বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ।। ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


হাদীস সংরক্ষণের পদ্ধতি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি আব্দুর রহিম: হাদীস অস্বীকারকারীরা বলে, ‘হাদীসগুলো হিজরী সনের তৃতীয় শতাব্দিতে সংগৃহীত হয়েছে। এজন্য এগুলো আসল রূপের উপর অবশিষ্ট আছে বলে বিশ্বাস করা যায় না।’ কিন্তু এই বিভ্রান্তি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ, সর্বপ্রথম দেখা উচিৎ যে, হাদীস সংরক্ষণের প্রতি কিরূপ গুরুত্বারোপ রাসূলে আকরাম রা. এর যুগ থেকে এ পর্যন্ত করা হয়েছে। হাদীস সংরক্ষণের পদ্ধতি শুধু লেখাই নয়; বরং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য মাধ্যমও রয়েছে। গবেষণা থেকে জানা যায় যে, রিসালত যুগে এবং সাহাবায়ে কেরামের জামানায় হাদীস সংরক্ষণের জন্য নিম্নের তিনটি পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে।

প্রথম পদ্ধতি: বর্ণনা মুখস্ত করা
হাদীস সংরক্ষণের প্রথম পদ্ধতি হলো, তা মুখস্ত করা। এই পদ্ধতি সে যুগে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ছিলো। আল্লাহ তা‘য়ালা আরববাসিকে অসাধারণ স্মরণশক্তি দান করেছিলেন। তাঁরা শুধু নিজেদেরই নয়, বরং নিজেদের ঘোড়াগুলোর বংশ পরিক্রমা পর্যন্ত মুখস্ত করে ফেলতো। এক এক জনের হাজার হাজার কাব্য মুখস্ত থাকতো। অনেক সময় কোন একটি বিষয় শুধু একবার শুনে বা দেখে পরিপূর্ণ মুখস্ত করে ফেলতো। ইতিহাসে এর অগণিত দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। তা হতে কিছু নিচে তুলে ধরা হলো।

বুখারী শরীফে হযরত জা’ফর ইবনে আমর আদ-দামরী রা. বর্ণনা করেন, একবার আমি ওবায়দুল্লাহ ইবনে আদি ইবনুল খিয়ারের সাথে হযরত ওয়াহশী রা. এর সাক্ষাতে গেলাম। ওবায়দুল্লাহ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি আমাকে চেনেন? ওয়াহশী রা. বললেন, আমি আপনাকে তো চিনি না। তবে আমার এতটুকু স্মরণ আছে যে, আজ থেকে বহু বছর পূর্বে একদিন আদি ইবনুল খিয়ার নামক এক ব্যক্তির কাছে গিয়েছিলাম। তার ওখানে সেদিন একটি শিশুর জন্ম হয়েছিলো। সে শিশুটিকে নিয়ে চাদর মুড়িয়ে তার দুধ মাতার নিকট নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। শিশুটির পুরো দেহ ঢাকা ছিলো। শুধু পা গুলো দেখেছিলাম। সে শিশুটির পায়ের সাথে আপনার পা দুটোর খুব বেশি মিল রয়েছে।

ভাবনার বিষয় হলো, যে জাতি এতো সাধারণ বিষয়গুলোকে এতটুকু নির্ভরযোগ্যতার সাথে মনে রাখে, তাঁরা রাসূল সা. এর বক্তব্য ও কর্মগুলোকে স্মরণ রাখার প্রতি কতটা গুরুত্বারূপ করবে। অথচ তাঁরা নিজেদের জন্য এগুলোকে মুক্তির পথ মনে করেন। বিশেষভাবে তাদের সামনে যখন রাসূলে আকরাম সা. এর বাণী এসেছিলো।

سنن الترمذي ت شاكر (৫ / ৩৪) عَن عَبدِ الرَّحمَنِ بنِ عَبدِ الله بنِ مَسعُودٍ، يُحَدِّثُ عَن أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى الله عَلَيهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : نَضَّرَ الله امرَأً سَمِعَ مَقَالَتِي فَوَعَاهَا وَحَفِظَهَا وَبَلَّغَهَا،

তাই স্পষ্ট বিষয় হচ্ছে, সাহাবায়েকেরাম বিস্ময়করভাবেই এর উপর গুরুত্বারূপ করেছিলেন।