আওয়ার ইসলাম: উত্তর প্রদেশ রাজ্যে এনআরসি হয়নি৷ তবে, তলে তলে বাংলাদেশি এবং বিদেশি নাগরিক বিতাড়ণের কাজ শুরু করল রাজ্য সরকার৷ রাজ্যের প্রশাসনিক দফতর থেকে পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে বাংলাদেশি খোঁজা শুরু হয়েছে৷ রাজ্য সরকার কার্যত কৌশলে বাংলাদেশি বিতাড়নের প্রক্রিয়ায় নেমে পড়ল।বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশ সরকারের এই উদ্যোগে রীতিমতো আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে৷
রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, উত্তর প্রদেশ সরকার রাজ্যে বাংলাদেশি এবং অন্য কোন বিদেশি নাগরিকদের আর ঠাঁই দেবে না৷ তাই তারা পুলিশকে দিয়ে বাংলাদেশি শনাক্তকরণ করিয়ে তাদের স্বদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে৷ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশকে এই নির্দেশকে আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এআরসি) মতো করেই বিবেচনা করা হচ্ছে৷ যদিও রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এর সঙ্গে এনআরসি’র কোন সম্পর্ক নেই৷
আজ (মঙ্গলবার) উত্তরপ্রদেশ পুলিশের মহানির্দেশক ওপি সিং বলেন, এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা নজরে এসেছে রাজ্যে অবৈধভাবে বাংলাদেশিরা বাস করছেন। এদের মধ্যে বেশ কিছু নিখোঁজ হয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য বাংলাদেশি এবং এ রাজ্যে বাসরত অন্য বিদেশিদের চিহ্নিত করা ও যাচাই করা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, এর সাথে এনআরসির কোনও যোগসূত্র নেই। বাংলাদেশি ও বিদেশি যারা এখানে অবৈধভাবে বাস করছেন তাদের চিহ্নিত করা হবে এবং তাদের নথি যাচাই করা হবে। তাদের নথিপত্র ভুয়ো প্রমাণিত হলে তাদের বহিষ্কার করা হবে।
উত্তর প্রদেশ পুলিশের প্রাপ্ত আদেশটি অসমে প্রয়োগ হওয়া এনআরসি বিবাদের মাঝে এসেছে। অসমে এনআরসি তালিকা প্রকাশের পরে ১৯ লাখেরও বেশি লোকের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। কিছুদিন আগে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা যোগী আদিত্যনাথ প্রয়োজনে রাজ্যে এনআরসি প্রয়োগের কথা বলেছিলেন।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশকে এমন সরকারী কর্মচারীদের চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে যারা বিদেশীদের ভুয়া নথিপত্র তৈরি করতে সহায়তা করেছে। বাংলাদেশী এবং অন্যান্য বিদেশী নাগরিকদের আঙুলের ছাপ নেয়া হবে। পুলিশ সমস্ত নির্মাণকারী সংস্থাকে সেখানে কর্মরত কর্মচারীর পরিচয়পত্র নিজেদের কাছে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এক পরিসংখ্যানে প্রকাশ, ২০১৫ সাল থেকে ২০১৯ সালের এপর্যন্ত ২০৯ জন বাংলাদেশিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
আরএম/