শাহীদুর রহমান কাসেমী।।
আল্লামা জুবায়ের আহমদ আনসারীরহ.। একটি নাম। একটি চেতনা। একটি ইতিহাস। এ দেশের শত শত আলেম-উলামা ও ওয়ায়েজদের প্রেরণার উৎস,আলোর বাতিঘর। ইসলামের শাশ্বত-অনুপম সৌন্দর্য ও দ্বীনের মৌলিক আদর্শ প্রাঞ্জল ও সহজবোধ্য ভাষায় তুলে ধরার মাধ্যমে এদেশের লাখো-কোটি তৌহিদী জনতা ও আলেম-উলামার কাছে তিনি দীর্ঘকাল স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে থাকবেন।তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল জ্যোতির্ময়। যে জ্যোতি দিয়ে তিনি এ দেশের মুসলমানদেরকে আলোর পথ দেখিয়েছেন।সুমিষ্ট ভাষায় প্রভুর কথা ও নবীজীর বাণী প্রচার-প্রসার করেছেন। উম্মাহর বিভোর চিন্তায় হেদায়াতের মশাল নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন দিক্বিদিক।
মুসলমানদের ঈমান-আক্বায়েদ,আমলী সংশোধন,আত্মিক পরিশুদ্ধি ও দ্বীনের প্রচার-প্রসারের লক্ষ্যে তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জ ও পাড়া-মহল্লায় চষে বেড়াতেন।সকালে বাড়ি থেকে রওয়ানা দিয়ে পায়ে হেঁটে সন্ধ্যাবেলা ওয়াজ-মাহফিলে গিয়ে পৌঁছার শতশত নজির একমাত্র আনসারী সাহেবের জীবনেই ঘটেছে। গ্রামীণ জনপদের প্রতিটি মানুষের কাছে প্রাঞ্জল ও সরল আলোচনার জন্য তিনি ছিলেন বেশ জনপ্রিয়।তাঁর মাহফিল মানেই ছিল খোদাভীতির ক্লাস।প্রতিটি মাহফিলেই তিনি প্রভুর ভয়ে স্বজনহারা মানুষের ন্যায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর মত ডুকরে ডুকরে কাঁদতেন।
বৃহত্তর সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রতিটি অঞ্চলে রয়েছে হুজুরের অসংখ্য ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষী। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রতিটি অঞ্চলের ষোলআনা নারী-পুরুষ হুজুরের মুরিদ,ভক্ত অথবা শুভাকাঙ্ক্ষী। ক্ষণজন্মা মহান এই আল্লাহর ওলী মাওলানা জুবায়ের আহমদ আনসারী রহ. এর পদচারণা পড়েনি এমন এলাকা বৃহত্তর সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে খুব কমই আছে। হুজুরের প্রতিটি মাহফিলে এলাকার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উৎসুক হয়ে ভিড় জমাতেন। এমন নজির এ যামানার আর কোন পীর-বুযুর্গ বা জ্ঞানী-গুণির আছে কি না আমার জানা নেই।
স্বর্ণপ্রসবিনী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যে ক'জন ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ জন্ম দিয়েছেন, তাদের একজন আল্লামা জুবায়ের আহমদ আনসারী রহ.। চতুর্মুখী প্রতিভার এই জ্ঞানপুরুষ ১৯৬২ সালের ৫ ই জুলাই নাসিরনগর উপজেলার অালীয়ারা গ্রামের পিতা হাজী হাবিবুর রহমান ও রত্নগর্ভা মাতা জাহানারা বেগমের কোল আলোকিত করà§