মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন।।
লেখক বলে নয়- সময়কে জানতে হলে শুধু পক্ষের নয়, বিপক্ষকেও পড়তে হবে। বিশ্বাসের বিচারে যদি বলি তাহলে তো এই তালিকা অনেক দীর্ঘ। একজনের কথা বলি- হুমায়ুন আজাদ। মেধা ছিল, লেখার হাত ছিল। তবে চিন্তার আভিজাত্য এবং মানবিক ভদ্রতা ছিল না এইটুকু। তার ‘ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না’ বাংলা ভাষায় কিশোর সাহিত্যে হয়তো সর্বশ্রেষ্ঠ। তার সাক্ষাৎকারটির সুনাম শুনে সংগ্রহ করেছি। আমাদের ঢাকার সাহিত্যাঙ্গনের সবাই জানেন- ছফার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল বরাবর সাপে নেউলে। তার ভাষায়- আমি এ সময়ের চারজন প্রধান বাঙালির সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম; আরেক জনের সাক্ষাৎকার নেওয়ার ইচ্ছেও ছিল। তার সে প্রধান চার বাঙালি হলেন- তার ভাষায়- আবদুর রাজ্জাক : এই সময়ের জ্ঞানতাপস; আহমদ শরীফ : পণ্ডিত ও বয়স্ক বিদ্রোহী; শওকত ওসমান : কথাসাহিত্যের পথিকৃত এবং শামসুর রাহমান : নিঃসঙ্গ শেরপা। আর যার সাক্ষাৎকার নিতে পারেননি, তিনি হলেন শিল্পী কামরুল হাসান।
আামর কাছে মনে হয়েছে এই সাক্ষাৎকার-গ্রন্থটি আমার পড়া দরকার। প্রথমত এই কারণে- এদেশের কথিত একশ্রেণির বুদ্ধিজীবীর কথাবার্তায় মনে হয়- বাঙালিবাদ একটি স্বতন্ত্র বিশ্বাস-ধর্ম বিশ্বাসের মতোই। পড়ে দেখি, ওই বাঙালিবাদের সেরাদের মত চিন্তা দর্শন ও আদর্শ কী! পড়লাম। পড়ে মনে হয়েছে- হুমায়ুন আজাদ সাক্ষাৎকার শাস্ত্রটাকে সত্যিই একটা নতুন আদল দিয়েছেন।
আমরাও চাইলে আমাদের ধারার মনীষীদেরকে ওইভাবে তুলে ধরতে পারি। অবশ্য তার জন্যে প্রয়োজন হবে- এক. সাক্ষাৎকার দাতা ও গ্রহীতার জ্ঞান চিন্তা ও আদর্শের- সমান সমান না হলেও- কাছাকাছি অবস্থান! দুই. পরস্পরের দীর্ঘ পরিচয় ও সান্নিধ্য। দ্বিতীয়ত তার গদ্য শক্তি। শব্দচয়ন, বাক্যনির্মাণ, যতি চিহ্ন এমন কি বিখ্যাত শব্দের বানানেও তার চোখে পড়ার মতো নিজস্বতা আছে। এই বিচারেও বইটি আমাকে উপকার করেছে। আমার মনে হয়, আমরা যারা সবিশেষ মিডিয়ায় কাজ করি- লেখালেখি, সংবাদপত্র কিংবা ওয়াজ-বক্তৃতা- তাদের মধ্যে পাঠ বৈচিত্র্য থাকা চাই। মানিত ইমাম, মনীষী ও প্রিয়জনদের পাশাপাশি মেধাবী শক্তিমান প্রতিপক্ষকেও পড়া উচিত। নইলে আমরা তুলনা করে কথা বলতে পারব না।
সাক্ষাৎকারটি পড়ার পর আমার কাছে মনে হয়েছে, হুমায়ুন সৎ তো ননই, তিনি খুব সাহসীও নন। আহমদ ছফা তো অনেক ঊর্ধ্বের- নির্মলেন্দু গুণের মতো সাহসও তার নেই। যারা এই সাক্ষাৎকার পড়েছেন এবং পড়েছেন গুণের ‘আমার কণ্ঠস্বর’- তাদের কাছে এর ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজ