল তথা জান্নাতী লাইনের আমল দূরের থেকে খারাপ বোধ হয় কাছে এলে ভাল লাগে। এর বিপরীত ইসলাম বিরোধী আমল তথা জাহান্নামী লাইনের আমল দূরের থেকে ভাল লাগে কাছে এলে তা কত খারাপ তা বোঝা যায়- এটা বর্ণিত হয়েছে নিম্নোক্ত হাদীছে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, حُجِبتِ النَّارُ بالشَّهواتِ وحُجِبَتِ الجنَّةُ بالمكَارِهِ. متفق عليه. অর্থাৎ, জান্নাতকে পর্দাবৃত রাখা হয়েছে এমন সব আমল দিয়ে যা (প্রথমদিকে) খারাপ লাগে। আর জাহান্নামকে পর্দাবৃত রাখা হয়েছে এমন সব জিনিস দিয়ে যা (প্রথমদিকে) আকর্ষণীয় বোধ হয়। (বোখারী: হাদীছ নং ৬৪৮৭ ও মুসলিম: হাদীছ নং ২৮২৩