আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী বহুগুণে গুণান্বিত এক ব্যক্তিত্ব। ছাত্রদের কাছে তিনি একজন প্রিয় অধ্যাপক হিসেবে পরিচিত। বক্তৃতার ময়দানেও তার রয়েছে অসাধারণ ভূমিকা। আর লেখালেখির জগতে তো মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরীকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার মতো কিছু নেই।
শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফি রহ.কে নিয়ে তার স্মৃতিকথা নিয়মিত প্রচার হবে আপনাদের প্রিয় নিউজ পোর্টাল আওয়ার ইসলামে। আজ থাকছে প্রথম পর্ব-
আল্লামা আহমদ শফী (রাহ.) তাঁর শিক্ষকতার যামানায় পড়ার চাইতেও বেশি লেখার প্রতি জোর দিতেন। বলতেন- "লেখা-পড়া, লেখা-পড়া"। একবার তাঁর উপস্থিতিতে হাটহাজারী মাদরাসার দারুল হাদীছে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে কথা বলতে গিয়ে আমি বলেছিলাম "আপনারা এখানে পড়ালেখা করতে এসেছেন" আমার কথার পর সাথে সাথে সংশোধনী এনে তিনি বললেন- "আমরাতো আগে লেখাপড়া করেছি এখন তাহলে পড়ালেখা করতে হবে"।
তিনি তাঁর দারসে লেখার প্রতি ছাত্রদের উদ্বুদ্ধ করতেন এবং বলতেন – "العلم صيد و الكتابة قيد" অর্থাৎ স্মৃতিশক্তি থেকে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, আর লিখে রাখলে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। তিনি আরো বলতেন– "মহান আল্লাহ তা'আলা সারা পৃথিবীর স্রষ্টা, আর তাঁর প্রথম সৃষ্টি কলম, সুতরাং তোমাদের জন্য কলম হাতে নেয়া অতীব জরুরি"।
আমরা হযরত (রাহ.)- এর কাছে অনেক কিতাবাদি পড়েছি। আর আমি পড়েছি মেশকাত শরীফ ১ম খন্ড আর দাওরায়ে হাদিস বা তাকমিলের নাসাঈ শরীফ। দারসে বসে লিখতে লিখতে বিরক্ত হয়ে এমন ভান করতাম যেন আমি লিখছি, আসলে আমার সামনে কলম-খাতা কিছুই নেই আর হযরত (রাহ.) শুধু বলেই যেতেন তাঁর কোন বিরক্তিভাব বা ক্লান্তি পরিলক্ষিত হতো না।
আমি তো "থোড়া করে" লিখার ভয়ে অনেক সময় সামনের টেবিলে বসা থেকে বিরত থাকতাম। মাতেন হাদিস পড়তেন আর হযরত বলতেন- "ওয়া! আযিয়া থোড়া গরিয়ারে এক্কানা লেহা পরিবো"। থোড়া মানে- যোহরের নামাজের আযান পর্যন্ত। জানিনা হযরতের "থোড়া" শব্দের মর্ম কি!!।
গাড়ি তৈরি, সফর সঙ্গীরা প্রস্তুত, দুপুরের আহার শেষ, আহার শেষ করে যোহরের নামায আদায় করে হযরত মাহফিলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করবেন; এমন মূহুর্তে কিতাব হাতে দারসের উদ্দেশ্যে দরজা à