মুহাম্মাদ মুযযাম্মিলুল হক উমায়ের: শায়খুল ইসলাম আল্লামা আহমাদ শফী রাহিমাহুল্লাহু তাআলা৷ অল্প কিছুদিন হলো তিনি আমাদের ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন৷ বড়দের জীবন চরিতে রয়েছে পরবর্তী প্রজন্মদের চলার শক্তি৷ নিজেকে আদর্শবান হিসেবে গড়ে তোলার খোরাক৷ তিনি কতো বিনয়ী ছিলেন, ছোটদের প্রতি তাঁর স্নেহ কতো বেশি ছিলো নিচের ঘটনাটি এর জ্বলন্ত প্রমাণ৷
সম্ভবত ২০০৭ সালের কথা৷ গ্রাম থেকে ঢাকা সাভারে আসার পরের বছর৷ হয়তো কাফিয়া পড়ি৷ সেই বছর আমাদের মাদরাসায় একজন নতুন মুহাদ্দিস নিয়োগ দেয়া হয়৷ উস্তাদে মুহতারাম আল্লামা হিলালুদ্দীন আফতাবী হাফিজাহুল্লাহু৷ বি বাড়ীয়া বাড়ি৷ বড় হুজুর আল্লামা সিরাজুল ইসলাম রাহিমাহুল্লাহু তাআলার বাড়ির মাদরাসা ভাদুগড় জামিয়াতে মুহাদ্দিস ছিলেন৷ অনেক যোগ্যতার অধিকারী৷ মেধাশক্তি অনেক প্রখর৷
তিনি হাটহাজারী মাদরাসার ফাজেল৷ থাকতেন শায়খুল ইসলাম আল্লামা আহমাদ শফী রাহিমাহুল্লাহু তাআলার কামরাতে৷ তিনি অতি যত্ন করে তাঁর প্রিয় ছাত্রকে গড়েছেন৷ ছাত্রাবস্থায়ই খেলাফত দিয়েছেন৷ অনেক প্রতিভাবান, মেধাশক্তির গুণে শায়খুল ইসলাম রাহিমাহুল্লাহু তাআলাই তাঁর প্রিয় ছাত্রকে উপাধি দিয়ে ছিলেন ‘আফতাবী’৷
অর্থাৎ সূর্যের মতো যার প্রখর মেধা৷ শুনেছি হযরত অনেক সময় নিজেই তাঁর প্রিয় ছাত্রকে পাক করে খাওয়াতেন৷ এটি ছিলো হযরতের বিনয়ের নিদর্শন৷ কী পরিমান বিনয় থাকলে নিজ ছাত্রকে এতোটা যত্ন করা যায়- বিষয়টি অনেক ভাবিয়ের৷
আমার উস্তাদে মুহতারাম তখন চট্টগ্রামের কোন এক মাদরাসায় বুখারী শরীফ পড়াতেন৷ সপ্তাহে দুইদিন যেতেন৷ একবার আমাদের মাদরাসার কিছু ছাত্র -উস্তাদ প্রোগ্রাম করেন হাটহাজারীর মাহফিলে যাওয়ার৷ কাফেলার প্রধান নির্ধারন করা হয় আমার উস্তাদে মুহতারামকে৷ যেহেতু তিনি চট্টগ্রামের পরিচিত৷
হাটহাজারীতেও আছে অনেক সুনাম৷ শায়খুল ইসলাম রাহিমাহুল্লাহু তাআলার সাথেও আছে গভির সম্পর্ক৷ ইসলাহী নিসবত৷ বারটা ছিলো জুমাবার৷ আমরা বৃহস্পতিবারে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে পথ ধরি৷ রাস্তায় অনেক সমস্যা হয়েছে৷ সেই সাথে আল্লাহ তাআলার সাহায্যও পেয়েছি অনেক৷ সকাল সকাল আমরা হাটহাজারী মাদরাসায় পৌঁছি৷ কিছু সময় পর আমার উস্তাদে মুহতারমও বুখারী শরীফের দরস দিয়ে আমাদের সাথে শরীক হলেনà