আওয়ার ইসলাম: বিশ্বে মুসলিমদের মধ্যেও অনেকে নোবেল জিতেছেন। তারমধ্যে বাংলাভাষাভাষী মোট চারজন। আর মুসলিম ১২জন। নোবেল পুরস্কার হল একটি আন্তর্জাতিক বার্ষিক পুরস্কার।
১৯০১ সালে প্রথম এই পুরস্কার পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা, শরীরবিদ্যা ও চিকিৎসা, সাহিত্য এবং শান্তিতে প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে, ১৯৬৯ সালে অর্থনীতিতেও এই নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
২০১৭ সাল পর্যন্ত, বার জন মুসলমানকে এই নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে এবং এদের অর্ধেকই ২১শ শতাব্দীতে পেয়েছে। এই দশ জনের মধ্যে ছয় জনকে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
১। আনোয়ার আল সাদাত (২৫ ডিসেম্বর ১৯১৮ – ৬ অক্টোবর ১৯৮১)
মিশর মিশরের রাজনীতিবীদ।তিনি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রথম মুসলমান। শান্তিতে নোবেল পেয়েছিলেন তিনি। মিশরের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি। ১৯৭০ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে ১৯৮১ সালের ৬ অক্টোবর নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বপালন করেছেন।
সাদাত ছিলেন ১৯৫২ সালের বিপ্লবে বাদশাহ ফারুককে ক্ষমতাচ্যুতকারী স্বাধীন অফিসারদের মধ্যে অন্যতম সিনিয়র অফিসার এবং জামাল আবদেল নাসেরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। নাসেরের অধীনে সাদাত দুই দফায় ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বপালন করেছেন এবং ১৯৭০ সালে নাসেরের উত্তরসুরি হিসেবে রাষ্ট্রপতি হন।
১১ বছরের রাষ্ট্রপতিত্বকালে আনোয়ার সাদাত মিশরে অনেক পরিবর্তন আনেন। নাসেরবাদের অনেক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ধারাকে বিদায় দেয়া হয়, বহুদলীয় প্রথার প্রবর্তন করা হয় এবং ইনফিতাহ নামক অর্থনৈতিক নীতি চালু করা হয়। ১৯৭৩ সালে মিশরের সিনাই উপদ্বীপ উদ্ধারের জন্য ইয়ম কিপুর যুদ্ধে তিনি মিশরের নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৭ সালে ছয়দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল তা দখল করে নিয়েছিল।
২। ইয়াসির আরাফাত (২৪ আগষ্ট ১৯২৯ – ১১ নভেম্বর ২০০৪)
ফিলিস্তিনি রাজনীতিবিদ তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলমান, যাকে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
৩। শিরিন এবাদি (জন্ম ২১ জুন ১৯৪৭)
ইরানী মানবাধিকার কর্মী। তিনি প্রথম মুসলিম মহিলা যিনি শান্তিতে নোবেল লাভ করেন। এছাড়াও তিনি প্রথম ও একমাত্র ইরানী যাকে শান্তির জন্য এই সম্মান প্রদান করা।
৪। মোহাম্মেদ এল বারাদেই (জন্ম ১৭ জুন ১৯৪২-২০০৫)
মিশরীয় রাজনীতিবিদ তিনি দ্বিতীয় মিশরীয়, যাকে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
৫। মুহাম্মদ ইউনুস (জন্ম ২৮ জুন ১৯৪০-)
বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা (২০০৬)।
তিনি একমাত্র ও প্রথম বাঙ্গালী মুসলিম, যাকে শান্তির জন্য এই সম্মান প্রদান করা হয়। তিনি একমাত্র ও প্রথম বাংলাদেশী এবং তৃতীয় নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বাঙ্গালী।
৬। তাওয়াক্কোল কারমান (জন্ম ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯-)
ইয়েমেনের মানবাধিকার রক্ষাকর্মী। একজন বিশিষ্ট আরবীয় বসন্তের অগ্রদুত নেত্রী (২০১১)। তিনি প্রথম আরব মহিলা এবং একমাত্র প্রথম ইয়েমেনি, যাকে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
৭। মালালা ইউসুফজাই (জন্ম ১২ জুলাই ১৯৯৭)
পাকিস্তানী মানবাধিকার কর্মী। যিনি নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করছেন। ১৭ বছর বয়সে নোবেল বিজয়ী মালালা বর্তমানে সর্বকনিষ্ঠ নোবেল বিজয়ী।
৮। নাগিব মাহফুজ (১১ ডিসেম্বর ১৯১১–৩০ আগষ্ট ২০০৬)
মিশরীয় লেখক, আধুনিক আরবি সাহিত্যে তার অবদানের জন্য সুপরিচিত তিনি প্রথম মুসলিম লেখক, যাকে সাহিত্যের জন্য নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
৯। ওরহান পামুক (জন্ম ৭ জুন ১৯৫২)
তুরস্ক তুর্কি লেখক, যিনি তার মাই নেইম ইস রেড নামক বইয়ের জন্য বিখ্যাত। তিনি একমাত্র তুর্কি লেখক, যাকে সাহিত্যের জন্য নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
১০। আবদুস সালাম (২৯ জানুয়ারি ১৯২৬–২১ নভেম্বর ১৯৯৬)
পাকিস্তান পদার্থবিজ্ঞান। তিনিই প্রথম পাকিস্তানি ব্যক্তি যে এই পুরস্কার লাভ করেন।তিনি পাকিস্তানের একমাত্র ব্যক্তি যিনি পর্দাথবিজ্ঞানে নোবেল অর্জন করেন।
তিনি বিশ্বব্যাপী আহমদীয়া মুসলিম জামা'ত সদস্য, ১৯৭৪ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকার সেদেশে আহমদীয়া মুসলিম সম্প্রদায়কে অমুসলিম বলে ঘোষনা দেয়।
১১। আহমেদ হাসান (২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৬-২ আগস্ট ২০১৬)।
মিশরীয় বিজ্ঞানী ‘ফেমটোসেকেন্ড স্পেকট্রোস্কোপি ব্যবহার করে রাসায়নিক প্রতিক্রিয়াগুলির রূপান্তর অবস্থা’ সংক্রান্ত গবেষনার জন্য ১৯৯৯ সালে তিনি রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
তিনি প্রথম মুসলিম রসায়নবিদ এবং দ্বিতীয় মুসলিম বিজ্ঞানী হিসেবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
১২। আজিজ সানজার (জন্ম সেপ্টেম্বর ৮, ১৯৪৬)
তুরস্ক তুর্কি বিজ্ঞানী ক্ষতিগ্রস্থ ডিএনএ পুর্নৎপাদন সংক্রান্ত গবেষনার জন্য ২০১৫ সালে তিনি রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি প্রথম তুর্কী রসায়নবিদ এবং দ্বিতীয় তুর্কি এবং তৃতীয় মুসলিম বিজ্ঞানী হিসেবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। সূত্র: উইকিপিডিয়া
-আবদুল্লাহ তামিম