আওয়ার ইসলাম: ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয়ার পর (৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ) পুর্বঘোষণা অনুসারে ঐ উপত্যকার জন্য প্রথম ধরণের পদক্ষেপ নিল দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার। এর মাধ্যমে সূচনা হল দিল্লি-কাটরা সেমি হাইস্পিড ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’ ট্রেনের।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে সবুজ পতাকা দেখিয়ে এটি উদ্বোধন করেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
দিল্লি থেকে কাটরা স্টেশনগামী ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’ উদ্বোধনে গিয়ে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেন, এই ট্রেন জম্মুর জন্য ‘বড় উপহার’।
পাশপাশি তিনি দাবি করেন, আগামী ১০ বছরে জম্মু ও কাশ্মীর দেশের সবচেয়ে উন্নততর এলাকা হিসাবে উঠে আসতে চলেছে। তিনি বলেন, ‘বন্দে এক্সপ্রেস উপত্যকার পর্যটনকে উন্নত করবে।’
রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের আশ্বাস, ২০২২ সালের ১৫ আগস্টের মধ্যেই রেলপথে যুক্ত হবে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী।
আনুষ্ঠানিক সূচনা হলেও বাণিজ্যিকভাবে প্রথম ট্রেন চলবে ৫ অক্টোবর থেকে। আইআরসিটিসি-তে শুরু হয়ে গিয়েছে টিকিট বুকিং।
পরীক্ষামূলক যাত্রায় বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের গতি ছিল প্রতি ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার। তবে যাত্রী নিয়ে এই ট্রেন ছুটবে ১৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার গতিতে। দিল্লি থেকে কাটরা যেতে সময় লাগে মোটামুটি ১২ ঘণ্টা।
বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে মাত্র ৮ ঘণ্টাতেই গন্তব্যে পৌঁছে যাবেন যাত্রীরা। বন্দে ভারত এক্সপ্রেস প্রথম আনা হয় দিল্লি-বারাণসী রুটে। রেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২২ সালের মধ্যে মোট ৪০টি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ট্রেনে রয়েছে ১৬টি কোচ। প্রতিটি কোচেই থাকবে প্রতিবন্ধী সহায়ক টয়লেটের ব্যবস্থা। প্রতিটি কোচেই রাখা হয়েছে পৃথক প্যান্ট্রিকার। রয়েছে সিসিটিভির নজরদারির ব্যবস্থা। এ ছাড়াও দু’টি ড্রাইভার কার, দু’টি এক্সিকিউটিভ চেয়ার কার এবং ১২টি চেয়ার কার কোচ থাকবে।
এই ট্রেনের প্রতিটি কোচে থাকা এলইডি স্ক্রীনে পরবর্তী স্টেশনের নাম আর স্টপেজ সম্পর্কে তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে।
ট্রেনটি প্রতিটি দরজা স্বয়ংক্রিয় (মেট্রো রেলের দরজার মতো) ও ট্রেন ছাড়ার পরে তা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে। ট্রেনের যে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করার জন্য ১৫ থেকে ২০ জন টেকনিক্যাল স্টাফ থাকবেন বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে।
-এটি